| বিশ্লেষণ

আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা

৯ এপ্রিল ২০২৬


আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা

দেশের একটি জাতীয় গণমাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ‘দেশী বি‌দেশী কোম্পা‌নিগু‌লোর সরকা‌রের কা‌ছে বিদ্যুত বি‌ক্রির বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা’- এমন শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এত টাকা বকেয়া থাকার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই। মূলত, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল থেকেই থেকেই এই বকেয়া সমস্যা বড় আকার ধারণ করে। অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তীতে এসব বকেয়ার টাকা পরিশোধের চেষ্টা করলেও এই বকেয়ার বৃহৎ অংশ শোধ হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকার এই বকেয়া শোধের আপ্রান চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে এই সরকার বিদ্যুৎ খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছে।


বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন গমণমাধ্যমে ‘দেশী বি‌দেশী কোম্পা‌নিগু‌লোর সরকা‌রের কা‌ছে বিদ্যুত বি‌ক্রির বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল থেকেই থেকেই এই বকেয়া সমস্যা সৃষ্টির কথা বলা হলেও দলটির সংঘঠিত সিন্ডিকেট ও পারিবারিক সংশ্লিষ্টতার কারণে এখনো হাজার হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকার তথ্য সমূহ উল্লেখ করেনি। প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ আছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সালের মে মাসে বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বিল ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।


দেশে গত ১৫ বছরের অর্থনীতির ফিরিস্তি নিয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে অন্তত ৬০০ কোটি ডলার নয়ছয় হয়। যা প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা (১ ডলার সমান ১২০ টাকা ধরে)। এর মধ্যে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দিতে কমিশন হিসেবে লুটপাট হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার। আর বিদ্যুৎকেন্দ্র না চালিয়ে কেন্দ্রভাড়া ও অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে বেসরকারি খাত নিয়ে যায় বাড়তি ৩০০ কোটি ডলার।

দৈনিক সমকালে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় খুচরায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ছিল ৩ টাকা ৭৩ পয়সা। বর্তমানে (রিপোর্ট প্রকাশের সময় পর্যন্ত) গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। সাড়ে ১৫ বছরে খুচরায় বিদ্যুতের দাম বাড়ে ১৪২ শতাংশ।

দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতিকে পুঁজি করে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ বিধান পাস করা হয় ২০১০ সালে। এই আইনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়। এর পর দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদার অবাস্তব প্রাক্কলন করে একের পর এক ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রয়োজন না থাকলেও অনেক প্রকল্প দেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ ‍উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকসহ প্রায় দুই ডজন সংসদ সদস্য সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা প্রকল্পের কাজ পান।


সামিট, ইউনাইটেড পাওয়ার, বাংলাক্যাট, মোহাম্মদী গ্রুপ, ডরিন, বারাক, সিনহাসহ বেশ কিছু কোম্পানি একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে। যদিও এত বেশি কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল না বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। ফলে অনেক কেন্দ্রই নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শত শত কোটি টাকা আয় করে সেই আমলে। 


দৈনিক আমার দেশে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এখনো বিদ্যুৎ খাতের মিটার ও ট্রান্সফরমারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাকাটা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের আমলের সময় সংঘঠিত সিন্ডিকেটের হাতেই আছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমটিকে জানান, আওয়ামী সরকারের আমলে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটই বিদ্যুৎ খাতের পুরো কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করছে। আর এ সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছেন সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি।


তবে দেখা গিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ খাতের ৫৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধের চেষ্টা করে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বৈদেশিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। 


বর্তমান বিএনপি সরকারও বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া পরিশোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। দৈনিক কালবেলায় গত ৩০ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,  বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লি. (বিসিপিসিএল) ও বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লি. (বিআইএফপিসিএল)-এর বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে জমে থাকা বিশাল অংকের বকেয়া ভর্তুকির দুই দফায় মোট ৫ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পরিশোষ করেছে বর্তমান সরকার।


জাগোনিউজ টুয়েন্টিফোরে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অপচয় ও লুটপাটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।  


অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়ক হিসেবে কাজ না করে উল্টো কোম্পানিগুলোর পরিচালনায় যুক্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত আমলারা বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান বা সদস্য হয়ে কার্যত মালিকের ভূমিকায় চলে যাচ্ছেন।’





Topics:



কালের কণ্ঠের  উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উদ্বেগ’ 




যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২%
৮ এপ্রিল ২০২৬

কালের কণ্ঠের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উদ্বেগ’ 

যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২%

অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে তথ্য সচিবকে জুলাইবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার
৫ এপ্রিল ২০২৬

অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে তথ্য সচিবকে জুলাইবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার



অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
৭ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে



অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
৭ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
বিভ্রান্তিকর
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা

বিশ্লেষণ

আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা

৯ এপ্রিল ২০২৬

<p>আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা<br /></p>

দেশের একটি জাতীয় গণমাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ‘দেশী বি‌দেশী কোম্পা‌নিগু‌লোর সরকা‌রের কা‌ছে বিদ্যুত বি‌ক্রির বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা’- এমন শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এত টাকা বকেয়া থাকার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই। মূলত, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল থেকেই থেকেই এই বকেয়া সমস্যা বড় আকার ধারণ করে। অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তীতে এসব বকেয়ার টাকা পরিশোধের চেষ্টা করলেও এই বকেয়ার বৃহৎ অংশ শোধ হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকার এই বকেয়া শোধের আপ্রান চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে এই সরকার বিদ্যুৎ খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছে।


বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন গমণমাধ্যমে ‘দেশী বি‌দেশী কোম্পা‌নিগু‌লোর সরকা‌রের কা‌ছে বিদ্যুত বি‌ক্রির বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল থেকেই থেকেই এই বকেয়া সমস্যা সৃষ্টির কথা বলা হলেও দলটির সংঘঠিত সিন্ডিকেট ও পারিবারিক সংশ্লিষ্টতার কারণে এখনো হাজার হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকার তথ্য সমূহ উল্লেখ করেনি। প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ আছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সালের মে মাসে বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বিল ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।


দেশে গত ১৫ বছরের অর্থনীতির ফিরিস্তি নিয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে অন্তত ৬০০ কোটি ডলার নয়ছয় হয়। যা প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা (১ ডলার সমান ১২০ টাকা ধরে)। এর মধ্যে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দিতে কমিশন হিসেবে লুটপাট হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার। আর বিদ্যুৎকেন্দ্র না চালিয়ে কেন্দ্রভাড়া ও অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে বেসরকারি খাত নিয়ে যায় বাড়তি ৩০০ কোটি ডলার।

দৈনিক সমকালে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় খুচরায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ছিল ৩ টাকা ৭৩ পয়সা। বর্তমানে (রিপোর্ট প্রকাশের সময় পর্যন্ত) গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। সাড়ে ১৫ বছরে খুচরায় বিদ্যুতের দাম বাড়ে ১৪২ শতাংশ।

দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতিকে পুঁজি করে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ বিধান পাস করা হয় ২০১০ সালে। এই আইনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়। এর পর দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদার অবাস্তব প্রাক্কলন করে একের পর এক ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রয়োজন না থাকলেও অনেক প্রকল্প দেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ ‍উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকসহ প্রায় দুই ডজন সংসদ সদস্য সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা প্রকল্পের কাজ পান।


সামিট, ইউনাইটেড পাওয়ার, বাংলাক্যাট, মোহাম্মদী গ্রুপ, ডরিন, বারাক, সিনহাসহ বেশ কিছু কোম্পানি একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে। যদিও এত বেশি কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল না বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। ফলে অনেক কেন্দ্রই নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শত শত কোটি টাকা আয় করে সেই আমলে। 


দৈনিক আমার দেশে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এখনো বিদ্যুৎ খাতের মিটার ও ট্রান্সফরমারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাকাটা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের আমলের সময় সংঘঠিত সিন্ডিকেটের হাতেই আছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমটিকে জানান, আওয়ামী সরকারের আমলে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটই বিদ্যুৎ খাতের পুরো কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করছে। আর এ সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছেন সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি।


তবে দেখা গিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ খাতের ৫৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধের চেষ্টা করে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বৈদেশিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। 


বর্তমান বিএনপি সরকারও বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া পরিশোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। দৈনিক কালবেলায় গত ৩০ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,  বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লি. (বিসিপিসিএল) ও বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লি. (বিআইএফপিসিএল)-এর বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে জমে থাকা বিশাল অংকের বকেয়া ভর্তুকির দুই দফায় মোট ৫ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পরিশোষ করেছে বর্তমান সরকার।


জাগোনিউজ টুয়েন্টিফোরে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অপচয় ও লুটপাটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।  


অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়ক হিসেবে কাজ না করে উল্টো কোম্পানিগুলোর পরিচালনায় যুক্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত আমলারা বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান বা সদস্য হয়ে কার্যত মালিকের ভূমিকায় চলে যাচ্ছেন।’