| অনুসন্ধান

বিডি ডাইজেস্ট: আওয়ামী প্রোপাগান্ডা মেশিনের আরেক হাতিয়ার

১২ নভেম্বর ২০২৫


বিডি ডাইজেস্ট: আওয়ামী প্রোপাগান্ডা মেশিনের আরেক হাতিয়ার

সাধারণ একটি নিউজ পোর্টালের মতোই বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করে চলছে বিডি ডাইজেস্ট। বেশ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে গড়া এই সাইটটে নিয়মিত আওয়ামীলীগের প্রোপাগান্ডা, দলীয় বক্তব্য, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করে। প্রপাগান্ডা, অপতথ্যের পাশাপাশি সাধারণ ঘটনাবলীকেও মিসফ্রেমিং ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বরূপে উপস্থাপন করে। 


যেমন, গত ৯ নভেম্বর সেন্টমার্টিনে পর্যটক না-যাওয়া বিষয়ক একটি সংবাদে তাঁরা শিরোনাম করে “‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ বানানোয় সফল ইউনূস সরকার: খুলে দেওয়ার ৮ দিনেও জাহাজ-পর্যটক শূন্য দারুচিনি দ্বীপ”। এতে বলা হয়, সরকার দ্বীপটিকে “ধীরে ধীরে ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা” করার চেষ্টা করছে। 


ফেসবুক পেইজ ও ওয়েবসাইটের নেপথ্যে


সাইটটি গতবছর ৫ আগস্টের ১০ দিন পর, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট চালু হয়। যদিও এটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছিল ২০২৩ সালে, যখন পেইজটির নাম ছিল ‘Ebit lew Fan’s Bangladesh’। পরে তা Rubel Miah Official, একলা জীবন, ইত্যাদি নানা নামে পরিবর্তিত হয়। ৫ আগস্টের পর প্রথমে পেইজের নাম হয় ‘হিদায়েত’। ১৫ অক্টোবর  ২০২৪ থেকে বর্তমানে ‘BDDigest’ নামে চালু আছে। 


বিডি ডাইজেস্টের ফেসবুক পেইজের “পেইজ ট্রান্সপারেন্সি” থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ, জার্মানি, কানাডা ও সুইডেন থেকে পেইজটি পরিচালিত হয়। কানাডাপ্রবাসী আওয়ামী লীগ এক্টিভিস্ট কাজী মামুন এই পেজের একাধিক লাইভ ভিডিওতে হোস্ট হিসেবে ছিলেন। 


সাইটটির footer-এ লেখা আছে, A Global Justice Network Foundation Program; কানাডাপ্রবাসী আওয়ামী এক্টিভিস্ট কাজী মামুন ফেসবুক ভিডিওতে নিজেকে এই ‘গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক’-এর ডিরেক্টর পরিচয় দেন। ফলে এটি স্পষ্ট যে, তিনি এর এডমিনদের একজন। 

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই “গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক”-এর ওয়েবসাইট পাওয়া গেলেও সেখানে একটি প্রেস ব্রিফিং ছাড়া এ নামের সংগঠনটির কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। । অর্থাৎ, কাজী মামুনের এই সংস্থাটিও ভুয়া। Global Justice Network নামে আসলেই সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি আইনজীবী সংগঠন রয়েছে, যার ওয়েবসাইট globaljusticenetwork.com ডোমেইনে সক্রিয়। ডট কমের বদলে ডট অর্গ দিয়ে কাজী মামুনের নকল সংস্থাটির ডোমেইন globaljusticenetwork.org রাখা হয়েছে।





দলীয় বক্তব্য, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, ও অপতথ্য প্রচারই মূল কাজ



বিডি ডাইজেস্ট যে আওয়ামীলীগের অপপ্রচার-মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, তা এটি দেখেও বোঝা যায় যে, গতবছর ১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচির ইভেন্ট বিডি ডাইজেস্টের পেইজ থেকে খোলা হয়েছিল। “বাংলাদেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধিকারের অপরিহার্যতা” নামেও আলোচনার ইভেন্ট খোলা হয়। আওয়ামীলীগের এক্টিভিস্ট নিঝুম মজুমদারের সাথেও লাইভ আলোচনার আয়োজন করেন কাজী মামুন। এই ইভেন্টটি নিয়ে আওয়ামীলীগ তাদের অফিসিয়াল পেইজে পোস্টও করে।


