| এক্সপ্লেইনার | এক্সপ্লেইন

বর্ণবাদী বুলডোজার ইসরাইল থেকে ই ছড়ায় ভারতে এবং বাংলাদেশেও

৭ মে ২০২৬


বর্ণবাদী বুলডোজার ইসরাইল থেকে ই ছড়ায় ভারতে এবং বাংলাদেশেও

সম্প্রতি ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত সোমবার (৪ঠা মে) প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি। ফলাফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হগ মার্কেট বা নিউমার্কেটে দোকানঘরে বুলডোজার চালানো শুরু হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে বুলডোজার চালিয়ে একাধিক দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়। নিউমার্কেটের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। 



বিজেপির জয়ের পর বুলডোজার দিয়ে ভাংচুর চালানোর কাজটি তারা বাংলাদেশ থেকে শিখেছে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র-জনতা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে খেলার মাঠ বা অন্য কিছু করার দাবিতে বুলডোজার নিয়ে হাজির হয়। এর প্রেক্ষিতে সেখানে সেনাবাহিনীর সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাতভর ভাঙচুরের খবরও পাওয়া যায়। ওই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী অ্যাক্টিভিস্টরা বুলডোজার সংক্রান্ত বক্তব্য ছড়াতে থাকে। আরিফ জেবতিক নামক এক আওয়ামী অ্যাক্টিভিস্ট ফেসবুকে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে দেখলাম বুলডোজার নেমে গেছে! ১৯০৫ সালে নাকি গোখলে বলেছিলেন, "What Bengal thinks today, India thinks tomorrow.”’  সেখানে একজন কমেন্ট করেন: “What Bangladesh does today, West Bengal does tomorrow.”


২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার মিছিল থেকে বুলডোজার রাজনীতি শিখেছে ভারতের বিজেপি, এমন বয়ান সঠিক নয়। ভারতের রাজনীতিতে “বুলডোজার জাস্টিস” একটি পরিচিত পরিভাষা, যা বহু বছর ধরেই বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আলোচিত। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২০১৭ সালের পর থেকে বুলডোজারকে “অপরাধ দমন” ও “অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ”-এর নামে বিরোধী মতের মানুষদের বাড়ি ঘর বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলমানের বাড়ি-ঘর, দোকান পাট ভাংচুর করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বুলডোজারের ব্যবহার শুরু করেন। পরবর্তীতে মধ্য প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, রাজস্থান, আসাম প্রভৃতি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই প্রবণতা দেখা যায়।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল “BULLDOZER INJUSTICE IN INDIA” শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেখানে দেখানো হয়, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ভারতের বিজেপিশাসিত আসাম, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ এবং আম আদমি পার্টি শাসিত দিল্লিতে অন্তত ১২৮টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যার অধিকাংশের মালিক ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। সংস্থাটি এসব ঘটনাকে লক্ষ্যভিত্তিক উচ্ছেদ অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে এবং জানায়, এতে অন্তত ৬১৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মোট ৬৩টি উচ্ছেদের ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করে, যার মধ্যে ৬২টি সম্পত্তিই ছিল মুসলিমদের। সংস্থাটি ৬৯টি ভিডিও ও ছবি যাচাই করে অন্তত ৩৩টি উচ্ছেদের ঘটনায় জেসিবি কোম্পানির বুলডোজার ব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে।


২০২২ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলে, ভারতে বিশেষ করে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে “বুলডোজার” ক্রমেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাটি এসব ঘটনাকে “সমষ্টিগত শাস্তি” (collective punishment) ও বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রীয় আচরণ হিসেবে আখ্যা দেয় এবং সতর্ক করে যে, আইনের শাসনের পরিবর্তে “বুলডোজার জাস্টিস” প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।


ভারতে বুলডোজার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এটি বারবার এসেছে। ২০২২ সালে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি , নিউইয়র্ক টাইমস ,২০২৩ সালে টাইম ম্যাগাজিন বুলডোজারকে ভারতে হিন্দুত্ববাদী, অবিচার, ও মুসলিমবিরোধী প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বুলডোজারের ব্যবহার যখন রাজ্যটিতে আলোচনায় এসেছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, বুলডোজার ভয়ের প্রতীক নয়য়, পরিবর্তনের প্রতীক। বিজেপি সমর্থকরা বিজয় মিছিলেও কলকাতায় বুলডোজার নিয়ে উল্লাস করেছে।


