| মিডিয়া লিটারেসি | মিডিয়া লিটারেসি
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং — ইকো-চেম্বার, ভুয়া প্রোফাইল, প্যারাসোশাল সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারের ঝুঁকি
৩০ অক্টোবর ২০২৫
ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয় — এটি ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হয়ে উঠে গেছে। Facebook, Instagram, X (পুরনো টুইটার), WhatsApp সহ নানা প্ল্যাটফর্মে মানুষের সামাজিক যোগাযোগ, তথ্য ভাগাভাগি ও বিনোদন ঘটে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে এসেছে জটিলতা: একদিকে যা আমাদের সংযোগ দেয়, অন্যদিকে সেটা আমাদের তথ্যবিশ্ব, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক ভাব-চিন্তায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের প্রসঙ্গে এই বিষয়গুলো আরও যুক্ত হয় বিভিন্ন সামাজিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে।
এই প্রবন্ধে আমরা চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপবিষয় বিশ্লেষণ করব:
- ইকো-চেম্বার (echo-chamber)
- ভুয়া প্রোফাইল ও বট (fake profiles & bots)
- প্যারাসোশাল সম্পর্ক (parasocial relationships)
- ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ঝুঁকি (risks of personal data sharing)
সবটিকে
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা হবে, এরপর
দেখব এই প্রেক্ষাপটে মিডিয়া
লিটারেসির কী ভূমিকা হতে
পারে।
১. ইকো-চেম্বার
কি
সেটা?
ইকো-চেম্বার বলতে বোঝায় এমন
ডিজিটাল বা সামাজিক মাধ্যমিক
দৃশ্য যেখানে ব্যবহারকারী মূলত নিজেদের মত
ও বিশ্বাসের অনুরূপ কনটেন্টই দেখে, শেয়ার করে এবং সে
অনুযায়ী বিশ্বাস গড়ে তোলে। এর
ফলে ভিন্নমত বা বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গার
সঙ্গে কম সংযোগ হয়।
এই ধারণাটি “ফিল্টার বাবল” (filter bubble) নামেও পরিচিত।
Wikipedia+1
বাংলাদেশে
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গবেষণা বলছে, ব্যবহারকারীরা নিজেদের আগ্রহ ও পূর্বধারণার ভিত্তিতে
সাজানো নিউজফিড পাচ্ছেন, যা বিরোধী বা
ভিন্নমতকে বাদ দিতে পারে।
The Business Standard উদাহরণস্বরূপ,
একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—
“Social media platforms … create a selective exposure effect, where individuals are repeatedly shown news and opinions that align with their pre-existing beliefs.” The Business Standard
পরিণতিতে কি হয়?
- বর্ধিত ধ্রুবকতা (polarisation): মানুষের মধ্যে ভিন্নমত সহ্য করার প্রবণতা কমে যায়।
- সমালোচনামূলক চিন্তাকে হ্রাস পাওয়া: নিজের বিশ্বাসের বাইরে গিয়ে তথ্য দেখার, যাচাই করার অভ্যাস কম হয়।
- মিথ্যা বা পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য দ্রুত প্রসারণ: একই মতের মানুষ একে-অপরকে শেয়ার করলে সত্য-অসত্য বিভিন্ন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে নির্বাচনী সময়ে মিথ্যা তথ্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
চ্যালেঞ্জ
ইকো-চেম্বার ভেঙে দেওয়া কঠিন
কারণ এটি শুধু প্রযুক্তিগত
নয় — মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণও
রয়েছে: স্ব-পছন্দের কনটেন্টের
প্রতি আকর্ষণ, একই মতের লোকের
সঙ্গে সামাজিক গোষ্ঠিবদ্ধতা (homophily), এবং সোশ্যাল মিডিয়ার
অ্যালগরিদমিক পছন্দ। arXiv
২. ভুয়া প্রোফাইল ও বট
কি
সেটা?
ভুয়া
প্রোফাইল বলতে হয় সাধারণ
মানুষের নামে বা ইমেজ
ব্যবহার করে তৈরি করা
ফেক অ্যাকাউন্ট যা মিডিয়া বা
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয় (যেমন: তথ্য
বিকৃতি, প্রোপাগান্ডা, ব্যক্তি/গোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করা)। গবেষণা
দেখায়, সামাজিক নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ধরনের বট ও স্প্যাম-অ্যাকাউন্টও রয়েছে যা অটোমেটেডভাবে কাজ
করতে পারে।
বাংলাদেশে
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত সংবাদে
বলা হয়েছে:
“A critical instrument in spreading such chaos is the creation of fake profiles… impersonators often use images of ordinary citizens—or even public officials—to post inflammatory content.”