এটি স্পষ্ট যে, বিডি ডাইজেস্ট একদিকে দলীয় কার্যক্রম ও বক্তব্য প্রচারের কাজ করছে, অন্যদিকে দলের হয়ে অপপ্রচার ও অপতথ্য ছড়ানোর কাজও করছে। আওয়ামীলীগের ঝটিকা মিছিলগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল, কর্মী সমাগম, স্লোগানে প্রকম্পিত ইত্যাদি অভিধা দিয়ে খবর প্রচার করে এই সাইটটি।



এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, মিয়ানমার, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি বিষয়ে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করে বিডিডাইজেস্ট। এ বছর এপ্রিল ও মে মাসে এটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক নিয়ে অপতথ্য ক্যাম্পেইন চালায়। গত বছর ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়েকে বলেছিলেন, “সীমান্তে তো তোমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সীমান্ত তো রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির (নন–স্টেট অ্যাক্টর) নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাষ্ট্র হিসেবে তো আমরা নন–স্টেট অ্যাক্টরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি না।” 


পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মিয়ামনারের সীমান্ত তাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকার কথা বলেছিলেন, বিডি ডাইজেস্ট এই পুরনো বক্তব্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যাতে মনে হয় বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। একইভাবে দেখা যায়, এ বছর মে মাসে দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে কর্মরত তিনটি দেশের (ডেনমার্ক, উজবেকিস্তান ও মিয়ানমার) রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই তিন রাষ্ট্রদূত প্রায় আট বছর ধরে বিদেশে কর্মরত রয়েছেন; যা প্রচলিত ছয় বছরের সময়সীমা অতিক্রম করেছে। এরমধ্যে শুধু মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের কথা উল্লেখ করে তারসঙ্গে কথিত “করিডর” প্রসঙ্গ জুড়ে দেয় বিডিডাইজেস্ট।




এ বছর ২৩ জুলাই বিডি ডাইজেস্ট “উগ্রবাদীরা” একজন নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে মর্মে খবর প্রকাশ করে।  বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণে উঠে আসে, ঘটনাটি পারিবারিক কলহজনিত ছিল। ৯ নভেম্বর “পুলিশ ইউনিফর্মে আসিফের মিলিশিয়া বাহিনীঃ জুলাই যোদ্ধাদের অস্ত্রে সজ্জিত করে আ.লীগ-এর কর্মসূচি দমনের পরিকল্পনা” শিরোনামে  একটি খবর প্রকাশ করে। কাল্পনিক এই সংবাদে “জুলাইয়ের জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ” নামে একটি অনুচ্ছেদ আছে। ফেসবুকে আওয়ামীলীগের ব্যবহৃত শব্দকে “খবর”-এর প্রতিবেদনে আনা দেখেও সাইটটির ছদ্মবেশ বোঝা যায়।


সংগঠিত ক্যাম্পেইন

নিউজ সাইট হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও, বিডি ডাইজেস্ট মূলত একটি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম। আওয়ামীলীগের পক্ষে সংগঠিত রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন চালানোই এর প্রধান উদ্দেশ্য। ওয়েবসাইটটিতে সাধারণ নিউজ পোর্টালের প্রায় সব উপাদানই রয়েছে: রাজনীতি, অর্থনীতি, বিনোদন, এমনকি খেলাধুলার জন্যও একটি আলাদা সেকশন আছে। এর ফটোকার্ডগুলোও পেশাদারভাবে তৈরি হওয়ায় অনেক পাঠক একে সাধারণ সংবাদমাধ্যম হিসেবে ধরে নিয়ে শেয়ার করছেন এর কনটেন্ট। তাছাড়া, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে নিয়মিতভাবে বিডি ডাইজেস্স্টের ‘নিউজ’ শেয়ার দিতে দেখা যায়। কিছু উদাহরণ দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, ও এখানে।





২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতনের পর থেকে আওয়ামীলীগ প্রপাগাণ্ডা ও অপপ্রচারকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অনেকগুলো ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে। বিডি ডাইজেস্টও একই ঘরনার প্রপাগান্ডা মেশিন। 


আওয়ামীলীগের আরেকটি প্রপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম ‘আজকের কণ্ঠ’ সম্পর্কে জানতে দেখুন: দৈনিক আজকের কণ্ঠ: পত্রিকার ছদ্মবেশে প্রপাগাণ্ডা মেশিন | BanglaFact  





Topics:

banglafact বাংলা ফ্যাক্ট

দৈনিক আজকের কণ্ঠ: পত্রিকার ছদ্মবেশে প্রপাগাণ্ডা মেশিন
৯ নভেম্বর ২০২৫

দৈনিক আজকের কণ্ঠ: পত্রিকার ছদ্মবেশে প্রপাগাণ্ডা মেশিন

হত্যার কারণ সাম্প্রদায়িক কলহ নয়, অন্য কিছু
১৯ মার্চ ২০২৫

হত্যার কারণ সাম্প্রদায়িক কলহ নয়, অন্য কিছু

Awami League has contributed the most to political violences in past few decades
১৮ মার্চ ২০২৫