ভারতের বিজেপির যে বুলডোজার রাজনীতি, তা ইসরায়েল থেকে অনুপ্রাণিত। ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংসের যে নীতি ব্যবহার করে আসছে, তার আনুষ্ঠানিক নাম ‘হাফরাদা’, যার হিব্রু অর্থ ‘বিচ্ছেদ’ বা ‘বিচ্ছিন্নতা’। ইসরায়েলও ফিলিস্তিনীদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করার জন্য বুলডোজারের ব্যবহার করে আসছে।  গত ৫ মে তারিখেও ইজরায়েল বুলডোজার দিয়ে ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে আগ্রাসন চালায়।  


বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালে সাতক্ষীরাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের অসংখ্য বাড়ি-ঘর ভাংচুর করতে বুলডোজারের ব্যবহার হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে বিরোধী মত দমনে বুলডোজারের ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকার। যদিও বুলডোজার কোনো প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনো হাজির হয়নি। বুলডোজার নিয়ে দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেয়াকে বাংলাদেশের অনুকরণ হিসেবে দেখানোটা সঠিক নয়।




Topics:



কৃষক কার্ড পাওয়া কবীর হোসেন আপাদমস্তক কৃষক; ছড়ানো ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি
১৫ এপ্রিল ২০২৬

কৃষক কার্ড পাওয়া কবীর হোসেন আপাদমস্তক কৃষক; ছড়ানো ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি

১/১১ এর পরিকল্পনা: গবেষণা প্রতিবেদনের সাক্ষ্য
জেনারেল মাসুদ শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ হেলালসহ 
গুলশানে গোপন বৈঠক করেছিলেন
১৩ এপ্রিল ২০২৬

১/১১ এর পরিকল্পনা: গবেষণা প্রতিবেদনের সাক্ষ্য

জেনারেল মাসুদ শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ হেলালসহ গুলশানে গোপন বৈঠক করেছিলেন

মামলা হয়নি, অথচ  সাওদা সুমির মামলা প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের মহিলা বিভাগের
৯ এপ্রিল ২০২৬

মামলা হয়নি, অথচ সাওদা সুমির মামলা প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের মহিলা বিভাগের

গণভোট বাতিল হয়নি, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ
৪ এপ্রিল ২০২৬

গণভোট বাতিল হয়নি, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ

ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে আটক
৮ মার্চ ২০২৬

ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে আটক

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



বর্ণবাদী বুলডোজার ইসরাইল থেকে ই ছড়ায় ভারতে এবং বাংলাদেশেও

এক্সপ্লেইনার

বর্ণবাদী বুলডোজার ইসরাইল থেকে ই ছড়ায় ভারতে এবং বাংলাদেশেও

৭ মে ২০২৬

<p>বর্ণবাদী বুলডোজার ইসরাইল থেকে ই ছড়ায় ভারতে এবং বাংলাদেশেও<br /></p>

সম্প্রতি ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত সোমবার (৪ঠা মে) প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি। ফলাফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হগ মার্কেট বা নিউমার্কেটে দোকানঘরে বুলডোজার চালানো শুরু হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে বুলডোজার চালিয়ে একাধিক দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়। নিউমার্কেটের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। 



বিজেপির জয়ের পর বুলডোজার দিয়ে ভাংচুর চালানোর কাজটি তারা বাংলাদেশ থেকে শিখেছে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র-জনতা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে খেলার মাঠ বা অন্য কিছু করার দাবিতে বুলডোজার নিয়ে হাজির হয়। এর প্রেক্ষিতে সেখানে সেনাবাহিনীর সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাতভর ভাঙচুরের খবরও পাওয়া যায়। ওই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী অ্যাক্টিভিস্টরা বুলডোজার সংক্রান্ত বক্তব্য ছড়াতে থাকে। আরিফ জেবতিক নামক এক আওয়ামী অ্যাক্টিভিস্ট ফেসবুকে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে দেখলাম বুলডোজার নেমে গেছে! ১৯০৫ সালে নাকি গোখলে বলেছিলেন, "What Bengal thinks today, India thinks tomorrow.”’  সেখানে একজন কমেন্ট করেন: “What Bangladesh does today, West Bengal does tomorrow.”


