| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে নিয়ে দ্য ইকোনমিক টাইমসের অপপ্রচার

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে নিয়ে দ্য ইকোনমিক টাইমসের অপপ্রচার
মিথ্যা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে হিজবুত তাহরীরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং মাহফুজ আলমকে (সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা) হিজবুত তাহরীর সদস্য দাবি করে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস। বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দুজনের হিজবুত তাহরীরের সাথে সংশ্লিষ্টতা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। 


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ড. নাসিমুল গনিকে স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিযুক্ত করেছে…।’



নামজনিত বিভ্রাট: দুই নাসিমুল গনি, দুই ব্যক্তি


গত বছরের জানুয়ারির শুরুতে ছড়িয়ে পড়ে ‘নাসিমুল গনি (সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব) নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ভারতের ফার্স্টপোস্ট নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল ও বিডিডাইজেস্ট নামের পোর্টাল এটা ছড়িয়ে দেয়। তারা ২০০৮ সালে  দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রচার করে। 


কিন্তু, অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে যে, ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নাসিমুল গনি (Nasimul Gani) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব (বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব) নাসিমুল গনি (Nasimul Ghani) আলাদা ব্যক্তি। হিযবুত তাহ্‌রীরের নেতা নাসিমুল গনি ব্রিটিশ নাগরিক, যার প্রকৃত নাম নাসিম গনি (Nasim Gani)। 


অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (তৎকালীন) জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আমলা। তিনি বাংলাদেশি নাগরিক, তাঁর কোনো দ্বৈত পাসপোর্ট নেই, তিনি অন্য কোনো দেশে বসবাসও করেন না।


প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেক উইং থেকেও নাসিমুল গনির নামজনিত এই বিভ্রাটের তথ্য তখনই প্রকাশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশের মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমও প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেকের বারতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।  (বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে।)  


  মাহফুজ আলম  : গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ধারাবাহিক অপপ্রচার 


এছাড়াও, ইকোনমিক টাইমস অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকেও হিজবুত তাহরীরের (HuT) একজন সদস্য হিসেবে দাবি করা হয়।  


উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই মাহফুজ আলমকে নিয়ে এই ধরনের অপপ্রচার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় তাঁকে হিজবুত তাহরিরের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়। মাহফুজ আলমকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছিল, “২০১৯ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গী মাহফুজ আজকের প্রধান উপদেস্টার বিশেষ সহকারী এবং কথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে সরকার পতনের মাস্টারমাইণ্ড।”


তখন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত এক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৯ সালে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরের নেতা অভিযোগে আটক হওয়া মাহফুজ নামের ব্যক্তি এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম ভিন্ন দুইজন ব্যক্তি। (বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে।)





Topics:



চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
মিথ্যা
২৩ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

খাল খননের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করেছে কালের কণ্ঠ
বিভ্রান্তিকর
২১ এপ্রিল ২০২৬

খাল খননের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করেছে কালের কণ্ঠ



জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ছড়ানো মন্তব্যটি ভুয়া
মিথ্যা
২০ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ছড়ানো মন্তব্যটি ভুয়া

অবসর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার
মিথ্যা
১৯ এপ্রিল ২০২৬

অবসর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার

রমনা পার্কে নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্যকে ‘আতঙ্কবাদীর হামলা’ দাবি করে অপপ্রচার
মিথ্যা
১৩ এপ্রিল ২০২৬

রমনা পার্কে নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্যকে ‘আতঙ্কবাদীর হামলা’ দাবি করে অপপ্রচার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে নিয়ে দ্য ইকোনমিক টাইমসের অপপ্রচার

ফ্যাক্ট চেক

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে নিয়ে দ্য ইকোনমিক টাইমসের অপপ্রচার

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

<p><span style="font-size: 24px;">মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে নিয়ে দ্য ইকোনমিক টাইমসের অপপ্রচার</span><br /></p>

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে হিজবুত তাহরীরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং মাহফুজ আলমকে (সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা) হিজবুত তাহরীর সদস্য দাবি করে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস। বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দুজনের হিজবুত তাহরীরের সাথে সংশ্লিষ্টতা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। 


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ড. নাসিমুল গনিকে স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিযুক্ত করেছে…।’



নামজনিত বিভ্রাট: দুই নাসিমুল গনি, দুই ব্যক্তি


গত বছরের জানুয়ারির শুরুতে ছড়িয়ে পড়ে ‘নাসিমুল গনি (সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব) নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ভারতের ফার্স্টপোস্ট নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল ও বিডিডাইজেস্ট নামের পোর্টাল এটা ছড়িয়ে দেয়। তারা ২০০৮ সালে  দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রচার করে। 


কিন্তু, অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে যে, ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নাসিমুল গনি (Nasimul Gani) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব (বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব) নাসিমুল গনি (Nasimul Ghani) আলাদা ব্যক্তি। হিযবুত তাহ্‌রীরের নেতা নাসিমুল গনি ব্রিটিশ নাগরিক, যার প্রকৃত নাম নাসিম গনি (Nasim Gani)। 


অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (তৎকালীন) জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আমলা। তিনি বাংলাদেশি নাগরিক, তাঁর কোনো দ্বৈত পাসপোর্ট নেই, তিনি অন্য কোনো দেশে বসবাসও করেন না।


প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেক উইং থেকেও নাসিমুল গনির নামজনিত এই বিভ্রাটের তথ্য তখনই প্রকাশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশের মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমও প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেকের বারতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।  (বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে।)  


  মাহফুজ আলম  : গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ধারাবাহিক অপপ্রচার 


এছাড়াও, ইকোনমিক টাইমস অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকেও হিজবুত তাহরীরের (HuT) একজন সদস্য হিসেবে দাবি করা হয়।  


উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই মাহফুজ আলমকে নিয়ে এই ধরনের অপপ্রচার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় তাঁকে হিজবুত তাহরিরের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়। মাহফুজ আলমকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছিল, “২০১৯ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গী মাহফুজ আজকের প্রধান উপদেস্টার বিশেষ সহকারী এবং কথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে সরকার পতনের মাস্টারমাইণ্ড।”


তখন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত এক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৯ সালে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরের নেতা অভিযোগে আটক হওয়া মাহফুজ নামের ব্যক্তি এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম ভিন্ন দুইজন ব্যক্তি। (বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে।)