| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
এমপি মির্জা আব্বাসের আসন ‘শূন্য ঘোষণা’ হওয়ার দাবিটি মিথ্যা
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্প্রতি ‘সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।’ শিরোনামে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা করার বিষয়টি সঠিক নয়। গত ২৩ জুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, ‘জনাব মির্জা আব্বাস আমাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। যথাসময়ে সুস্থ হলে তিনি সংসদে আসবেন।’
অনুসন্ধানে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূণ্য হওয়ার বিষয়ে সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ এর (খ) -এ বলা হয়েছে, ‘যদি সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন।’
স্টার নিউজ-এর ওয়েবসাইটে গত ২৩ জুন ‘সংসদে মির্জা আব্বাসের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন, যা জানালেন স্পিকার’
শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, জনাব মির্জা আব্বাস আমাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। যথাসময়ে সুস্থ হলে তিনি সংসদে আসবেন।’
এর আগে, গত ৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্পিকারকে দেয়া এক চিঠিতে জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসের শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরোপুরি সুস্থ হতে তার আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
ওই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মির্জা আব্বাস সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনসহ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কোনো বৈঠকে অংশ নিতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে তার এই অনুপস্থিতির সময়টুকুকে সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
অর্থাৎ, মির্জা আব্বাস অনুমতি নিয়েই চিকিৎসা ছুটিতে আছেন।
এছাড়াও, প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ৩০ আগস্ট ‘সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা–পুনর্বাসনের পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা–পুনর্বাসনের পর আগামী ২ মার্চ দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। সেদিন রাত ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
পরে, আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডে Gujob TV লেখার সূত্রধরে অনুসন্ধানে ‘Gujob Tv-গুজব টিভি’ নামের ফেসবুক পেজে গত ২৯ আগস্ট প্রকাশিত মূল ফটোকার্ডটি খুঁজে পাওয়া যায়। এটি যে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র নয় তা এর নাম দেখলেই স্পষ্ট হওয়া যায়। এই পেজটি থেকেই আলোচিত ফটোকার্ডটির সূত্রপাত।
সুতরাং, এমপি মির্জা আব্বাসের আসন ‘শূন্য ঘোষণা’ করার দাবিটি মিথ্যা।
Topics:
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১০০৬টি মামলা প্রত্যাহারের খবরটি ভিত্তিহীন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে অপপ্রচার
বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে সাইয়েদ আবদুল্লাহর নামে অপপ্রচার
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
ভুয়া পেজের বরাতে মিথ্যা তথ্য প্রচার:
সালমান এফ রহমান কারামুক্ত হননি
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
তুরাগ নদে ছাত্রলীগ কর্মীদের লাশ উদ্ধারের দাবি করে পুরোনো সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিও প্রচার
ডাকসুর ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেনের ওপর হামলার দাবিটি মিথ্যা, ব্যবহৃত ছবিটি পুরোনো
গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত না হওয়ার সিদ্ধান্তে ছাত্র-জনতা শাহবাগ মোড়ের রাজপথে নামার দাবিটি মিথ্যা
বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের দাবিটি মিথ্যা
ফ্যাক্ট চেক
এমপি মির্জা আব্বাসের আসন ‘শূন্য ঘোষণা’ হওয়ার দাবিটি মিথ্যা
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্প্রতি ‘সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।’ শিরোনামে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা করার বিষয়টি সঠিক নয়। গত ২৩ জুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, ‘জনাব মির্জা আব্বাস আমাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। যথাসময়ে সুস্থ হলে তিনি সংসদে আসবেন।’
অনুসন্ধানে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূণ্য হওয়ার বিষয়ে সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ এর (খ) -এ বলা হয়েছে, ‘যদি সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন।’
স্টার নিউজ-এর ওয়েবসাইটে গত ২৩ জুন ‘সংসদে মির্জা আব্বাসের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন, যা জানালেন স্পিকার’
শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, জনাব মির্জা আব্বাস আমাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। যথাসময়ে সুস্থ হলে তিনি সংসদে আসবেন।’
এর আগে, গত ৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্পিকারকে দেয়া এক চিঠিতে জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসের শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরোপুরি সুস্থ হতে তার আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
ওই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মির্জা আব্বাস সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনসহ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কোনো বৈঠকে অংশ নিতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে তার এই অনুপস্থিতির সময়টুকুকে সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
অর্থাৎ, মির্জা আব্বাস অনুমতি নিয়েই চিকিৎসা ছুটিতে আছেন।
এছাড়াও, প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ৩০ আগস্ট ‘সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা–পুনর্বাসনের পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা–পুনর্বাসনের পর আগামী ২ মার্চ দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। সেদিন রাত ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
পরে, আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডে Gujob TV লেখার সূত্রধরে অনুসন্ধানে ‘Gujob Tv-গুজব টিভি’ নামের ফেসবুক পেজে গত ২৯ আগস্ট প্রকাশিত মূল ফটোকার্ডটি খুঁজে পাওয়া যায়। এটি যে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র নয় তা এর নাম দেখলেই স্পষ্ট হওয়া যায়। এই পেজটি থেকেই আলোচিত ফটোকার্ডটির সূত্রপাত।
সুতরাং, এমপি মির্জা আব্বাসের আসন ‘শূন্য ঘোষণা’ করার দাবিটি মিথ্যা।