| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
হিযবুত তাহরীর নেতা নাসিম গনি ও মন্ত্রী পরিষদ সচিব নাসিমুল গনি দু'জন ভিন্ন ব্যক্তি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মন্ত্রিপরিষদের নতুন সচিব নাসিমুল গনিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সাবেক নেতা কিংবা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য দাবি করার কোনো ভিত্তি নাই। বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, বরং তিনি বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত।
নাসিমুল গনি কি আসলেই নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত?
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত বছরের জানুয়ারির শুরুতে ‘নাসিমুল গনি (সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব) নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন- এমন একটি দাবি ২০০৮ সালে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতের ফার্স্টপোস্ট নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল ও বিডিডাইজেস্ট নামের পোর্টালের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। সেটি তখন প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেক উইং ফ্যাক্টচেক করে সত্য প্রকাশ করে।
প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেক উইংয়ের প্রতিবেদন জানায়, ‘ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নাসিমুল গনি (Nasimul Gani) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব (বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব) নাসিমুল গনি (Nasimul Ghani) আলাদা ব্যক্তি। হিযবুত তাহ্রীরের নেতা নাসিমুল গনি ব্রিটিশ নাগরিক, যার প্রকৃত নাম নাসিম গনি (Nasim Gani)। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (তৎকালীন) জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আমলা। তিনি বাংলাদেশি নাগরিক, তাঁর কোনো দ্বৈত পাসপোর্ট নেই, তিনি অন্য কোনো দেশে বসবাসও করেন না।’
সেসময় প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেক উইংয়ের এই প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলোসহ একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান।
নাসিমুল গনিকে নিয়ে এমন গুজব প্রচারকারী পোর্টাল ‘বিডিডাইজেস্ট’ মূলত একটি আওয়ামী প্রপাগান্ডা হাতিয়ার। ‘বিডিডাইজেস্ট’- এর ছড়ানো বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা তথ্য নিয়ে বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
নাসিমুল গনি কি জামায়াতে ইসলামীপন্থী?
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রথম আলোতে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০১ সালে (বিএনপি শাসনামল) নাসিমুল গনি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদ থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পরে তাঁকে জামালপুরের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দায়িত্ব শেষে তিনি স্পিকারের একান্ত সচিব পদে নিযুক্ত হন।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালে (বিএনপি শাসনামল) নাসিমুল গনি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে নাসিমুল গনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০৭ সালে তাঁকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নাসিমুল গনিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) নিয়োগ করা হয় এবং চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তী সরকার নাসিমুল গনিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর, দেশরূপান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জান যায়, নাসিমুল গনি একসময় বিএনপি নেতা ও স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের পিএস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাছাড়া, জামায়েতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে নাসিমুল গনি জড়িত থাকার নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তিনি জামায়েতে ইসলামীপন্থী- এই দাবিগুলো কোনো সত্যতা নেই।
তথ্যসূত্র
প্রথম আলো
কালের কণ্ঠ
দেশরূপান্তর
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর
Topics:
Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
লালমনিরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা বেশি ভোট পেলেও ঘোষণার সময় ধানের শীষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে এমন দাবিটি মিথ্যা
গণভোটের গাণিতিক বিশ্লেষণের দাবিতে
আব্দুর নূর তুষারের ভুল তথ্য প্রচার
ভোট প্রদান ইস্যুতে ডিএমপি কমিশনারের
খণ্ডিত বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার
গণভোটের হার ১৪% দাবি করে আওয়ামী লীগের গুজব প্রচার
সেনাবাহিনীর একাংশ বিদ্রোহ করেছে দাবি
করে ভুয়া তথ্য প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
আনসার ক্যাম্পে হামলার দাবিটি ভুয়া ভিডিওটি প্রশিক্ষণের
সাম্প্রতিক নয়, অস্ত্র উদ্ধারের এই ছবিগুলো ২০২৪ সালের ৭ আগস্টের
আজ সোমবার দুপুর ২টায় গণভবনে প্রধান উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলন করবেন মর্মে গণমাধ্যমে যে খবর প্রচার হয়েছে, তা সঠিক নয়।
পিআইবি’র কোনো আলোচনায় অধ্যাপক মুশতাক খান জরিপ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি, সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন শুভ্রর দাবিটি সর্বৈব মিথ্যা
ফ্যাক্ট চেক
হিযবুত তাহরীর নেতা নাসিম গনি ও মন্ত্রী পরিষদ সচিব নাসিমুল গনি দু'জন ভিন্ন ব্যক্তি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মন্ত্রিপরিষদের নতুন সচিব নাসিমুল গনিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সাবেক নেতা কিংবা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য দাবি করার কোনো ভিত্তি নাই। বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, বরং তিনি বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত।
নাসিমুল গনি কি আসলেই নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত?
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত বছরের জানুয়ারির শুরুতে ‘নাসিমুল গনি (সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব) নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন- এমন একটি দাবি ২০০৮ সালে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতের ফার্স্টপোস্ট নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল ও বিডিডাইজেস্ট নামের পোর্টালের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। সেটি তখন প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেক উইং ফ্যাক্টচেক করে সত্য প্রকাশ করে।
প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেক উইংয়ের প্রতিবেদন জানায়, ‘ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নাসিমুল গনি (Nasimul Gani) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব (বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব) নাসিমুল গনি (Nasimul Ghani) আলাদা ব্যক্তি। হিযবুত তাহ্রীরের নেতা নাসিমুল গনি ব্রিটিশ নাগরিক, যার প্রকৃত নাম নাসিম গনি (Nasim Gani)। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (তৎকালীন) জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আমলা। তিনি বাংলাদেশি নাগরিক, তাঁর কোনো দ্বৈত পাসপোর্ট নেই, তিনি অন্য কোনো দেশে বসবাসও করেন না।’
সেসময় প্রধান উপদেষ্টার ফ্যাক্টচেক উইংয়ের এই প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলোসহ একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান।
নাসিমুল গনিকে নিয়ে এমন গুজব প্রচারকারী পোর্টাল ‘বিডিডাইজেস্ট’ মূলত একটি আওয়ামী প্রপাগান্ডা হাতিয়ার। ‘বিডিডাইজেস্ট’- এর ছড়ানো বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা তথ্য নিয়ে বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
নাসিমুল গনি কি জামায়াতে ইসলামীপন্থী?
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রথম আলোতে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০১ সালে (বিএনপি শাসনামল) নাসিমুল গনি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদ থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পরে তাঁকে জামালপুরের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দায়িত্ব শেষে তিনি স্পিকারের একান্ত সচিব পদে নিযুক্ত হন।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালে (বিএনপি শাসনামল) নাসিমুল গনি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে নাসিমুল গনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০৭ সালে তাঁকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নাসিমুল গনিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) নিয়োগ করা হয় এবং চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তী সরকার নাসিমুল গনিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর, দেশরূপান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জান যায়, নাসিমুল গনি একসময় বিএনপি নেতা ও স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের পিএস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাছাড়া, জামায়েতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে নাসিমুল গনি জড়িত থাকার নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তিনি জামায়েতে ইসলামীপন্থী- এই দাবিগুলো কোনো সত্যতা নেই।
তথ্যসূত্র
প্রথম আলো
কালের কণ্ঠ
দেশরূপান্তর
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর