| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়
হবিগঞ্জে কমল দাসের মৃতদেহ উদ্ধার: ভারতীয় এক্স হ্যান্ডেল থেকে 'মুসলিমরা মব সৃষ্টি করে হত্যা' করেছে বলে ভুয়া তথ্য প্রচার
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারত থেকে পরিচালিত এক্স অ্যকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, হবিগঞ্জ জেলায় কামদেব দাস নামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর এক যুবককে ইসলাম ধর্মের ব্যক্তিরা মব সৃষ্টি করে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
তবে এই দাবিটি সঠিক নয়। যাচাইয়ে দেখা যায়, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কামদেব দাস নামে এক যুবকের মৃত্যু মুসলিমদের মবের কারণে হয়নি। এই ঘটনা প্রেম ঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে মামলার নথিতে উল্লেখ আছে এবং এই ঘটনার মামলায় বিবাদী সকলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
এই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক সার্চ করে, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেইলের ওয়েবসাইটে গত ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেটি থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের দীঘলবাগ এলাকার একটি পুকুর থেকে গত ২৩ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিখোঁজের দুইদিন পর কামদেব দাস (১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, প্রেম সংক্রান্ত ঘটনার জেরে হত্যা করা হয়েছে তাকে।
গণমাধ্যমটিকে নিহতের বড় ভাই যুবরাজ দাস জানান, একই এলাকার শংকর দাসের মেয়ের সঙ্গে কামদেবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দুই পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ঝামেলার সৃষ্টি হয়। ওই দিন রাত থেকেই কামদেব নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল।
গত ২৪ ডিসেম্বর খবরের কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে অধিকতর তথ্য নিশ্চিতের জন্য বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বিশ্বজিৎ পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘কামদেব দাসের সঙ্গে স্মৃতি দাস নামে এক তরুণীর সম্পর্ক ছিল। কামদেব দাসের লাশ উদ্ধারের দুই দিন আগে তাদের দুই পরিবারের মধ্য এই সম্পর্কের ঝামেলার কারণে গ্রাম্য সালিস হয়। এ নিয়ে আমরা কিছু আলামত পেয়েছি। তদন্ত এখনও চলমান। তবে কামদেব দাসের পরিবার স্মৃতি দাসের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই মামলায় কোনো মুসলিম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ নেই।’
অর্থাৎ, দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
ঢাকা মেইল
Topics:
Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
নারায়ণগঞ্জে হিন্দু ব্যক্তির ওপর এসিড হামলা দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের
অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার
বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে
গফরগাঁওয়ে মসজিদে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
গয়েশ্বর রায়কে একমাত্র হিন্দু সংসদ সদস্য বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে অগ্নিসংযোগের ছবিটি ২০২২ সালের
শরৎ চক্রবর্তী মণি হত্যাকাণ্ড
এবার ‘জিজিয়া কর না দেয়া’কে হত্যার কারণ হিসেবে অপপ্রচার করা হচ্ছে
পাকিস্তানে মন্দির ভাঙার পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদশের বলে প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
হবিগঞ্জে কমল দাসের মৃতদেহ উদ্ধার: ভারতীয় এক্স হ্যান্ডেল থেকে 'মুসলিমরা মব সৃষ্টি করে হত্যা' করেছে বলে ভুয়া তথ্য প্রচার
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারত থেকে পরিচালিত এক্স অ্যকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, হবিগঞ্জ জেলায় কামদেব দাস নামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর এক যুবককে ইসলাম ধর্মের ব্যক্তিরা মব সৃষ্টি করে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
তবে এই দাবিটি সঠিক নয়। যাচাইয়ে দেখা যায়, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কামদেব দাস নামে এক যুবকের মৃত্যু মুসলিমদের মবের কারণে হয়নি। এই ঘটনা প্রেম ঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে মামলার নথিতে উল্লেখ আছে এবং এই ঘটনার মামলায় বিবাদী সকলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
এই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক সার্চ করে, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেইলের ওয়েবসাইটে গত ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেটি থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের দীঘলবাগ এলাকার একটি পুকুর থেকে গত ২৩ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিখোঁজের দুইদিন পর কামদেব দাস (১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, প্রেম সংক্রান্ত ঘটনার জেরে হত্যা করা হয়েছে তাকে।
গণমাধ্যমটিকে নিহতের বড় ভাই যুবরাজ দাস জানান, একই এলাকার শংকর দাসের মেয়ের সঙ্গে কামদেবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দুই পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ঝামেলার সৃষ্টি হয়। ওই দিন রাত থেকেই কামদেব নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল।
গত ২৪ ডিসেম্বর খবরের কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে অধিকতর তথ্য নিশ্চিতের জন্য বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বিশ্বজিৎ পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘কামদেব দাসের সঙ্গে স্মৃতি দাস নামে এক তরুণীর সম্পর্ক ছিল। কামদেব দাসের লাশ উদ্ধারের দুই দিন আগে তাদের দুই পরিবারের মধ্য এই সম্পর্কের ঝামেলার কারণে গ্রাম্য সালিস হয়। এ নিয়ে আমরা কিছু আলামত পেয়েছি। তদন্ত এখনও চলমান। তবে কামদেব দাসের পরিবার স্মৃতি দাসের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই মামলায় কোনো মুসলিম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ নেই।’
অর্থাৎ, দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
ঢাকা মেইল