| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়
বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে
২ মার্চ ২০২৬
সম্প্রতি, ‘তারেক জমানায় জিজিয়া কর! চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দু বিয়ে বাড়িতে হামলা সন্ত্রাসীদের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এই মূহুর্তে।
সংবাদের বিস্তারিত অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকার বদলালেও বাংলাদেশ আছে বাংলাদেশেই। তারেক রহমানের সরকারের জমানাতেও হিন্দুদের উপরে হামলা থামছে না। এবার ৩০ হাজার টাকা চাঁদা না পাওয়ায় হিন্দু পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালাল সন্ত্রাসীরা। ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মারধরও করা হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। আহত হয়েছেন বরের বাবা, জেঠিমা ও ভাই। থানায় আভিযোগ দায়ের হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।…………’
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। বিয়ে বাড়িতে সাধারণ চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলাকে ‘জিজিয়া কর’ না দেওয়ার কারণে হামলা বলে প্রচার করা হয়েছে।
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক ইনকিলাবের ওয়েবসাইটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘মতলবে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ে বাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা চাঁদা দাবি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় বরের বাবা, ভাই ও জেঠাসহ তিনজন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন- ত্রিনাথ বিশ্বাস (৩২), বাবু লাল বিশ্বাস (৬০) ও বৃজন রানী (৪৫)। আহতরা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়েরকান্দি গ্রামের জীবন চন্দ্র দাসের বাড়িতে বাবু লাল বিশ্বাসের ছেলে সেম্বু নাথের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় পাশ্ববর্তী এলাকার নবীর হোসেনের ছেলে মহনের (২৫) নেতৃত্বে আল আমিনের ছেলে আরমান (১৮), বারেক বকাউলের ছেলে আবির হোসেন (১৬) ও জিসান’সহ (১৮) কয়েকজন অনুষ্ঠানে এসে প্রথমে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তারা ৩০ হাজার টাকায় নেমে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকপক্ষ তিন হাজার টাকা দিলেও তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। একপর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে বরের পিতা বাবু লাল বিশ্বাস ও ভাই ত্রিনাথ বিশ্বাসকে মারধর করে টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর ও আশপাশে বাড়িরঘরে হামলা করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত ত্রিনাথ বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রবাসে থাকি। ভাইয়ের বিয়েতে দেশে এসেছি। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছিল, আমরা কেরাম খেলছিলাম। তখন কিশোর গ্যাং এসে হামলা চালায়। আমার গলার স্বর্ণের চেইন এবং ছোট ভাইয়ের গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমার মাথা ফেটে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় আমরা তারাবির নামাজে ছিলাম। পরে খবর পেয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
পরবর্তীতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে মতলব উত্তর থানার ওসি প্রদীপ মণ্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনার সাথে জিজিয়া করের কোনো সম্পর্ক নেই।
মামালার তদন্ত কর্মকর্তা জাফর আহমেদ বাংলাফ্যাক্টকে জানান, গানবাজনাকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা কিশোর গ্যাং। তাদেরকে ধরতে আমরা অভিযান চালাচ্ছি।
অর্থাৎ, বিয়ে বাড়িতে সাধারণ চাঁদাবাজির ঘটনায় হামলাকে ‘জিজিয়া কর’ না দেওয়ার কারণে হামলা বলে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
Topics:
গফরগাঁওয়ে মসজিদে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
গয়েশ্বর রায়কে একমাত্র হিন্দু সংসদ সদস্য বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে ‘হিন্দু নিধন’ নিয়ে কোনো প্রশ্নই করা হয়নি; ভারতীয় মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার
জুতার মালা পরা মুসলিম ব্যক্তিকে হিন্দু বলে প্রচার ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্টে
বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
মাজার ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নাম জড়িয়ে ‘আমার দেশ’ এর লোগো সম্বলিত ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার
পাকিস্তানে মন্দির ভাঙার পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদশের বলে প্রচার
সাতক্ষীরায় বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কুষ্টিয়ায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদেরা জামায়াতের হাতে নিহত - এ দাবি ভিত্তিহীন
ফ্যাক্ট চেক
বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে
২ মার্চ ২০২৬
সম্প্রতি, ‘তারেক জমানায় জিজিয়া কর! চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দু বিয়ে বাড়িতে হামলা সন্ত্রাসীদের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এই মূহুর্তে।
সংবাদের বিস্তারিত অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকার বদলালেও বাংলাদেশ আছে বাংলাদেশেই। তারেক রহমানের সরকারের জমানাতেও হিন্দুদের উপরে হামলা থামছে না। এবার ৩০ হাজার টাকা চাঁদা না পাওয়ায় হিন্দু পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালাল সন্ত্রাসীরা। ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মারধরও করা হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। আহত হয়েছেন বরের বাবা, জেঠিমা ও ভাই। থানায় আভিযোগ দায়ের হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।…………’
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। বিয়ে বাড়িতে সাধারণ চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলাকে ‘জিজিয়া কর’ না দেওয়ার কারণে হামলা বলে প্রচার করা হয়েছে।
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক ইনকিলাবের ওয়েবসাইটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘মতলবে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ে বাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা চাঁদা দাবি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় বরের বাবা, ভাই ও জেঠাসহ তিনজন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন- ত্রিনাথ বিশ্বাস (৩২), বাবু লাল বিশ্বাস (৬০) ও বৃজন রানী (৪৫)। আহতরা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়েরকান্দি গ্রামের জীবন চন্দ্র দাসের বাড়িতে বাবু লাল বিশ্বাসের ছেলে সেম্বু নাথের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় পাশ্ববর্তী এলাকার নবীর হোসেনের ছেলে মহনের (২৫) নেতৃত্বে আল আমিনের ছেলে আরমান (১৮), বারেক বকাউলের ছেলে আবির হোসেন (১৬) ও জিসান’সহ (১৮) কয়েকজন অনুষ্ঠানে এসে প্রথমে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তারা ৩০ হাজার টাকায় নেমে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকপক্ষ তিন হাজার টাকা দিলেও তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। একপর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে বরের পিতা বাবু লাল বিশ্বাস ও ভাই ত্রিনাথ বিশ্বাসকে মারধর করে টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর ও আশপাশে বাড়িরঘরে হামলা করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত ত্রিনাথ বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রবাসে থাকি। ভাইয়ের বিয়েতে দেশে এসেছি। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছিল, আমরা কেরাম খেলছিলাম। তখন কিশোর গ্যাং এসে হামলা চালায়। আমার গলার স্বর্ণের চেইন এবং ছোট ভাইয়ের গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমার মাথা ফেটে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় আমরা তারাবির নামাজে ছিলাম। পরে খবর পেয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
পরবর্তীতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে মতলব উত্তর থানার ওসি প্রদীপ মণ্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনার সাথে জিজিয়া করের কোনো সম্পর্ক নেই।
মামালার তদন্ত কর্মকর্তা জাফর আহমেদ বাংলাফ্যাক্টকে জানান, গানবাজনাকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা কিশোর গ্যাং। তাদেরকে ধরতে আমরা অভিযান চালাচ্ছি।
অর্থাৎ, বিয়ে বাড়িতে সাধারণ চাঁদাবাজির ঘটনায় হামলাকে ‘জিজিয়া কর’ না দেওয়ার কারণে হামলা বলে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।