Awami League has contributed the most to political violences in past few decades

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



বিডি ডাইজেস্ট: আওয়ামী প্রোপাগান্ডা মেশিনের আরেক হাতিয়ার

অনুসন্ধান

বিডি ডাইজেস্ট: আওয়ামী প্রোপাগান্ডা মেশিনের আরেক হাতিয়ার

১২ নভেম্বর ২০২৫

<p dir="ltr"><strong>বিডি ডাইজেস্ট: </strong><strong>আওয়ামী প্রোপাগান্ডা মেশিনের আরেক হাতিয়ার</strong></p>

সাধারণ একটি নিউজ পোর্টালের মতোই বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করে চলছে বিডি ডাইজেস্ট। বেশ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে গড়া এই সাইটটে নিয়মিত আওয়ামীলীগের প্রোপাগান্ডা, দলীয় বক্তব্য, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করে। প্রপাগান্ডা, অপতথ্যের পাশাপাশি সাধারণ ঘটনাবলীকেও মিসফ্রেমিং ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বরূপে উপস্থাপন করে। 


যেমন, গত ৯ নভেম্বর সেন্টমার্টিনে পর্যটক না-যাওয়া বিষয়ক একটি সংবাদে তাঁরা শিরোনাম করে “‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ বানানোয় সফল ইউনূস সরকার: খুলে দেওয়ার ৮ দিনেও জাহাজ-পর্যটক শূন্য দারুচিনি দ্বীপ”। এতে বলা হয়, সরকার দ্বীপটিকে “ধীরে ধীরে ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা” করার চেষ্টা করছে। 


ফেসবুক পেইজ ও ওয়েবসাইটের নেপথ্যে


সাইটটি গতবছর ৫ আগস্টের ১০ দিন পর, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট চালু হয়। যদিও এটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছিল ২০২৩ সালে, যখন পেইজটির নাম ছিল ‘Ebit lew Fan’s Bangladesh’। পরে তা Rubel Miah Official, একলা জীবন, ইত্যাদি নানা নামে পরিবর্তিত হয়। ৫ আগস্টের পর প্রথমে পেইজের নাম হয় ‘হিদায়েত’। ১৫ অক্টোবর  ২০২৪ থেকে বর্তমানে ‘BDDigest’ নামে চালু আছে। 


বিডি ডাইজেস্টের ফেসবুক পেইজের “পেইজ ট্রান্সপারেন্সি” থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ, জার্মানি, কানাডা ও সুইডেন থেকে পেইজটি পরিচালিত হয়। কানাডাপ্রবাসী আওয়ামী লীগ এক্টিভিস্ট কাজী মামুন এই পেজের একাধিক লাইভ ভিডিওতে হোস্ট হিসেবে ছিলেন। 


সাইটটির footer-এ লেখা আছে, A Global Justice Network Foundation Program; কানাডাপ্রবাসী আওয়ামী এক্টিভিস্ট কাজী মামুন ফেসবুক ভিডিওতে নিজেকে এই ‘গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক’-এর ডিরেক্টর পরিচয় দেন। ফলে এটি স্পষ্ট যে, তিনি এর এডমিনদের একজন। 

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই “গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক”-এর ওয়েবসাইট পাওয়া গেলেও সেখানে একটি প্রেস ব্রিফিং ছাড়া এ নামের সংগঠনটির কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। । অর্থাৎ, কাজী মামুনের এই সংস্থাটিও ভুয়া। Global Justice Network নামে আসলেই সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি আইনজীবী সংগঠন রয়েছে, যার ওয়েবসাইট globaljusticenetwork.com ডোমেইনে সক্রিয়। ডট কমের বদলে ডট অর্গ দিয়ে কাজী মামুনের নকল সংস্থাটির ডোমেইন globaljusticenetwork.org রাখা হয়েছে।





দলীয় বক্তব্য, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, ও অপতথ্য প্রচারই মূল কাজ



বিডি ডাইজেস্ট যে আওয়ামীলীগের অপপ্রচার-মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, তা এটি দেখেও বোঝা যায় যে, গতবছর ১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচির ইভেন্ট বিডি ডাইজেস্টের পেইজ থেকে খোলা হয়েছিল। “বাংলাদেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধিকারের অপরিহার্যতা” নামেও আলোচনার ইভেন্ট খোলা হয়। আওয়ামীলীগের এক্টিভিস্ট নিঝুম মজুমদারের সাথেও লাইভ আলোচনার আয়োজন করেন কাজী মামুন। এই ইভেন্টটি নিয়ে আওয়ামীলীগ তাদের অফিসিয়াল পেইজে পোস্টও করে।