একটি রিপোর্ট বলছে, দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে রুমর স্ক্যানার পেয়েছে প্রায় ৭২ % অ্যাকাউন্ট ভারতীয় উৎসের।
Topics:
ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল ব্যবহার: কেবল ভোক্তা নয়, বরং কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও নৈতিকভাবে মিডিয়া ব্যবহার করা
সমসাময়িক ইস্যু বিশ্লেষণ: ভুয়া খবর, প্রাইভেসি লঙ্ঘন, মিডিয়া ভায়োলেন্স ও খেলাধুলার কাভারেজ—নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
নিজেকে ও অন্যকে মিডিয়া লিটারেট করা: বিশ্লেষণ, প্রশ্ন, তুলনা ও সমালোচনামূলক চিন্তার অনুশীলন
ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স: অনলাইন ভিডিও, মিউজিক, শপিং ও পাইরেসি—ভোক্তার আচরণ ও শিল্পের পরিবর্তন
গেমস ও প্রতিযোগিতা | গেম আসক্তি, ই-স্পোর্টস ও মিডিয়া প্রভাব
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
মিডিয়া লিটারেসি
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং — ইকো-চেম্বার, ভুয়া প্রোফাইল, প্যারাসোশাল সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারের ঝুঁকি
৩০ অক্টোবর ২০২৫
ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয় — এটি ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হয়ে উঠে গেছে। Facebook, Instagram, X (পুরনো টুইটার), WhatsApp সহ নানা প্ল্যাটফর্মে মানুষের সামাজিক যোগাযোগ, তথ্য ভাগাভাগি ও বিনোদন ঘটে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে এসেছে জটিলতা: একদিকে যা আমাদের সংযোগ দেয়, অন্যদিকে সেটা আমাদের তথ্যবিশ্ব, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক ভাব-চিন্তায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের প্রসঙ্গে এই বিষয়গুলো আরও যুক্ত হয় বিভিন্ন সামাজিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে।
এই প্রবন্ধে আমরা চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপবিষয় বিশ্লেষণ করব:
- ইকো-চেম্বার (echo-chamber)
- ভুয়া প্রোফাইল ও বট (fake profiles & bots)
- প্যারাসোশাল সম্পর্ক (parasocial relationships)
- ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ঝুঁকি (risks of personal data sharing)
সবটিকে
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা হবে, এরপর
দেখব এই প্রেক্ষাপটে মিডিয়া
লিটারেসির কী ভূমিকা হতে
পারে।
১. ইকো-চেম্বার
কি
সেটা?
ইকো-চেম্বার বলতে বোঝায় এমন
ডিজিটাল বা সামাজিক মাধ্যমিক
দৃশ্য যেখানে ব্যবহারকারী মূলত নিজেদের মত
ও বিশ্বাসের অনুরূপ কনটেন্টই দেখে, শেয়ার করে এবং সে
অনুযায়ী বিশ্বাস গড়ে তোলে। এর
ফলে ভিন্নমত বা বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গার
সঙ্গে কম সংযোগ হয়।
এই ধারণাটি “ফিল্টার বাবল” (filter bubble) নামেও পরিচিত।
Wikipedia+1
বাংলাদেশে
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গবেষণা বলছে, ব্যবহারকারীরা নিজেদের আগ্রহ ও পূর্বধারণার ভিত্তিতে
সাজানো নিউজফিড পাচ্ছেন, যা বিরোধী বা
ভিন্নমতকে বাদ দিতে পারে।
The Business Standard উদাহরণস্বরূপ,
একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—
“Social media platforms … create a selective exposure effect, where individuals are repeatedly shown news and opinions that align with their pre-existing beliefs.” The Business Standard
পরিণতিতে কি হয়?
- বর্ধিত ধ্রুবকতা (polarisation): মানুষের মধ্যে ভিন্নমত সহ্য করার প্রবণতা কমে যায়।
- সমালোচনামূলক চিন্তাকে হ্রাস পাওয়া: নিজের বিশ্বাসের বাইরে গিয়ে তথ্য দেখার, যাচাই করার অভ্যাস কম হয়।
- মিথ্যা বা পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য দ্রুত প্রসারণ: একই মতের মানুষ একে-অপরকে শেয়ার করলে সত্য-অসত্য বিভিন্ন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে নির্বাচনী সময়ে মিথ্যা তথ্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
চ্যালেঞ্জ
ইকো-চেম্বার ভেঙে দেওয়া কঠিন
কারণ এটি শুধু প্রযুক্তিগত
নয় — মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণও
রয়েছে: স্ব-পছন্দের কনটেন্টের
প্রতি আকর্ষণ, একই মতের লোকের
সঙ্গে সামাজিক গোষ্ঠিবদ্ধতা (homophily), এবং সোশ্যাল মিডিয়ার
অ্যালগরিদমিক পছন্দ। arXiv
২. ভুয়া প্রোফাইল ও বট
কি
সেটা?
ভুয়া
প্রোফাইল বলতে হয় সাধারণ
মানুষের নামে বা ইমেজ
ব্যবহার করে তৈরি করা
ফেক অ্যাকাউন্ট যা মিডিয়া বা
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয় (যেমন: তথ্য
বিকৃতি, প্রোপাগান্ডা, ব্যক্তি/গোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করা)। গবেষণা
দেখায়, সামাজিক নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ধরনের বট ও স্প্যাম-অ্যাকাউন্টও রয়েছে যা অটোমেটেডভাবে কাজ
করতে পারে।
বাংলাদেশে
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত সংবাদে
বলা হয়েছে:
“A critical instrument in spreading such chaos is the creation of fake profiles… impersonators often use images of ordinary citizens—or even public officials—to post inflammatory content.”
একটি রিপোর্ট বলছে, দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে রুমর স্ক্যানার পেয়েছে প্রায় ৭২ % অ্যাকাউন্ট ভারতীয় উৎসের।