| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
মেট্রোরেল বন্ধ নয়, মনোরেল দিয়ে সংযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন তারেক রহমান
২৪ আগস্ট ২০২৬
“মেট্রোরেলের খরচ খুব বেশি, ক্ষমতায় আসলে জনগনের সুবিধার্থে মেট্রোরেল বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল লোকাল বাস চালু করবো আমরা” –এমন মন্তব্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান করেছেন দাবি করে ফটোকার্ড প্রচার করেছে ‘Daily DUCSU’ নামক একটি ফেসবুক পেজ।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান মেট্রোরেল বন্ধ করে দেবেন বলে কোনো মন্তব্য করেননি; বরং তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি 'মনোরেল' (Monorail) চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন।
তারেক রহমান ২০ জানুয়ারি রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বনানী সোসাইটি আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় ঢাকার যানজট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,
“আপনারা যারা ইউরোপে গিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন—ইউকে-তে গিয়েছেন বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন—আপনারা দেখেছেন যে পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে ডেভেলপ করার মাধ্যমেই কিন্তু সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে। ব্রিটেনে আমি দেখেছি যে, সেই দেশের এমপি বলেন, মন্ত্রী বলেন, তাঁরা পাবলিক ট্রান্সপোর্টেই কিন্তু ঘোরাফেরা করছেন; সেটা বাসে হোক, সেটা ট্রেনে হোক, টিউবে হোক তাঁরা ঘোরাফেরা করছেন। আমরা নিশ্চয়ই পারব, কেন পারব না? ওরা যদি পেরে থাকে, আমরাও পারব।
তবে বিষয়টা হচ্ছে এখানে যে, কীভাবে পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে ডেভেলপ করা যায়। সেটি মনোরেল হতে পারে। মেট্রোরেল থেকে লেস কস্টলি হচ্ছে মনোরেল। এক্সপার্টদের বক্তব্য হিসেবে উনারা আমাকে যেটা প্রেজেন্ট করেছেন যে সেটা, মনোরেল বসানো ইজি; আবার আপনি ওটাকে কন্টেইনারের মতো অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েও বসাতে পারবেন এবং ওটার খরচও কম। খরচ কম হলে স্বাভাবিকভাবেই ওটার ভাড়াও কম হবে, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সুবিধাও হবে। কাজেই মনোরেলকে আমরা এক্সপার্টদের বক্তব্য অনুযায়ী বনানীর ভেতর দিয়ে যে ১১ নম্বর রোড, এটার ভেতর দিয়ে আমরা মনোরেল নিয়ে যেতে পারব।
মনোরেল নিয়ে আমরা মেট্রোরেল যেখানে করা হয়েছেন এটাকে তো আমরা ভেঙে ফেলতে পারব না; কারণ এখানে অলরেডি জনগণের অর্থ খরচ হয়ে গিয়েছে। কাজেই মনোরেলটাকে নিয়ে আমরা কানেক্ট করতে পারব, মেট্রোরেল যেখান থেকে, ও আবার চলে যেতে পারবে বিভিন্ন জায়গায় একটা মানুষ । সো আবার মোহাম্মদপুরের ভেতর দিয়ে আমরা মনোরেল নিয়ে এসে ওখানে যে কানেক্টিভিটি আছে মেট্রোরেলের, সেখানে কানেক্ট করতে পারব।
সো এভাবে করে আমরা ট্রাফিকটাকে সমাধান করব। কারণ যতই আমরা শহরকে এক্সপ্যান্ড করি না কেন, ট্রাফিক ততই বাড়তে থাকবে, গাড়িগোড়া ততই বাড়তে থাকবে। কিন্তু আমরা যদি পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে অন্তত এরকম একটা স্টেজে আনতে পারি যেখানে, এখানে যারা মঞ্চে বসে আছেন অথবা আমার সামনে যারা বসে আছেন, আমরা যদি কমফর্ট ফিল করি যে হ্যাঁ, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে আমরা চলাচল করতে পারব, সেক্ষেত্রে কিন্তু ট্রাফিক কনজেশন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসবে। পৃথিবীর অন্য দেশেও আমরা এটা দেখছি। আমাদের সামনে যেহেতু ওরকম উদাহরণ আছে, কাজেই আমাদের দেশেও আমরা নিশ্চয়ই সেটা করতে পারব।"
অর্থাৎ, তারেক রহমান মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল ব্যবস্থা চালু করার কথা বলেছেন। মেট্রোরেল বন্ধ করে দেওয়া হবে – এমন কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।
Topics:
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের গাড়িতে হামলা দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি আওয়ামী আমলের
জমি দখলে বাধা দেওয়ায় নারীর ওপর বিএনপি নেতার হামলার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের
যুবকের ‘আমি নারায়ণগঞ্জ জেলার ডন’ বলার ভিডিওটি নাটিকার অংশ;
গণমাধ্যম প্রকাশ করলো সত্য দাবি করে
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
বিদ্যুৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের স্থানই এখনো চূড়ান্ত হয়নি; নকশা দাবি করে ছড়ানো ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি
তারেক রহমানের কারাদণ্ড নিয়ে কিছু বলেননি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
চট্টগ্রামে সন্তানের সামনে বাবাকে বিএনপি নেতার হত্যার দাবিটি মিথ্যা, ভিডিওটি ভারতের
রায় প্রত্যাখ্যান করে ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি
অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই বিবৃতিতে নাম ব্যবহারের অভিযোগ
ফ্যাক্ট চেক
মেট্রোরেল বন্ধ নয়, মনোরেল দিয়ে সংযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন তারেক রহমান
২৪ আগস্ট ২০২৬
“মেট্রোরেলের খরচ খুব বেশি, ক্ষমতায় আসলে জনগনের সুবিধার্থে মেট্রোরেল বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল লোকাল বাস চালু করবো আমরা” –এমন মন্তব্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান করেছেন দাবি করে ফটোকার্ড প্রচার করেছে ‘Daily DUCSU’ নামক একটি ফেসবুক পেজ।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান মেট্রোরেল বন্ধ করে দেবেন বলে কোনো মন্তব্য করেননি; বরং তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি 'মনোরেল' (Monorail) চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন।
তারেক রহমান ২০ জানুয়ারি রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বনানী সোসাইটি আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় ঢাকার যানজট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,
“আপনারা যারা ইউরোপে গিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন—ইউকে-তে গিয়েছেন বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন—আপনারা দেখেছেন যে পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে ডেভেলপ করার মাধ্যমেই কিন্তু সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে। ব্রিটেনে আমি দেখেছি যে, সেই দেশের এমপি বলেন, মন্ত্রী বলেন, তাঁরা পাবলিক ট্রান্সপোর্টেই কিন্তু ঘোরাফেরা করছেন; সেটা বাসে হোক, সেটা ট্রেনে হোক, টিউবে হোক তাঁরা ঘোরাফেরা করছেন। আমরা নিশ্চয়ই পারব, কেন পারব না? ওরা যদি পেরে থাকে, আমরাও পারব।
তবে বিষয়টা হচ্ছে এখানে যে, কীভাবে পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে ডেভেলপ করা যায়। সেটি মনোরেল হতে পারে। মেট্রোরেল থেকে লেস কস্টলি হচ্ছে মনোরেল। এক্সপার্টদের বক্তব্য হিসেবে উনারা আমাকে যেটা প্রেজেন্ট করেছেন যে সেটা, মনোরেল বসানো ইজি; আবার আপনি ওটাকে কন্টেইনারের মতো অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েও বসাতে পারবেন এবং ওটার খরচও কম। খরচ কম হলে স্বাভাবিকভাবেই ওটার ভাড়াও কম হবে, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সুবিধাও হবে। কাজেই মনোরেলকে আমরা এক্সপার্টদের বক্তব্য অনুযায়ী বনানীর ভেতর দিয়ে যে ১১ নম্বর রোড, এটার ভেতর দিয়ে আমরা মনোরেল নিয়ে যেতে পারব।
মনোরেল নিয়ে আমরা মেট্রোরেল যেখানে করা হয়েছেন এটাকে তো আমরা ভেঙে ফেলতে পারব না; কারণ এখানে অলরেডি জনগণের অর্থ খরচ হয়ে গিয়েছে। কাজেই মনোরেলটাকে নিয়ে আমরা কানেক্ট করতে পারব, মেট্রোরেল যেখান থেকে, ও আবার চলে যেতে পারবে বিভিন্ন জায়গায় একটা মানুষ । সো আবার মোহাম্মদপুরের ভেতর দিয়ে আমরা মনোরেল নিয়ে এসে ওখানে যে কানেক্টিভিটি আছে মেট্রোরেলের, সেখানে কানেক্ট করতে পারব।
সো এভাবে করে আমরা ট্রাফিকটাকে সমাধান করব। কারণ যতই আমরা শহরকে এক্সপ্যান্ড করি না কেন, ট্রাফিক ততই বাড়তে থাকবে, গাড়িগোড়া ততই বাড়তে থাকবে। কিন্তু আমরা যদি পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে অন্তত এরকম একটা স্টেজে আনতে পারি যেখানে, এখানে যারা মঞ্চে বসে আছেন অথবা আমার সামনে যারা বসে আছেন, আমরা যদি কমফর্ট ফিল করি যে হ্যাঁ, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে আমরা চলাচল করতে পারব, সেক্ষেত্রে কিন্তু ট্রাফিক কনজেশন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসবে। পৃথিবীর অন্য দেশেও আমরা এটা দেখছি। আমাদের সামনে যেহেতু ওরকম উদাহরণ আছে, কাজেই আমাদের দেশেও আমরা নিশ্চয়ই সেটা করতে পারব।"
অর্থাৎ, তারেক রহমান মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল ব্যবস্থা চালু করার কথা বলেছেন। মেট্রোরেল বন্ধ করে দেওয়া হবে – এমন কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।