| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার নামে বিকৃত বক্তব্য প্রচার

১৪ মে ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার নামে বিকৃত বক্তব্য প্রচার
বিকৃত

‘তারেক রহমানের পুরোনো দুর্নীতির ইতিহাস এবং ভবিষ্যতে তারেক রহমান দুর্নীতি করতে পারে, মূলত এই সন্দেহে, এই আশঙ্কায় আইএমএফ বাংলাদেশকে নতুন ঋণ তো দূরের কথা পুরোনো লোনেও কোনো ছাড় দিবে না’ - এমন মন্তব্য হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া করেছেন দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। 



ভিডিওতে ড. রেজা কিবরিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের আইএমএফ এর লোন হয়নি, কারণ ভবিষ্যতে তারেক রহমান সাহেব দুর্নীতি করতে পারে। তারেক রহমান সাহেব বেচারা দুই মাস প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, উনার বিরুদ্ধে আইএমএফ এর স্টেটমেন্টে এই ধরনের কথা বলা আমাদের কাছে খুবই আপত্তিকর।’


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ড. রেজা কিবরিয়া এমন কোনো মন্তব্য করেননি। মূলত, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ড. রেজা কিবরিয়ার একটি ভিন্ন বক্তব্য কাটছাঁট করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আলোচিত বক্তব্যটি তৈরি করা হয়েছে। 


এই বিষয়ে অনুসন্ধানে সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার ফেসবুক পেজে গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত একটি ভিডিওতে একই দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি একটা ইন্টারনেটে দেখলাম একটা অদ্ভুত একটা জার্নালিস্টের মন্তব্য, যে আমাদের আইএমএফ এর লোন হয়নি কারণ ভবিষ্যতে তারেক রহমান সাহেব দুর্নীতি করতে পারে। তো এক নম্বর এই লোকটা ভবিষ্যতে কথা আইএমএফ কখনো বলবে না, ভবিষ্যতে কে কি হবে এবং কথাটা একেবারে মিথ্যা। মানে আমি মনে করি যে সে অনেকটা কেষ্টা বেটার মতোই, যে নির্বোধ অতিঘোর এ কিছুই জানে না। আইএমএফ কোনদিন দুর্নীতির ব্যাপারে কোন মন্তব্য করে না। কোনদিন কোন রিপোর্টে এটা দেখবে না।’


তিনি আরও বলেন, ‘আর যেখানে হাসিনার মত একটা বিশ্ব বিখ্যাত দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলাকে লোন দিচ্ছিল তারা, তারা তারেক রহমান সাহেব বেচারা দুই মাস প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। উনার বিরুদ্ধে এই ধরনের কথা বলার কোন যুক্তি নাই এবং তারা কখনো করেও না। আমি আমার ২৫ বছর অভিজ্ঞতায় কখনো দেখিনি যে, আমাদের স্টেটমেন্ট আইএমএফ এর স্টেটমেন্টে, দুর্নীতি নিয়ে কোন কিছু বলা হয়। এটা হয় না। সরি, এটা অন্য সংস্থার দায়িত্ব। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলতে পারে, কিন্তু আইএমএফ কখনো বলে না। আইএমএফ লোনের ব্যবস্থা করে। তারা মার্কসকে দিয়েছিল। আমি ছিলাম সেই মিশনে যেখানে মার্কসকে আরো বড় লোন দিয়েছিল। তো আমার… এই নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের কোন এটা একট ষড়যন্ত্র। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে এই ধরনের কথা বলা আমাদের কাছে খুবই আপত্তিকর।’


রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা এই সরকারের অংশ। আমার প্রধানমন্ত্রী এসব দুর্নীতি করেন না এবং আমাদের সিনিয়র নেতাদের এই জার্নালিস্টের বিরুদ্ধে তার কথাগুলি ভাইরাল হয়েছে ইন্টারনেটে। ওর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়াটা আমি মনে করি খুব জরুরি। ধন্যবাদ।’



