| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
শিশু নিখোঁজ নিয়ে মহিলা পরিষদের ‘৩১ হাজার শিশু নিখোঁজ’ তথ্যটি ভুল
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ‘রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় থানায় ৩১ হাজারের বেশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে এখনও চার হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান মেলেনি।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিবৃতিতে বলেছে, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে। একই সময়ে ১০-১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও এক হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজের তথ্যটি সঠিক নয়। শিশু নিখোঁজের মোট সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৭ জন। চার হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান মেলেনি এমন তথ্যও সঠিক নয়, উদ্ধার না হওয়া শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৮ জন।
এই বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তাদের বক্তব্যে জানায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ জিডি হয়েছে ৪৭৪, উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন, উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩, উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৩ জন, উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। আলোচ্য সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ নিখোঁজ শিশুর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজের শতকরা ১৩ ভাগ।
যেভাবে ভুল করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলেছে, ‘শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।’
এটা ছিল শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী এবং ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের মোট তথ্যের হিসাব। এটাকে তারা শুধুমাত্র শূন্য থেকে নয় বছর বয়সীর তথ্য বলে ভুল উপস্থাপন করেছে। প্রকৃতপক্ষে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ৪৭৪টি, উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন।
আবার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আলাদা করে বলেছে, ‘১০-১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও এক হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
এটি মূলত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের তথ্যের হিসাব। এর সঙ্গে তারা আবার মোট হিসাব যোগ করে ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজের ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে।
Topics:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডাকাত দলকে গণপিটুনির দৃশ্য; ছড়ানো হচ্ছে বর্তমান সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ভুয়া দাবিতে
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
রাজবাড়ীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার দাবি সত্য নয়; ভিডিওটি ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার
ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবরটি মিথ্যা
ভুয়া পেজের বরাতে মিথ্যা তথ্য প্রচার:
সালমান এফ রহমান কারামুক্ত হননি
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
টিএমসি আবার জিতলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরার দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি সাজানো
পাকিস্তানে সরকারিভাবে 'জুলাই দিবস' পালন করা হয়নি, বরং দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে
গণভোটের গাণিতিক বিশ্লেষণের দাবিতে
আব্দুর নূর তুষারের ভুল তথ্য প্রচার
হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
ফ্যাক্ট চেক
শিশু নিখোঁজ নিয়ে মহিলা পরিষদের ‘৩১ হাজার শিশু নিখোঁজ’ তথ্যটি ভুল
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ‘রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় থানায় ৩১ হাজারের বেশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে এখনও চার হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান মেলেনি।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিবৃতিতে বলেছে, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে। একই সময়ে ১০-১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও এক হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজের তথ্যটি সঠিক নয়। শিশু নিখোঁজের মোট সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৭ জন। চার হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান মেলেনি এমন তথ্যও সঠিক নয়, উদ্ধার না হওয়া শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৮ জন।
এই বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তাদের বক্তব্যে জানায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ জিডি হয়েছে ৪৭৪, উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন, উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩, উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৩ জন, উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। আলোচ্য সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ নিখোঁজ শিশুর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজের শতকরা ১৩ ভাগ।
যেভাবে ভুল করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলেছে, ‘শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।’
এটা ছিল শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী এবং ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের মোট তথ্যের হিসাব। এটাকে তারা শুধুমাত্র শূন্য থেকে নয় বছর বয়সীর তথ্য বলে ভুল উপস্থাপন করেছে। প্রকৃতপক্ষে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ৪৭৪টি, উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন।
আবার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আলাদা করে বলেছে, ‘১০-১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও এক হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
এটি মূলত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের তথ্যের হিসাব। এর সঙ্গে তারা আবার মোট হিসাব যোগ করে ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজের ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে।