| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়

হিজাব না পরার জন্য নয়, ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে বাধে সংঘর্ষ

২২ ডিসেম্বর ২০২৫


হিজাব না পরার জন্য নয়, ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে বাধে সংঘর্ষ
মিথ্যা

চট্টগ্রামে দুই নারীকে মারধরের ঘটনার কারণ হিসেবে ভারতীয় মিডিয়া হিজাব না পরাকে উল্লেখ করেছে। আসলে ফুচকার দোকানে খেতে বসা নিয়ে এই সংঘর্ষ বাধে। ভারতীয় মিডিয়া দুজন নারীকে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বলে উল্লেখ করলেও, তারা দুজনেই মুসলিম ছিলেন।



ভারত থেকে পরিচালিত এক্স অ্যকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, চট্টগ্রামে হিজাব না পরার কারণে ডেবোরাহ ও মারিয়া নামে দুই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারীর ওপর প্রকাশ্যে চেয়ার দিয়ে হামলা করা হয়েছে। একই তথ্যে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবিপি ইংরেজি (১৯ ডিসেম্বর) এবং গুজরাট সংস্করণে রোববার (২০ ডিসেম্বর) একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে ঘটনাটি গত ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকার ঘটনা। তবে, দুই নারীর কেউই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নন বরং তারা দুজনেই মুসলিম। হিজাব না পরার কারণে তাদের ওপর হামলা করা হয়নি, হামলা হয়েছিল দোকানে খেতে বসা নিয়ে। 


ভিডিওটির কিছু স্থিরচিত্র রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ পাওয়া যায়, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গত রোববার থেকে মঙ্গলবার সিআরবি শিরীষতলা এলাকায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক লোক-সমাগম হয় এবং বেশ কিছু ভাসমান দোকান গড়ে উঠে। তেমনি দুই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে সেই মেলায় বেড়াতে গিয়ে একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানে খাবার খেতে বসেছিলেন। সেখানে খাবার আগে-পরে দেওয়া নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে পরবর্তীতে তা মারামারিতে রূপ নেয়। 


দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক আজাদী, বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরসহ একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্যে জানা যায়। তবে এসব প্রতিবেদনে দুই নারীর নাম কিংবা ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 


এই দুই নারীর পরিচয় ও ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর সিআরবি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সেদিন রিপা আক্তার, তাঁর ছোট বোন প্রিয়া আক্তার, স্বামী এবং তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তানসহ ১৬ ডিসেম্বরে সিআরবি এলাকায় বিজয় মেলায় ঘুরতে আসছিলেন। সেদিন একটি ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর এক পর্যায়ে রিপা আক্তারের স্বামী বাঁধা দিলে ছেলেগুলো অতর্কিত আক্রমণ করে। এই ঘটনায় রিপা আক্তার, তাঁর ছোট বোন ও স্বামী সামান্য আহত হন। এই ঘটনায় রিপা আক্তার (পিতা- মোজাহের মিয়া, মাতা-রহিমা বেগম) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা অজ্ঞাত্নামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি।’ 


নাম ও পরিচয় অনুযায়ী দুই নারী খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নন বরং তারা দুজনেই মুসলিম। 


অর্থাৎ, চট্টগ্রামে ফুচকার দোকানের ক্রেতাদের সঙ্গে দুই মুসলিম নারীর ঝগড়ার সময় আক্রমণের দৃশ্যকে হিজাব না পরার কারণে দুই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারীকে মারধর করা হয়েছে দাবি করে ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, যা মিথ্যা। 


তথ্যসূত্র

  • দৈনিক প্রথম আলো

  • মোঃ আব্দুল করিম




Topics:





জুতার মালা পরা মুসলিম ব্যক্তিকে হিন্দু বলে প্রচার ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্টে 
মিথ্যা
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

জুতার মালা পরা মুসলিম ব্যক্তিকে হিন্দু বলে প্রচার ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্টে 


বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’
মিথ্যা
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’

হবিগঞ্জে কমল দাসের মৃতদেহ উদ্ধার: ভারতীয় এক্স হ্যান্ডেল থেকে 'মুসলিমরা মব সৃষ্টি করে হত্যা' করেছে বলে ভুয়া তথ্য প্রচার
মিথ্যা
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