২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার মিছিল থেকে বুলডোজার রাজনীতি শিখেছে ভারতের বিজেপি, এমন বয়ান সঠিক নয়। ভারতের রাজনীতিতে “বুলডোজার জাস্টিস” একটি পরিচিত পরিভাষা, যা বহু বছর ধরেই বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আলোচিত। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২০১৭ সালের পর থেকে বুলডোজারকে “অপরাধ দমন” ও “অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ”-এর নামে বিরোধী মতের মানুষদের বাড়ি ঘর বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলমানের বাড়ি-ঘর, দোকান পাট ভাংচুর করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বুলডোজারের ব্যবহার শুরু করেন। পরবর্তীতে মধ্য প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, রাজস্থান, আসাম প্রভৃতি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই প্রবণতা দেখা যায়।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল “BULLDOZER INJUSTICE IN INDIA” শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেখানে দেখানো হয়, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ভারতের বিজেপিশাসিত আসাম, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ এবং আম আদমি পার্টি শাসিত দিল্লিতে অন্তত ১২৮টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যার অধিকাংশের মালিক ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। সংস্থাটি এসব ঘটনাকে লক্ষ্যভিত্তিক উচ্ছেদ অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে এবং জানায়, এতে অন্তত ৬১৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মোট ৬৩টি উচ্ছেদের ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করে, যার মধ্যে ৬২টি সম্পত্তিই ছিল মুসলিমদের। সংস্থাটি ৬৯টি ভিডিও ও ছবি যাচাই করে অন্তত ৩৩টি উচ্ছেদের ঘটনায় জেসিবি কোম্পানির বুলডোজার ব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে।


২০২২ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলে, ভারতে বিশেষ করে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে “বুলডোজার” ক্রমেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাটি এসব ঘটনাকে “সমষ্টিগত শাস্তি” (collective punishment) ও বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রীয় আচরণ হিসেবে আখ্যা দেয় এবং সতর্ক করে যে, আইনের শাসনের পরিবর্তে “বুলডোজার জাস্টিস” প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।


ভারতে বুলডোজার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এটি বারবার এসেছে। ২০২২ সালে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি , নিউইয়র্ক টাইমস ,২০২৩ সালে টাইম ম্যাগাজিন বুলডোজারকে ভারতে হিন্দুত্ববাদী, অবিচার, ও মুসলিমবিরোধী প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বুলডোজারের ব্যবহার যখন রাজ্যটিতে আলোচনায় এসেছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, বুলডোজার ভয়ের প্রতীক নয়য়, পরিবর্তনের প্রতীক। বিজেপি সমর্থকরা বিজয় মিছিলেও কলকাতায় বুলডোজার নিয়ে উল্লাস করেছে।


ভারতের বিজেপির যে বুলডোজার রাজনীতি, তা ইসরায়েল থেকে অনুপ্রাণিত। ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংসের যে নীতি ব্যবহার করে আসছে, তার আনুষ্ঠানিক নাম ‘হাফরাদা’, যার হিব্রু অর্থ ‘বিচ্ছেদ’ বা ‘বিচ্ছিন্নতা’। ইসরায়েলও ফিলিস্তিনীদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করার জন্য বুলডোজারের ব্যবহার করে আসছে।  গত ৫ মে তারিখেও ইজরায়েল বুলডোজার দিয়ে ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে আগ্রাসন চালায়।  


বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালে সাতক্ষীরাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের অসংখ্য বাড়ি-ঘর ভাংচুর করতে বুলডোজারের ব্যবহার হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে বিরোধী মত দমনে বুলডোজারের ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকার। যদিও বুলডোজার কোনো প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনো হাজির হয়নি। বুলডোজার নিয়ে দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেয়াকে বাংলাদেশের অনুকরণ হিসেবে দেখানোটা সঠিক নয়।