তাঁর এই পুরো বক্তব্য থেকে ‘আমাদের আইএমএফ এর লোন হয়নি, কারণ ভবিষ্যতে তারেক রহমান সাহেব দুর্নীতি করতে পারে’, ‘তারেক রহমান সাহেব বেচারা দুই মাস প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন’, ‘উনার বিরুদ্ধে’, ‘আইএমএফ এর স্টেটমেন্টে’, ‘এই ধরনের কথা বলা আমাদের কাছে খুবই আপত্তিকর’- এসব লাইন কাটছাঁট করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।


অর্থাৎ, ‘তারেক রহমানের পুরোনো দুর্নীতির ইতিহাস এবং ভবিষ্যতে তারেক রহমান দুর্নীতি করতে পারে, মূলত এই সন্দেহে, এই আশঙ্কায় আইএ,এফ বাংলাদেশকে নতুন ঋণ তো দূরের কথা পুরোনো লোনেও কোনো ছাড় দিবেনা’ - এমন মন্তব্য ড. রেজা কিবরিয়া করেননি এবং একই দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি বিকৃত।


তথ্যসূত্র

  • ড. রেজা কিবরিয়া - ফেসবুক




Topics:

Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট

নারীশিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ভিডিওটি পুরোনো
বিভ্রান্তিকর
১৪ মে ২০২৬

নারীশিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ভিডিওটি পুরোনো

যুগান্তরের ফটোকার্ড বিকৃত করে বাংলাদেশকে জাড়িয়ে ট্রাম্পের নামে ভুয়া তথ্য প্রচার
মিথ্যা
১৪ মে ২০২৬

যুগান্তরের ফটোকার্ড বিকৃত করে বাংলাদেশকে জাড়িয়ে ট্রাম্পের নামে ভুয়া তথ্য প্রচার

মুন্নী সাহা আটক হওয়ার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৪ সালের
বিভ্রান্তিকর
১৩ মে ২০২৬

মুন্নী সাহা আটক হওয়ার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৪ সালের

ব্যারিস্টার সুমন জামিন পেয়েছেন, মুক্তি নয়
মিথ্যা
১২ মে ২০২৬

ব্যারিস্টার সুমন জামিন পেয়েছেন, মুক্তি নয়

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বহু লোকের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দাবিটি ভুয়া, ছড়ানো ভিডিওটি হুগলির ইজতেমার
মিথ্যা
৭ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বহু লোকের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দাবিটি ভুয়া, ছড়ানো ভিডিওটি হুগলির ইজতেমার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার নামে বিকৃত বক্তব্য প্রচার

ফ্যাক্ট চেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার নামে বিকৃত বক্তব্য প্রচার

১৪ মে ২০২৬

<p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার নামে বিকৃত বক্তব্য প্রচার  
<br /></p>

‘তারেক রহমানের পুরোনো দুর্নীতির ইতিহাস এবং ভবিষ্যতে তারেক রহমান দুর্নীতি করতে পারে, মূলত এই সন্দেহে, এই আশঙ্কায় আইএমএফ বাংলাদেশকে নতুন ঋণ তো দূরের কথা পুরোনো লোনেও কোনো ছাড় দিবে না’ - এমন মন্তব্য হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া করেছেন দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। 



ভিডিওতে ড. রেজা কিবরিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের আইএমএফ এর লোন হয়নি, কারণ ভবিষ্যতে তারেক রহমান সাহেব দুর্নীতি করতে পারে। তারেক রহমান সাহেব বেচারা দুই মাস প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, উনার বিরুদ্ধে আইএমএফ এর স্টেটমেন্টে এই ধরনের কথা বলা আমাদের কাছে খুবই আপত্তিকর।’


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ড. রেজা কিবরিয়া এমন কোনো মন্তব্য করেননি। মূলত, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ড. রেজা কিবরিয়ার একটি ভিন্ন বক্তব্য কাটছাঁট করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আলোচিত বক্তব্যটি তৈরি করা হয়েছে। 


