| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
পারিবারিক কলহের ঘটনাকে অপহরণ ও ধর্ষণ দাবি করে অপপ্রচার
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
‘বিভৎস দেশ!উঠায়ে নিয়ে ধর্ষণ,ধর্ষণের পর নির্যাতন! নির্যাতিত চরম বিপদগ্রস্ত মেয়েটি লাইভে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন!’ - এমন শিরোনামে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি এক নারীকে উঠিয়ে নিয়ে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের পর নির্যাতনের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নুসরাত তানজুম নামের এক নারীর ফেসবুক লাইভের। শশুর বাড়িতে কলহের জেরে এই নারী নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি বাংলাফ্যাক্টকে জানান।
আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে আহত নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁজে পায় বাংলাফ্যাক্ট টিম। জানা যায়, এই নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম- Ali Tanzom Sorkar।
’Ali Tanzom Sorkar’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ২২ মিনিটে প্রচারিত ১৫ সেকেন্ডের একটি লাইভ ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিটিতে নারীকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলতে শোনা যায়, “একটু কেউ হেল্প করেন না।” এই ভিডিওটির সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।
ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করে, এই ভিডিওটির কিছুক্ষণ আগে অর্থাৎ রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ১৩ সেকেন্ডের অপর লাইভ ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে নারীটিকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে শুধু “ও আল্লাহ” বলতে শোনা যায়।
রাত ২ট ২৭ মিনিটে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি থেকে ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টটি থেকে জানা যায়, এটি শশুর বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে সংগঠিত একটি ঘটনা। এর সাথে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তাছাড়াও, নারীটির অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার দেওয়া ‘Channel A1’ নামক একটি পেজ থেকে ‘গাজীপুরের শ্রীপুরে পুত্রবধূকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।’ শিরোনামের একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মেয়েটি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ২ নং সিএন্ডবি বাজার এলাকার বাসিন্দা। নারীর নাম নুসরাত তানজুম। এই প্রতিবেদন থেকে পারিবারিক কলহের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা যায়।
প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক -এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাফ্যাক্টকে জানান, শশুর বাড়িতে উঠান ঝাড়ু দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে তর্কের এক পর্যায়ে রুমে গিয়ে মেয়েটি নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন।
পরবর্তীতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে আহত নারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “পাারিবারিক একটা ঘটনার কারণে আমি নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করি। তারপর বাড়িতে কল দিতে গিয়ে ফেসবুকে লাইভ হয়ে যায়।” এছাড়াও নারীটি তার নাম নুসরাত তানজুম বলে জানায়।
একই অ্যাকাউন্ট থেকে আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নারীটি লাইভে এসে একই তথ্য জানান।
অর্থাৎ, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
১. https://www.facebook.com/share/v/1D1N3rcLDb/
২. https://www.facebook.com/share/v/1FR37z7wEQ/
৩. https://www.facebook.com/share/p/1CeYi49DNR/
৪. https://www.facebook.com/share/v/17GUyHyPHK/
৫. https://www.facebook.com/ali.tanzom.sorkar
৬. https://www.facebook.com/share/v/1Zs1ocxmfw/
৭. Statement : Mohammad Abdul Barek, Officer-in-Charge (OC), Sreepur Police Station, Gazipur
৮. Statement: Nusrat Tanzom
Topics:
বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির প্রতিবাদে পাম্পে অগ্নিসংযোগ দাবি করে পুরনো ভিডিও প্রচার
১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় দোকান ভাঙচুর দাবি করে ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
অর্থমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ডকে কখনো বিএনপি আবার কখনো জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ব্যবহার
নাগরিক টিভির ফটোকার্ড বিকৃত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ফ্যাক্ট চেক
পারিবারিক কলহের ঘটনাকে অপহরণ ও ধর্ষণ দাবি করে অপপ্রচার
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
‘বিভৎস দেশ!উঠায়ে নিয়ে ধর্ষণ,ধর্ষণের পর নির্যাতন! নির্যাতিত চরম বিপদগ্রস্ত মেয়েটি লাইভে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন!’ - এমন শিরোনামে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি এক নারীকে উঠিয়ে নিয়ে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের পর নির্যাতনের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নুসরাত তানজুম নামের এক নারীর ফেসবুক লাইভের। শশুর বাড়িতে কলহের জেরে এই নারী নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি বাংলাফ্যাক্টকে জানান।
আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে আহত নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁজে পায় বাংলাফ্যাক্ট টিম। জানা যায়, এই নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম- Ali Tanzom Sorkar।
’Ali Tanzom Sorkar’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ২২ মিনিটে প্রচারিত ১৫ সেকেন্ডের একটি লাইভ ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিটিতে নারীকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলতে শোনা যায়, “একটু কেউ হেল্প করেন না।” এই ভিডিওটির সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।
ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করে, এই ভিডিওটির কিছুক্ষণ আগে অর্থাৎ রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ১৩ সেকেন্ডের অপর লাইভ ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে নারীটিকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে শুধু “ও আল্লাহ” বলতে শোনা যায়।
রাত ২ট ২৭ মিনিটে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি থেকে ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টটি থেকে জানা যায়, এটি শশুর বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে সংগঠিত একটি ঘটনা। এর সাথে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তাছাড়াও, নারীটির অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার দেওয়া ‘Channel A1’ নামক একটি পেজ থেকে ‘গাজীপুরের শ্রীপুরে পুত্রবধূকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।’ শিরোনামের একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মেয়েটি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ২ নং সিএন্ডবি বাজার এলাকার বাসিন্দা। নারীর নাম নুসরাত তানজুম। এই প্রতিবেদন থেকে পারিবারিক কলহের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা যায়।
প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক -এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাফ্যাক্টকে জানান, শশুর বাড়িতে উঠান ঝাড়ু দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে তর্কের এক পর্যায়ে রুমে গিয়ে মেয়েটি নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন।
পরবর্তীতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে আহত নারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “পাারিবারিক একটা ঘটনার কারণে আমি নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করি। তারপর বাড়িতে কল দিতে গিয়ে ফেসবুকে লাইভ হয়ে যায়।” এছাড়াও নারীটি তার নাম নুসরাত তানজুম বলে জানায়।
একই অ্যাকাউন্ট থেকে আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নারীটি লাইভে এসে একই তথ্য জানান।
অর্থাৎ, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
১. https://www.facebook.com/share/v/1D1N3rcLDb/
২. https://www.facebook.com/share/v/1FR37z7wEQ/
৩. https://www.facebook.com/share/p/1CeYi49DNR/
৪. https://www.facebook.com/share/v/17GUyHyPHK/
৫. https://www.facebook.com/ali.tanzom.sorkar
৬. https://www.facebook.com/share/v/1Zs1ocxmfw/
৭. Statement : Mohammad Abdul Barek, Officer-in-Charge (OC), Sreepur Police Station, Gazipur
৮. Statement: Nusrat Tanzom