হবিগঞ্জে কমল দাসের মৃতদেহ উদ্ধার: ভারতীয় এক্স হ্যান্ডেল থেকে 'মুসলিমরা মব সৃষ্টি করে হত্যা' করেছে বলে ভুয়া তথ্য প্রচার

পাকিস্তানে মন্দির ভাঙার পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদশের বলে প্রচার
বিভ্রান্তিকর
১০ ডিসেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানে মন্দির ভাঙার পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদশের বলে প্রচার

সাতক্ষীরায় বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কুষ্টিয়ায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
 
মিথ্যা
১৬ নভেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরায় বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কুষ্টিয়ায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার

 

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



হিজাব না পরার জন্য নয়, ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে বাধে সংঘর্ষ

ফ্যাক্ট চেক

হিজাব না পরার জন্য নয়, ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে বাধে সংঘর্ষ

২২ ডিসেম্বর ২০২৫

<p>হিজাব না পরার জন্য নয়, ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে বাধে সংঘর্ষ<br /></p>

চট্টগ্রামে দুই নারীকে মারধরের ঘটনার কারণ হিসেবে ভারতীয় মিডিয়া হিজাব না পরাকে উল্লেখ করেছে। আসলে ফুচকার দোকানে খেতে বসা নিয়ে এই সংঘর্ষ বাধে। ভারতীয় মিডিয়া দুজন নারীকে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বলে উল্লেখ করলেও, তারা দুজনেই মুসলিম ছিলেন।



ভারত থেকে পরিচালিত এক্স অ্যকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, চট্টগ্রামে হিজাব না পরার কারণে ডেবোরাহ ও মারিয়া নামে দুই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারীর ওপর প্রকাশ্যে চেয়ার দিয়ে হামলা করা হয়েছে। একই তথ্যে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবিপি ইংরেজি (১৯ ডিসেম্বর) এবং গুজরাট সংস্করণে রোববার (২০ ডিসেম্বর) একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে ঘটনাটি গত ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকার ঘটনা। তবে, দুই নারীর কেউই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নন বরং তারা দুজনেই মুসলিম। হিজাব না পরার কারণে তাদের ওপর হামলা করা হয়নি, হামলা হয়েছিল দোকানে খেতে বসা নিয়ে। 


ভিডিওটির কিছু স্থিরচিত্র রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ পাওয়া যায়, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গত রোববার থেকে মঙ্গলবার সিআরবি শিরীষতলা এলাকায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক লোক-সমাগম হয় এবং বেশ কিছু ভাসমান দোকান গড়ে উঠে। তেমনি দুই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে সেই মেলায় বেড়াতে গিয়ে একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানে খাবার খেতে বসেছিলেন। সেখানে খাবার আগে-পরে দেওয়া নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে পরবর্তীতে তা মারামারিতে রূপ নেয়। 


দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক আজাদী, বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরসহ একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্যে জানা যায়। তবে এসব প্রতিবেদনে দুই নারীর নাম কিংবা ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 


এই দুই নারীর পরিচয় ও ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর সিআরবি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সেদিন রিপা আক্তার, তাঁর ছোট বোন প্রিয়া আক্তার, স্বামী এবং তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তানসহ ১৬ ডিসেম্বরে সিআরবি এলাকায় বিজয় মেলায় ঘুরতে আসছিলেন। সেদিন একটি ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর এক পর্যায়ে রিপা আক্তারের স্বামী বাঁধা দিলে ছেলেগুলো অতর্কিত আক্রমণ করে। এই ঘটনায় রিপা আক্তার, তাঁর ছোট বোন ও স্বামী সামান্য আহত হন। এই ঘটনায় রিপা আক্তার (পিতা- মোজাহের মিয়া, মাতা-রহিমা বেগম) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা অজ্ঞাত্নামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি।’ 


নাম ও পরিচয় অনুযায়ী দুই নারী খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নন বরং তারা দুজনেই মুসলিম। 


অর্থাৎ, চট্টগ্রামে ফুচকার দোকানের ক্রেতাদের সঙ্গে দুই মুসলিম নারীর ঝগড়ার সময় আক্রমণের দৃশ্যকে হিজাব না পরার কারণে দুই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারীকে মারধর করা হয়েছে দাবি করে ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, যা মিথ্যা। 


তথ্যসূত্র

  • দৈনিক প্রথম আলো

  • মোঃ আব্দুল করিম