এই বিষয়ে অনুসন্ধানে সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার ফেসবুক পেজে গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত একটি ভিডিওতে একই দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি একটা ইন্টারনেটে দেখলাম একটা অদ্ভুত একটা জার্নালিস্টের মন্তব্য, যে আমাদের আইএমএফ এর লোন হয়নি কারণ ভবিষ্যতে তারেক রহমান সাহেব দুর্নীতি করতে পারে। তো এক নম্বর এই লোকটা ভবিষ্যতে কথা আইএমএফ কখনো বলবে না, ভবিষ্যতে কে কি হবে এবং কথাটা একেবারে মিথ্যা। মানে আমি মনে করি যে সে অনেকটা কেষ্টা বেটার মতোই, যে নির্বোধ অতিঘোর এ কিছুই জানে না। আইএমএফ কোনদিন দুর্নীতির ব্যাপারে কোন মন্তব্য করে না। কোনদিন কোন রিপোর্টে এটা দেখবে না।’


তিনি আরও বলেন, ‘আর যেখানে হাসিনার মত একটা বিশ্ব বিখ্যাত দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলাকে লোন দিচ্ছিল তারা, তারা তারেক রহমান সাহেব বেচারা দুই মাস প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। উনার বিরুদ্ধে এই ধরনের কথা বলার কোন যুক্তি নাই এবং তারা কখনো করেও না। আমি আমার ২৫ বছর অভিজ্ঞতায় কখনো দেখিনি যে, আমাদের স্টেটমেন্ট আইএমএফ এর স্টেটমেন্টে, দুর্নীতি নিয়ে কোন কিছু বলা হয়। এটা হয় না। সরি, এটা অন্য সংস্থার দায়িত্ব। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলতে পারে, কিন্তু আইএমএফ কখনো বলে না। আইএমএফ লোনের ব্যবস্থা করে। তারা মার্কসকে দিয়েছিল। আমি ছিলাম সেই মিশনে যেখানে মার্কসকে আরো বড় লোন দিয়েছিল। তো আমার… এই নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের কোন এটা একট ষড়যন্ত্র। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে এই ধরনের কথা বলা আমাদের কাছে খুবই আপত্তিকর।’


রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা এই সরকারের অংশ। আমার প্রধানমন্ত্রী এসব দুর্নীতি করেন না এবং আমাদের সিনিয়র নেতাদের এই জার্নালিস্টের বিরুদ্ধে তার কথাগুলি ভাইরাল হয়েছে ইন্টারনেটে। ওর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়াটা আমি মনে করি খুব জরুরি। ধন্যবাদ।’



তাঁর এই পুরো বক্তব্য থেকে ‘আমাদের আইএমএফ এর লোন হয়নি, কারণ ভবিষ্যতে তারেক রহমান সাহেব দুর্নীতি করতে পারে’, ‘তারেক রহমান সাহেব বেচারা দুই মাস প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন’, ‘উনার বিরুদ্ধে’, ‘আইএমএফ এর স্টেটমেন্টে’, ‘এই ধরনের কথা বলা আমাদের কাছে খুবই আপত্তিকর’- এসব লাইন কাটছাঁট করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।


অর্থাৎ, ‘তারেক রহমানের পুরোনো দুর্নীতির ইতিহাস এবং ভবিষ্যতে তারেক রহমান দুর্নীতি করতে পারে, মূলত এই সন্দেহে, এই আশঙ্কায় আইএ,এফ বাংলাদেশকে নতুন ঋণ তো দূরের কথা পুরোনো লোনেও কোনো ছাড় দিবেনা’ - এমন মন্তব্য ড. রেজা কিবরিয়া করেননি এবং একই দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি বিকৃত।


তথ্যসূত্র

  • ড. রেজা কিবরিয়া - ফেসবুক