| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ডকে কখনো বিএনপি আবার কখনো জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ব্যবহার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে একটি ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের এই ভিডিওটি ব্যবহার করে কখনো দাবি করা হচ্ছে, জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপি আগুন দিয়েছে। আবার কখনো দাবি করা হচ্ছে, রংপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত-শিবির আগুন দিয়েছে।
‘Bangladesh Live’ নামক ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘জা/মায়াত কর্মীর বাড়িতে আ/গুন দিলো বি/এনপি।’
‘Public News 24’ নামক পেজ থেকে ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘রংপুরে বিএনপি নেতার বাড়ি আ*গু*ন দিলেন জামাত শিবিরের নেতা কর্মীরা’
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, অগ্নিকাণ্ডের এই ভিডিওটির সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। মূলত এটি ফেনীর বিরিঞ্চিতে ঘটা একটি দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
অনুসন্ধান:
‘Doinik Feni’ নামক ফেসবুক পেজ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘আ/গুন কেড়ে নিল সব, ফেনীর বিরিঞ্চিতে নিঃস্ব নবদম্পতি’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া বাড়ির ফুটেজ দেখতে পাওয়া যায়।
ভিডিওটিতে এক ব্যক্তিকে বলতে দেখা যায়, ৭:২০ মিনিটে আমাদের এখানে আগুন লাগে, চুলা থেকে আগুনটা লেগেছিল। আমাদের এখানে আমরা কিছুই বাঁচাতে পারিনি, আমাদের সব শেষ। আমার টাকা-পয়সা ছিল, সব জ্বলে ছারখার হয়ে গেছে। শুধু আমার এখন বাড়িতে শুধু পিলারগুলাই দাঁড়িয়ে আছে।
প্রতিবেদনটিতে অগ্নিকাণ্ডের সাথে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
‘Nishad Adnan’ নামের এক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হুবহু ভিডিওটি ১৩ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করতে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের বাড়িতে ভাতিজা মুন্নার নতুন ঘরে আগু-ন লেগে সব শেষ! জানিনা পরিবারটি কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। নগদ কয়েক লাখ টাকা সহ লাখ লাখ টাকার জিনিস আ-গুনে পুড়ে ছাই।’
উক্ত পেজের ১৭ ফেব্রুয়ারির একটি পোস্টে ভুক্তভোগীর মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে, যেখানে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘মুন্না’। বাংলাফ্যাক্ট উক্ত নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘আমাদের ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।’ এছাড়াও, নিশাদ আদনান সম্পর্কে জানতে চাইলে মুন্না জানান, নিশাদ সম্পর্কে তাঁর কাকা হন।
অর্থাৎ, ফেনীর বিরিঞ্চিতে ঘটা একটি দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।
Topics:
শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের
অর্থ পাচার ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভীর নামে অপপ্রচার
সালমানের স্টুডিও ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার নামে বানোয়াট মন্তব্য প্রচার
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ফেনীতে বাইকে আগুন দেওয়ার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২১ সালের
পারিবারিক কলহের পুরোনো ঘটনাকে অপহরণ ও ধর্ষণ দাবি করে অপপ্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
পুশ-ইন ইস্যুতে ভারতীয় সীমান্তের দিকে বাংলাদেশী ট্যাংক অগ্রসর হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা
সাভারে জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলার দাবিটি ভুয়া;
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গতবছরে খিলগাঁওয়ে স’মিলে অগ্নিকাণ্ডের
৫৫ বছর বয়সী মুসলিম নারী হত্যার ঘটনাকে নাবালিকা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা দাবিতে অপপ্রচার
শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা
ফ্যাক্ট চেক
দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ডকে কখনো বিএনপি আবার কখনো জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ব্যবহার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে একটি ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের এই ভিডিওটি ব্যবহার করে কখনো দাবি করা হচ্ছে, জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপি আগুন দিয়েছে। আবার কখনো দাবি করা হচ্ছে, রংপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত-শিবির আগুন দিয়েছে।
‘Bangladesh Live’ নামক ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘জা/মায়াত কর্মীর বাড়িতে আ/গুন দিলো বি/এনপি।’
‘Public News 24’ নামক পেজ থেকে ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘রংপুরে বিএনপি নেতার বাড়ি আ*গু*ন দিলেন জামাত শিবিরের নেতা কর্মীরা’
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, অগ্নিকাণ্ডের এই ভিডিওটির সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। মূলত এটি ফেনীর বিরিঞ্চিতে ঘটা একটি দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
অনুসন্ধান:
‘Doinik Feni’ নামক ফেসবুক পেজ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘আ/গুন কেড়ে নিল সব, ফেনীর বিরিঞ্চিতে নিঃস্ব নবদম্পতি’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া বাড়ির ফুটেজ দেখতে পাওয়া যায়।
ভিডিওটিতে এক ব্যক্তিকে বলতে দেখা যায়, ৭:২০ মিনিটে আমাদের এখানে আগুন লাগে, চুলা থেকে আগুনটা লেগেছিল। আমাদের এখানে আমরা কিছুই বাঁচাতে পারিনি, আমাদের সব শেষ। আমার টাকা-পয়সা ছিল, সব জ্বলে ছারখার হয়ে গেছে। শুধু আমার এখন বাড়িতে শুধু পিলারগুলাই দাঁড়িয়ে আছে।
প্রতিবেদনটিতে অগ্নিকাণ্ডের সাথে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
‘Nishad Adnan’ নামের এক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হুবহু ভিডিওটি ১৩ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করতে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের বাড়িতে ভাতিজা মুন্নার নতুন ঘরে আগু-ন লেগে সব শেষ! জানিনা পরিবারটি কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। নগদ কয়েক লাখ টাকা সহ লাখ লাখ টাকার জিনিস আ-গুনে পুড়ে ছাই।’
উক্ত পেজের ১৭ ফেব্রুয়ারির একটি পোস্টে ভুক্তভোগীর মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে, যেখানে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘মুন্না’। বাংলাফ্যাক্ট উক্ত নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘আমাদের ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।’ এছাড়াও, নিশাদ আদনান সম্পর্কে জানতে চাইলে মুন্না জানান, নিশাদ সম্পর্কে তাঁর কাকা হন।
অর্থাৎ, ফেনীর বিরিঞ্চিতে ঘটা একটি দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।