| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়

শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা

১৯ আগস্ট ২০২৬


শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা
মিথ্যা

ঢাকার শ্রীপুর উপজেলার হারিন্দি গ্রামে ইসলামপন্থীরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিশোর রায়ের স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা এবং তাঁর এক পুরুষ স্বজনকেও হত্যা করেছে — এমন দাবি করে একটি ফটোকার্ড ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়াচ্ছে। 


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি মিথ্যা। ঘটনাটি ঢাকায় বলা হলেও ঘটনাটি ২০২৫ সালের ২৮ মে তারিখে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হরিন্দি গ্রামে ঘটে। এই ঘটনায় কেউ মারা যাননি এবং ধর্ষণের শিকার হননি।  


এই বিষয়ে অনুসন্ধানে সোশ্যাল মিডিয়া ও একাধিক গণমাধ্যমে এ ঘটিনার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। গত বছরের ২৮ মে প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হরিন্দি গ্রামে হিমাংশু শিখর রায়ের (৮৫) বাড়িতে দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে টাকা, সোনাসহ বাড়ির মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। হিমাংশু শিখর রায়সহ তাঁর ভাই কিশোর কুমার রায় (৭২) ও তাঁর স্ত্রী চন্দনা রায় (৬০) অচেতন হন। পরদিন বুধবার ওই বাড়ির বাসিন্দাদের মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিকেলে তাঁদের চেতনা ফিরে। 


হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কার্যালয় থেকে সে সময় গণমাধ্যমটিকে জানায়, তাঁদের চেতনানাশক কোনো কিছু দিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন। 


শ্রীপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ ইদ্রিস আলী গতবছরের ২৯ মে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে জানান, উক্ত ঘটনায় কোন ধর্ষণ বা ডাকাতি সংগঠনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। 


ঢাকা পোস্ট, কালবেলাসহ একাধিক গণমাধ্যম থেকেও একই তথ্য জানা যায়। 


অর্থাৎ, শ্রীপুর উপজেলার হারিন্দি গ্রামে ইসলামপন্থীরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিশোর রায়ের স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা এবং তাঁর এক পুরুষ স্বজনকে হত্যার দাবিটি মিথ্যা।





Topics:



মুসলিম নারীর ওপর হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবি করে প্রচার
মিথ্যা
২৭ আগস্ট ২০২৬

মুসলিম নারীর ওপর হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবি করে প্রচার

হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
মিথ্যা
২৪ আগস্ট ২০২৬

হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

পাহাড়ে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভুল তথ্য জুড়ে প্রচার
মিথ্যা
১৮ আগস্ট ২০২৬

পাহাড়ে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভুল তথ্য জুড়ে প্রচার

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের হামলার দাবিটি মিথ্যা;
ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের আসামের
৬ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের হামলার দাবিটি মিথ্যা; ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের আসামের

পথনাটকে অভিনয়ের দৃশ্যকে দেশে হিন্দু তরুণী মুখ বেঁধে নির্যাতনের দাবি করে প্রচার
মিথ্যা
৩০ জুন ২০২৬

পথনাটকে অভিনয়ের দৃশ্যকে দেশে হিন্দু তরুণী মুখ বেঁধে নির্যাতনের দাবি করে প্রচার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা

ফ্যাক্ট চেক

শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা

১৯ আগস্ট ২০২৬

<p>শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা<br /></p>

ঢাকার শ্রীপুর উপজেলার হারিন্দি গ্রামে ইসলামপন্থীরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিশোর রায়ের স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা এবং তাঁর এক পুরুষ স্বজনকেও হত্যা করেছে — এমন দাবি করে একটি ফটোকার্ড ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়াচ্ছে। 


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি মিথ্যা। ঘটনাটি ঢাকায় বলা হলেও ঘটনাটি ২০২৫ সালের ২৮ মে তারিখে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হরিন্দি গ্রামে ঘটে। এই ঘটনায় কেউ মারা যাননি এবং ধর্ষণের শিকার হননি।  


এই বিষয়ে অনুসন্ধানে সোশ্যাল মিডিয়া ও একাধিক গণমাধ্যমে এ ঘটিনার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। গত বছরের ২৮ মে প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হরিন্দি গ্রামে হিমাংশু শিখর রায়ের (৮৫) বাড়িতে দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে টাকা, সোনাসহ বাড়ির মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। হিমাংশু শিখর রায়সহ তাঁর ভাই কিশোর কুমার রায় (৭২) ও তাঁর স্ত্রী চন্দনা রায় (৬০) অচেতন হন। পরদিন বুধবার ওই বাড়ির বাসিন্দাদের মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিকেলে তাঁদের চেতনা ফিরে। 


হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কার্যালয় থেকে সে সময় গণমাধ্যমটিকে জানায়, তাঁদের চেতনানাশক কোনো কিছু দিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন। 


শ্রীপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ ইদ্রিস আলী গতবছরের ২৯ মে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে জানান, উক্ত ঘটনায় কোন ধর্ষণ বা ডাকাতি সংগঠনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। 


ঢাকা পোস্ট, কালবেলাসহ একাধিক গণমাধ্যম থেকেও একই তথ্য জানা যায়। 


অর্থাৎ, শ্রীপুর উপজেলার হারিন্দি গ্রামে ইসলামপন্থীরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিশোর রায়ের স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা এবং তাঁর এক পুরুষ স্বজনকে হত্যার দাবিটি মিথ্যা।