| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
নোয়াখালী সংঘর্ষের ঘটনায় পুরোনো ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি
২০ অক্টোবর ২০২৫
মসজিদের ভেতরে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন—এমন চারটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলো সম্প্রতি নোয়াখালীতে সংঘটিত একটি ঘটনার বলে দাবি করা হচ্ছে।
কিন্তু, প্রচারিত ছবিগুলোর সঙ্গে নোয়াখালীর সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, চারটি ছবির একটি ২০২১ সালের আফগানিস্তানের এবং বাকি তিনটি ২০২০ সালের নারায়ণগঞ্জের ঘটনার।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেমবাজারে জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে যুবদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় মসজিদের ক্ষতি হয় এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। এরই প্রেক্ষিতে এই ছবিগুলো ছড়ানো হয়েছে।
ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই:
১. প্রথম ছবি: এই ছবিটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা ডয়েচে ভেলের ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, ছবিটি উত্তর আফগানিস্তানের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার ঘটনার, যেখানে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছিল।
২. দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ছবি: এই তিনটি ছবি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে দ্যা ডেইলি স্টার (২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর), দৈনিক যুগান্তর (২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর), ও দৈনিক ইত্তেফাক (২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর) এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন নিশ্চিত করে যে ছবিগুলো ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনার।
অর্থাৎ, গতকাল নোয়াখালীর সদর উপজেলায় যুবদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ছবি ছড়ানো হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
Topics:
রমনা পার্কে নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্যকে ‘আতঙ্কবাদীর হামলা’ দাবি করে অপপ্রচার
উখিয়ায় ৫ বছরের শিশুকে আটক করা হয়নি, আত্মীয়-স্বজন হেফাজতে না নেওয়ায় মায়ের সঙ্গে আদালতে নেওয়া হয়
নরসিংদীতে মাদ্রাসা ছাত্র পিটুনির দৃশ্য দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের
ঘটনাস্থল ‘ভারত’ উল্লেখ না করে গণমাধ্যমের শিরোনাম, বিদেশি ঘটনাকে পাঠক মনে করছে বাংলাদেশের
ভারতীয় নারীর মৃত্যুর ছবি দিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দাবি করে অপপ্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
জুলাই অভ্যুত্থান ও মাইলস্টোনের দুর্ঘটনা নিয়ে এখন টিভি'র নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি নকল
মাওলানা মামুনুল হকের মিছিলের এই ছবিটি আসল নয়, এটি এআই দিয়ে মডিফাই করা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার
যমুনা টিভি ও ডিবিসি নিউজের ফটোকার্ড নকল করে মির্জা ফখরুলের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
নোয়াখালী সংঘর্ষের ঘটনায় পুরোনো ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি
২০ অক্টোবর ২০২৫
মসজিদের ভেতরে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন—এমন চারটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলো সম্প্রতি নোয়াখালীতে সংঘটিত একটি ঘটনার বলে দাবি করা হচ্ছে।
কিন্তু, প্রচারিত ছবিগুলোর সঙ্গে নোয়াখালীর সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, চারটি ছবির একটি ২০২১ সালের আফগানিস্তানের এবং বাকি তিনটি ২০২০ সালের নারায়ণগঞ্জের ঘটনার।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেমবাজারে জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে যুবদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় মসজিদের ক্ষতি হয় এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। এরই প্রেক্ষিতে এই ছবিগুলো ছড়ানো হয়েছে।
ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই:
১. প্রথম ছবি: এই ছবিটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা ডয়েচে ভেলের ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, ছবিটি উত্তর আফগানিস্তানের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার ঘটনার, যেখানে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছিল।
২. দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ছবি: এই তিনটি ছবি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে দ্যা ডেইলি স্টার (২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর), দৈনিক যুগান্তর (২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর), ও দৈনিক ইত্তেফাক (২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর) এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন নিশ্চিত করে যে ছবিগুলো ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনার।
অর্থাৎ, গতকাল নোয়াখালীর সদর উপজেলায় যুবদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ছবি ছড়ানো হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।