| বিশ্লেষণ

ওসমান হাদির ভাইয়ের বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড প্রচার

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫


ওসমান হাদির ভাইয়ের বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড প্রচার


ওসমান হাদির ভাইয়ের বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনাম বানিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে, যা বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। এমনভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে মনে হতে পারে সরকার “খুন করিয়েছে” বলে দাবি করা হয়েছে, কিন্তু তাঁর পুরো বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় তিনি “এজেন্সির হয়ে” হত্যা করা হয়েছে দাবি করেছেন এবং সরকারের কাছে “শহীদ ওসমান হাদির গোটা খুনি চক্রকে জাতির সামনে উপস্থাপন” করার দাবি জানান।


শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করা এবং কাঙ্ক্ষিত ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ‘শহীদি শপথ’ পাঠের আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ। সেখানে ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি বক্তব্যের শুরুতে বলেন, “যে এজেন্সির হয়ে, যে রাষ্ট্রের হয়ে আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন; মনে রাখবেন, ওসমান হাদি কোনো এজেন্সি, কোনো রাষ্ট্র, কোনো তাঁবেদারের কাছে কখনোই মাথা নত করে নাই”। ওসমান হাদির ভাই ওমর এই বক্তব্যে কোন রাষ্ট্র বা কোন রাষ্ট্রের এজেন্সির কথা বলছেন, তা নির্দিষ্ট করেন নি।



ওসমান হাদির ভাই অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন, আর দুই মাস পরে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, বিদেশে চলে যাবেন। মনে রাখবেন, এই দেশের জনতা আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই। তাই সরকারকে অনুরোধ করব, দ্রুত খুনিদের আমাদের সামনে উপস্থাপন করুন। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে বিঘ্ন না হয়। খুনির বিচার করুন। আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতেছেন, তা আমরা কখনোই হতে দেব না। ’


এরমধ্যে “আপনারাই হাদিকে খুন করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতেছেন” অংশটুকু নিয়ে ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে। তবে খেয়াল করলে দেখা যায়, তিনি তাঁর বক্তব্যে এর আগে সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আপনারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে”। ফলে পরে যখন তিনি “খুন করিয়েছেন” বলেছেন, তিনি মূলত “ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হত্যা” হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।


অর্থাৎ এটি স্পষ্ট যে, ওসমান হাদির ভাই এই হত্যাকাণ্ড “এজেন্সির হয়ে” করা হয়েছে যেমন বলেছেন, তেমনি সরকার “ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়” হত্যাকাণ্ড হওয়ায় সরকারকে এটির দায় নিতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন। একইসাথে সরকারের কাছে বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। ফলে, ফটোকার্ডে বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ প্রচার করে ওসমান হাদির ভাই “সরকার খুন করিয়েছে” বলেছেন মর্মে যে বয়ান প্রচার করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।







Topics:





অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
৭ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে



অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
৭ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
বিভ্রান্তিকর
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
বিভ্রান্তিকর
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব

‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



ওসমান হাদির ভাইয়ের বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড প্রচার

বিশ্লেষণ

ওসমান হাদির ভাইয়ের বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড প্রচার

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

<p>ওসমান হাদির ভাইয়ের বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড প্রচার<br /></p>


ওসমান হাদির ভাইয়ের বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনাম বানিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে, যা বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। এমনভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে মনে হতে পারে সরকার “খুন করিয়েছে” বলে দাবি করা হয়েছে, কিন্তু তাঁর পুরো বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় তিনি “এজেন্সির হয়ে” হত্যা করা হয়েছে দাবি করেছেন এবং সরকারের কাছে “শহীদ ওসমান হাদির গোটা খুনি চক্রকে জাতির সামনে উপস্থাপন” করার দাবি জানান।


শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করা এবং কাঙ্ক্ষিত ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ‘শহীদি শপথ’ পাঠের আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ। সেখানে ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি বক্তব্যের শুরুতে বলেন, “যে এজেন্সির হয়ে, যে রাষ্ট্রের হয়ে আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন; মনে রাখবেন, ওসমান হাদি কোনো এজেন্সি, কোনো রাষ্ট্র, কোনো তাঁবেদারের কাছে কখনোই মাথা নত করে নাই”। ওসমান হাদির ভাই ওমর এই বক্তব্যে কোন রাষ্ট্র বা কোন রাষ্ট্রের এজেন্সির কথা বলছেন, তা নির্দিষ্ট করেন নি।



ওসমান হাদির ভাই অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন, আর দুই মাস পরে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, বিদেশে চলে যাবেন। মনে রাখবেন, এই দেশের জনতা আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই। তাই সরকারকে অনুরোধ করব, দ্রুত খুনিদের আমাদের সামনে উপস্থাপন করুন। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে বিঘ্ন না হয়। খুনির বিচার করুন। আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতেছেন, তা আমরা কখনোই হতে দেব না। ’


এরমধ্যে “আপনারাই হাদিকে খুন করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতেছেন” অংশটুকু নিয়ে ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে। তবে খেয়াল করলে দেখা যায়, তিনি তাঁর বক্তব্যে এর আগে সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আপনারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে”। ফলে পরে যখন তিনি “খুন করিয়েছেন” বলেছেন, তিনি মূলত “ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হত্যা” হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।


অর্থাৎ এটি স্পষ্ট যে, ওসমান হাদির ভাই এই হত্যাকাণ্ড “এজেন্সির হয়ে” করা হয়েছে যেমন বলেছেন, তেমনি সরকার “ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়” হত্যাকাণ্ড হওয়ায় সরকারকে এটির দায় নিতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন। একইসাথে সরকারের কাছে বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। ফলে, ফটোকার্ডে বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ প্রচার করে ওসমান হাদির ভাই “সরকার খুন করিয়েছে” বলেছেন মর্মে যে বয়ান প্রচার করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।