এটি স্পষ্ট যে, বিডি ডাইজেস্ট একদিকে দলীয় কার্যক্রম ও বক্তব্য প্রচারের কাজ করছে, অন্যদিকে দলের হয়ে অপপ্রচার ও অপতথ্য ছড়ানোর কাজও করছে। আওয়ামীলীগের ঝটিকা মিছিলগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল, কর্মী সমাগম, স্লোগানে প্রকম্পিত ইত্যাদি অভিধা দিয়ে খবর প্রচার করে এই সাইটটি।



এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, মিয়ানমার, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি বিষয়ে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করে বিডিডাইজেস্ট। এ বছর এপ্রিল ও মে মাসে এটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক নিয়ে অপতথ্য ক্যাম্পেইন চালায়। গত বছর ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়েকে বলেছিলেন, “সীমান্তে তো তোমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সীমান্ত তো রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির (নন–স্টেট অ্যাক্টর) নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাষ্ট্র হিসেবে তো আমরা নন–স্টেট অ্যাক্টরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি না।” 


পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মিয়ামনারের সীমান্ত তাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকার কথা বলেছিলেন, বিডি ডাইজেস্ট এই পুরনো বক্তব্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যাতে মনে হয় বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। একইভাবে দেখা যায়, এ বছর মে মাসে দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে কর্মরত তিনটি দেশের (ডেনমার্ক, উজবেকিস্তান ও মিয়ানমার) রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই তিন রাষ্ট্রদূত প্রায় আট বছর ধরে বিদেশে কর্মরত রয়েছেন; যা প্রচলিত ছয় বছরের সময়সীমা অতিক্রম করেছে। এরমধ্যে শুধু মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের কথা উল্লেখ করে তারসঙ্গে কথিত “করিডর” প্রসঙ্গ জুড়ে দেয় বিডিডাইজেস্ট।




এ বছর ২৩ জুলাই বিডি ডাইজেস্ট “উগ্রবাদীরা” একজন নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে মর্মে খবর প্রকাশ করে।  বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণে উঠে আসে, ঘটনাটি পারিবারিক কলহজনিত ছিল। ৯ নভেম্বর “পুলিশ ইউনিফর্মে আসিফের মিলিশিয়া বাহিনীঃ জুলাই যোদ্ধাদের অস্ত্রে সজ্জিত করে আ.লীগ-এর কর্মসূচি দমনের পরিকল্পনা” শিরোনামে  একটি খবর প্রকাশ করে। কাল্পনিক এই সংবাদে “জুলাইয়ের জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ” নামে একটি অনুচ্ছেদ আছে। ফেসবুকে আওয়ামীলীগের ব্যবহৃত শব্দকে “খবর”-এর প্রতিবেদনে আনা দেখেও সাইটটির ছদ্মবেশ বোঝা যায়।


সংগঠিত ক্যাম্পেইন

নিউজ সাইট হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও, বিডি ডাইজেস্ট মূলত একটি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম। আওয়ামীলীগের পক্ষে সংগঠিত রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন চালানোই এর প্রধান উদ্দেশ্য। ওয়েবসাইটটিতে সাধারণ নিউজ পোর্টালের প্রায় সব উপাদানই রয়েছে: রাজনীতি, অর্থনীতি, বিনোদন, এমনকি খেলাধুলার জন্যও একটি আলাদা সেকশন আছে। এর ফটোকার্ডগুলোও পেশাদারভাবে তৈরি হওয়ায় অনেক পাঠক একে সাধারণ সংবাদমাধ্যম হিসেবে ধরে নিয়ে শেয়ার করছেন এর কনটেন্ট। তাছাড়া, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে নিয়মিতভাবে বিডি ডাইজেস্স্টের ‘নিউজ’ শেয়ার দিতে দেখা যায়। কিছু উদাহরণ দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, ও এখানে।





২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতনের পর থেকে আওয়ামীলীগ প্রপাগাণ্ডা ও অপপ্রচারকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অনেকগুলো ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে। বিডি ডাইজেস্টও একই ঘরনার প্রপাগান্ডা মেশিন। 


আওয়ামীলীগের আরেকটি প্রপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম ‘আজকের কণ্ঠ’ সম্পর্কে জানতে দেখুন: দৈনিক আজকের কণ্ঠ: পত্রিকার ছদ্মবেশে প্রপাগাণ্ডা মেশিন | BanglaFact