| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়
শরৎ চক্রবর্তী মণি হত্যাকাণ্ড
এবার ‘জিজিয়া কর না দেয়া’কে হত্যার কারণ হিসেবে অপপ্রচার করা হচ্ছে
১৫ জানুয়ারী ২০২৬
৫ জানুয়ারি নরসিংদীর পলাশে শরৎ চক্রবর্তী (মণি) নামে এক মুদী দোকানীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে এবং সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এবার দাবি করা হচ্ছে, “জিজিয়া কর” না দেওয়ার কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের গণমাধ্যম ‘জি ২৪ ঘণ্টা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, “শরৎ চক্রবর্তী ফেসবুকে ‘এত আগুন, এত মৃত্যু, এই বিভীষিকাময় দেশ; এই মৃত্যু-উপত্যকাই আমার দেশ’ লেখার কারণে তাঁর কাছে ‘জিজিয়া কর’ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাণের ভয়ে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি। তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বিষয়টি থানায় জানানো হলে তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করা হবে এবং ধর্ষণ করা হবে। শেষ পর্যন্ত শরৎ চক্রবর্তী নিজেকে বাঁচাতে পারেননি এবং তাঁকে হত্যা করা হয়।
বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান:
মুদি দোকানি শরৎ চক্রবর্তীর (মণি) হত্যাকাণ্ডের সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, যা বাংলাফ্যাক্ট আগেই যাচাই করে দেখিয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের ৩ জনের সাথে কথা বলে, এবং বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হিন্দু হওয়ার কারণে তাঁর কাছে 'জিজিয়া কর' দাবি করা হয়েছিল, এই তথ্যটির কোনো সত্যতা নেই।
নিহত শরৎ মনি চক্রবর্তীর ছোট ভাই রনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগসূত্র নেই বলে বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “সবার সঙ্গেই আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। কারও সাথে আমাদের কোনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা নেই।” এ ছাড়া ধর্মীয় কারণে তাঁরা কখনো কোনো হুমকি পাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় কারণে কোনো হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না বা 'জিজিয়া কর' দাবি করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে শরৎ মনি চক্রবর্তীর স্ত্রী জানান, “এ ধরনের হুমকি সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমার জানামতে কখনো এমন কিছু ঘটেনি।”
নিহত শরৎ মনি চক্রবর্তীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর ছেলে ধর্মীয় কারণে কখনো কোনো হুমকি পাননি। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার ছেলে একজনের সঙ্গে শেয়ারে জায়গা জমি নিয়েছিল, এটিই মূলত বিরোধের মূল কারণ।”
নিহত ব্যক্তির মায়ের বক্তব্যের সাথে মিল পাওয়া যায় নরসিংদীর পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুনের বক্তব্যের। তিনি বাংলাফ্যাক্টকে জানান, “এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক কারণ নেই; বরং এটি নিছক একটি পারিবারিক বিষয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং আর্থিক লেনদেনই এই ঘটনার মূল কারণ।”
এতে স্পষ্ট যে, বাপ্পাদিত্য বসু জিজিয়া করা না দেওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে যে দাবি করেছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। মুদী দোকানী শরৎ চক্রবর্তী (মণি) হত্যার ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক কারণে নয়, বরং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পরিবার ও পুলিশ দাবি করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ৬টি অপরাধমূলক ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড বলে প্রচারের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে বাংলাফ্যাক্ট। পড়ুন এখানে।
Topics:
জুতার মালা পরা মুসলিম ব্যক্তিকে হিন্দু বলে প্রচার ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্টে
বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’
হবিগঞ্জে কমল দাসের মৃতদেহ উদ্ধার: ভারতীয় এক্স হ্যান্ডেল থেকে 'মুসলিমরা মব সৃষ্টি করে হত্যা' করেছে বলে ভুয়া তথ্য প্রচার
হিজাব না পরার জন্য নয়, ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে বাধে সংঘর্ষ
পাকিস্তানে মন্দির ভাঙার পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদশের বলে প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে অগ্নিসংযোগের ছবিটি ২০২২ সালের
মাজার ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নাম জড়িয়ে ‘আমার দেশ’ এর লোগো সম্বলিত ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার
লালমনিরহাটে হত্যার শিকার মুসলিম শিশুকে হিন্দু দাবিতে অপপ্রচার
ফ্যাক্ট চেক
শরৎ চক্রবর্তী মণি হত্যাকাণ্ড
এবার ‘জিজিয়া কর না দেয়া’কে হত্যার কারণ হিসেবে অপপ্রচার করা হচ্ছে
১৫ জানুয়ারী ২০২৬
৫ জানুয়ারি নরসিংদীর পলাশে শরৎ চক্রবর্তী (মণি) নামে এক মুদী দোকানীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে এবং সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এবার দাবি করা হচ্ছে, “জিজিয়া কর” না দেওয়ার কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের গণমাধ্যম ‘জি ২৪ ঘণ্টা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, “শরৎ চক্রবর্তী ফেসবুকে ‘এত আগুন, এত মৃত্যু, এই বিভীষিকাময় দেশ; এই মৃত্যু-উপত্যকাই আমার দেশ’ লেখার কারণে তাঁর কাছে ‘জিজিয়া কর’ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাণের ভয়ে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি। তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বিষয়টি থানায় জানানো হলে তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করা হবে এবং ধর্ষণ করা হবে। শেষ পর্যন্ত শরৎ চক্রবর্তী নিজেকে বাঁচাতে পারেননি এবং তাঁকে হত্যা করা হয়।
বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান:
মুদি দোকানি শরৎ চক্রবর্তীর (মণি) হত্যাকাণ্ডের সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, যা বাংলাফ্যাক্ট আগেই যাচাই করে দেখিয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের ৩ জনের সাথে কথা বলে, এবং বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হিন্দু হওয়ার কারণে তাঁর কাছে 'জিজিয়া কর' দাবি করা হয়েছিল, এই তথ্যটির কোনো সত্যতা নেই।
নিহত শরৎ মনি চক্রবর্তীর ছোট ভাই রনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগসূত্র নেই বলে বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “সবার সঙ্গেই আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। কারও সাথে আমাদের কোনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা নেই।” এ ছাড়া ধর্মীয় কারণে তাঁরা কখনো কোনো হুমকি পাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় কারণে কোনো হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না বা 'জিজিয়া কর' দাবি করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে শরৎ মনি চক্রবর্তীর স্ত্রী জানান, “এ ধরনের হুমকি সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমার জানামতে কখনো এমন কিছু ঘটেনি।”
নিহত শরৎ মনি চক্রবর্তীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর ছেলে ধর্মীয় কারণে কখনো কোনো হুমকি পাননি। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার ছেলে একজনের সঙ্গে শেয়ারে জায়গা জমি নিয়েছিল, এটিই মূলত বিরোধের মূল কারণ।”
নিহত ব্যক্তির মায়ের বক্তব্যের সাথে মিল পাওয়া যায় নরসিংদীর পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুনের বক্তব্যের। তিনি বাংলাফ্যাক্টকে জানান, “এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক কারণ নেই; বরং এটি নিছক একটি পারিবারিক বিষয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং আর্থিক লেনদেনই এই ঘটনার মূল কারণ।”
এতে স্পষ্ট যে, বাপ্পাদিত্য বসু জিজিয়া করা না দেওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে যে দাবি করেছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। মুদী দোকানী শরৎ চক্রবর্তী (মণি) হত্যার ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক কারণে নয়, বরং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পরিবার ও পুলিশ দাবি করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ৬টি অপরাধমূলক ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড বলে প্রচারের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে বাংলাফ্যাক্ট। পড়ুন এখানে।