| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে শেখ মুজিবকে স্মরণ করেননি; ভিডিও বক্তব্যটি এআই দিয়ে তৈরি
১৬ মার্চ ২০২৬
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথমে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। ভিডিওর অডিওতে শুনতে পাওয়া যায়, ‘সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমি প্রথমে স্মরণ করতে চাই জনাব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকে, যার হাত ধরে এই সংসদের পথ চলা শুরু হয়েছে। সত্য কখনও মুছেফেলা যায় না, এটাই তার বড় প্রমাণ।’
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেননি। মূলত, এই ভিডিও বক্তব্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করে ছড়ানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিকের ৪৫ মিনিটের ভিডিও পাওয়া যায়। এর ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড থেকে ১৫ মিনিট ০১ সেকেন্ড পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম। ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে অবশেষে আজ থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহীমূলক সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই, যার অশেষ রহমতে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এই পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ শুরুর এই যাত্রা লগ্নে আমি তাদেরকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই আন্দোলন সংগ্রামে যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার তাদের সন্তান স্বজন হারিয়েছেন, যেসব আহত মানুষকে তাদের স্বাচ্ছন্দের জীবন হারাতে হয়েছে, যেসব মানুষগুলো নির্যাতন নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানী কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন, আমি তাদের সকলের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষ্ক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে, তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণী, সারাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী সমর্থক তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যাদেরকে গুম-খুন হত্যা নির্যাতন-নিপীড়ন মিথ্যা হামলা-মামলা কিংবা জীবন্ত মানুষের কবরস্থান তুল্য বরবর বন্দিশালা আয়নাঘর কোনো কিছু দিয়েই যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি, যাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে আমি ত্রয়দশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রা লগ্নে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্রজনতাকে জানাই অভিনন্দন।’
তবে তাঁর বক্তব্যের শুরুতে কোথাও শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা শেখ হাসিনাকে স্মরণ করতে দেখা যায়নি।
বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি বলেন, ‘সম্মানিত সংসদ সদস্যবৃন্দ, আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে কিন্তু তাবেদার মুক্ত ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ থাকতে পারে না বিরোধ নেই। জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি, তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।
তিনি বলেন, ‘সম্মানিত সদস্যবৃন্দ নতুন সংসদ যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী এবং গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনস তৈরি হয়েছে বা জনরস তৈরি হয়েছিল, তাতে এই মহান সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিপাদী এবং তাবেদারী শাসন শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ আমাদের এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংবিধান এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির বিধান অনুসরণক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য আজ আমি প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং পাঁচবারের মতন নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব ডক্টর খন্দকার মোশারফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করছি।
এ সময় তিনি সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, ‘সম্মানিত সংসদ সদস্যবৃন্দ আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাধিশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল। আমি জাতীয় সংসদের সকল সম্মানিত সদস্যকে স্বাগত এবং ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ হাফেজ।’
এই অংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করলেও, অধিবেশনের শুরুতে তাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করেননি।
আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে এতে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। প্রথমত, ভিডিওতে তারেক রহমানের কণ্ঠের সঙ্গে এই ভিডিওর অডিওর মিল পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, কথা বলার সময়ে ঠোঁট ও অঙ্গভঙ্গির বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা গিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে বাংলাফ্যাক্ট একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি কন্টেন্ট শনাক্তকরণ টুল ব্যবহার করে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছে। এর মধ্যে ‘হাইভ মডারেশন’ টুলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি এবং এর অডিও স্পিচ এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা ৯৯.৪ শতাংশ।
অর্থাৎ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথমে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বক্তব্য দেননি এবং একই দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
তথ্যসূত্র
বাংলাদেশ টেলিভিশন
Topics:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Bangla Fact
ভারতের স্কুলের ভিডিওকে কুমিল্লার দাবি করে বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার
ভারতের ঘটনাকে দোকানদারের ওপরে চাঁদার দাবিতে যুবদল নেতার হামলা দাবি করে প্রচার
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংঘর্ষ দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি পাকিস্তানের
‘নতুন করে দেশ সংস্কারে শেখ হাসিনাকে দরকার’- এমন মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করেননি
ভারতের বিহারে মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধারের ভিডিওকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এক শিশুকে ধর্ষণের পর
গলা কেটে হত্যার দাবি করে প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
একাত্তর টিভির ফটোকার্ড নকল করে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরলে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিল করা হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দেশ রূপান্তরের শিরোনামটি এক্ষেত্রে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে।
জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে নয়, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘাতের দৃশ্য এটি
বিএনপি নেতারা ভোট চুরির উদ্দেশ্য ব্যালটে সিল মারছে, ভিডিওটি পাকিস্তানের
ফ্যাক্ট চেক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে শেখ মুজিবকে স্মরণ করেননি; ভিডিও বক্তব্যটি এআই দিয়ে তৈরি
১৬ মার্চ ২০২৬
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথমে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। ভিডিওর অডিওতে শুনতে পাওয়া যায়, ‘সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমি প্রথমে স্মরণ করতে চাই জনাব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকে, যার হাত ধরে এই সংসদের পথ চলা শুরু হয়েছে। সত্য কখনও মুছেফেলা যায় না, এটাই তার বড় প্রমাণ।’
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেননি। মূলত, এই ভিডিও বক্তব্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করে ছড়ানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিকের ৪৫ মিনিটের ভিডিও পাওয়া যায়। এর ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড থেকে ১৫ মিনিট ০১ সেকেন্ড পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম। ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে অবশেষে আজ থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহীমূলক সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই, যার অশেষ রহমতে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এই পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ শুরুর এই যাত্রা লগ্নে আমি তাদেরকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই আন্দোলন সংগ্রামে যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার তাদের সন্তান স্বজন হারিয়েছেন, যেসব আহত মানুষকে তাদের স্বাচ্ছন্দের জীবন হারাতে হয়েছে, যেসব মানুষগুলো নির্যাতন নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানী কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন, আমি তাদের সকলের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষ্ক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে, তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণী, সারাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী সমর্থক তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যাদেরকে গুম-খুন হত্যা নির্যাতন-নিপীড়ন মিথ্যা হামলা-মামলা কিংবা জীবন্ত মানুষের কবরস্থান তুল্য বরবর বন্দিশালা আয়নাঘর কোনো কিছু দিয়েই যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি, যাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে আমি ত্রয়দশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রা লগ্নে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্রজনতাকে জানাই অভিনন্দন।’
তবে তাঁর বক্তব্যের শুরুতে কোথাও শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা শেখ হাসিনাকে স্মরণ করতে দেখা যায়নি।
বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি বলেন, ‘সম্মানিত সংসদ সদস্যবৃন্দ, আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে কিন্তু তাবেদার মুক্ত ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ থাকতে পারে না বিরোধ নেই। জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি, তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।
তিনি বলেন, ‘সম্মানিত সদস্যবৃন্দ নতুন সংসদ যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী এবং গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনস তৈরি হয়েছে বা জনরস তৈরি হয়েছিল, তাতে এই মহান সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিপাদী এবং তাবেদারী শাসন শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ আমাদের এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংবিধান এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির বিধান অনুসরণক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য আজ আমি প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং পাঁচবারের মতন নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব ডক্টর খন্দকার মোশারফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করছি।
এ সময় তিনি সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, ‘সম্মানিত সংসদ সদস্যবৃন্দ আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাধিশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল। আমি জাতীয় সংসদের সকল সম্মানিত সদস্যকে স্বাগত এবং ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ হাফেজ।’
এই অংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করলেও, অধিবেশনের শুরুতে তাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করেননি।
আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে এতে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। প্রথমত, ভিডিওতে তারেক রহমানের কণ্ঠের সঙ্গে এই ভিডিওর অডিওর মিল পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, কথা বলার সময়ে ঠোঁট ও অঙ্গভঙ্গির বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা গিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে বাংলাফ্যাক্ট একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি কন্টেন্ট শনাক্তকরণ টুল ব্যবহার করে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছে। এর মধ্যে ‘হাইভ মডারেশন’ টুলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি এবং এর অডিও স্পিচ এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা ৯৯.৪ শতাংশ।
অর্থাৎ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথমে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বক্তব্য দেননি এবং একই দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
তথ্যসূত্র
বাংলাদেশ টেলিভিশন