| বিশ্লেষণ
কালের কণ্ঠের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উদ্বেগ’
যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২%
৮ এপ্রিল ২০২৬
কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৮ এপ্রিলের ছাপা ও অনলাইন সংস্করণে বাংলাদশের প্রবাসী আয় নিয়ে সম্পূর্ণ ভুল শিরোনাম প্রকাশ করেছে। ‘যুদ্ধে রেমিট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ’শিরোনাম বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এছাড়াও পত্রিকাটি ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য দিয়ে যুদ্ধকালীন উদ্বেগ বিশ্লেষণ করতে চেয়েছে, অথচ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরুই হয়েছে মার্চ থেকে। কালের কণ্ঠের বিভ্রান্তিকর শিরোনামের খবর হুবহু ছেপেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।
২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩.০১ বিলিয়ন ডলার। মার্চ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের এক মাসে এই বৃদ্ধির হার ২৪.৬%। আবার গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর মার্চ মাসে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৩.৯% (সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক)। গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এই বৃদ্ধি যথাক্রমে ২১.৮৭% ও ৫১.৫৪% ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের
পরিসংখ্যান থেকেও যুদ্ধকালে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
লক্ষ্য করা যায়। গত
বছর জুলাইয়ে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার,
সেই তুলনায়ও ফেব্রুয়ারি-মার্চে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স বেড়েছে।
ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি হতে থাকায় কম রেমিট্যান্স আসা দেশগুলিতেও পরিস্থিতির
উন্নতির যৌক্তিক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে সেসব দেশে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্যও
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বাড়তি রেমিট্যান্স আসার সম্ভাবনাও জোরদার। তাহলে কালের কণ্ঠের
উদ্বেগের কারণটা কোথায়?
পত্রিকা দুটিতে মধ্যপ্রাচ্যের সবেচেয়ে বেশি রেমিট্যান্সের উৎস ৮ দেশের তথ্য দেখানো হয়েছে। এতে উদ্বেগের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় এ বছর ফেব্রুয়ারিতে বাহরাইন, জর্দান, ও ইরাক থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। তবে তাদের দেওয়া একই পরিসংখ্যান বলছে, বাকি ৫ দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। গত জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারিতে এই ৮ দেশ থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৭%।
২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। মূলত এরপর, অর্থাৎ মার্চ মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরু হয়। এক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি মাসের উপাত্ত দিয়ে ’যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ’ বলাটা যৌক্তিক নয়। দ্বিতীয়ত, মার্চ মাসের তথ্যও কালের কণ্ঠের উদ্বেগের বিপরীত চিত্রই হাজির করে।
Topics:
আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা
অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে তথ্য সচিবকে জুলাইবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার
অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
গাজীপুরে নিহত সাংবাদিক তুহিন কি আদৌ ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে কোনো লাইভ করেছিলেন?
ওসমান হাদির ঘটনায় ভারতীয় মিডিয়ায় আবারও “গ্রেটার বাংলাদেশ” অপপ্রচার
গণভোটের রায় নিয়ে বণিকবার্তার বিভ্রান্তিকর বিশ্লেষণ
গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতির বইয়ের প্রচ্ছদকে গ্রেটার বাংলাদেশ-এর ম্যাপ দাবিতে ভারতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার
বিশ্লেষণ
কালের কণ্ঠের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উদ্বেগ’
যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২%
৮ এপ্রিল ২০২৬
কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৮ এপ্রিলের ছাপা ও অনলাইন সংস্করণে বাংলাদশের প্রবাসী আয় নিয়ে সম্পূর্ণ ভুল শিরোনাম প্রকাশ করেছে। ‘যুদ্ধে রেমিট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ’শিরোনাম বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এছাড়াও পত্রিকাটি ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য দিয়ে যুদ্ধকালীন উদ্বেগ বিশ্লেষণ করতে চেয়েছে, অথচ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরুই হয়েছে মার্চ থেকে। কালের কণ্ঠের বিভ্রান্তিকর শিরোনামের খবর হুবহু ছেপেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।
২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩.০১ বিলিয়ন ডলার। মার্চ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের এক মাসে এই বৃদ্ধির হার ২৪.৬%। আবার গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর মার্চ মাসে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৩.৯% (সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক)। গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এই বৃদ্ধি যথাক্রমে ২১.৮৭% ও ৫১.৫৪% ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের
পরিসংখ্যান থেকেও যুদ্ধকালে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
লক্ষ্য করা যায়। গত
বছর জুলাইয়ে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার,
সেই তুলনায়ও ফেব্রুয়ারি-মার্চে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স বেড়েছে।
ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি হতে থাকায় কম রেমিট্যান্স আসা দেশগুলিতেও পরিস্থিতির
উন্নতির যৌক্তিক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে সেসব দেশে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্যও
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বাড়তি রেমিট্যান্স আসার সম্ভাবনাও জোরদার। তাহলে কালের কণ্ঠের
উদ্বেগের কারণটা কোথায়?
পত্রিকা দুটিতে মধ্যপ্রাচ্যের সবেচেয়ে বেশি রেমিট্যান্সের উৎস ৮ দেশের তথ্য দেখানো হয়েছে। এতে উদ্বেগের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় এ বছর ফেব্রুয়ারিতে বাহরাইন, জর্দান, ও ইরাক থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। তবে তাদের দেওয়া একই পরিসংখ্যান বলছে, বাকি ৫ দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। গত জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারিতে এই ৮ দেশ থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৭%।
২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। মূলত এরপর, অর্থাৎ মার্চ মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরু হয়। এক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি মাসের উপাত্ত দিয়ে ’যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ’ বলাটা যৌক্তিক নয়। দ্বিতীয়ত, মার্চ মাসের তথ্যও কালের কণ্ঠের উদ্বেগের বিপরীত চিত্রই হাজির করে।