| বিশ্লেষণ

জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না, এমন কথা বলেননি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

২৬ জানুয়ারী ২০২৬


জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না, এমন কথা বলেননি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিবিসিরসাংবাদিক ইশাদ্রিতা লাহিড়ীকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের দেয়া একটি সাক্ষাৎকার জানুয়ারির ২০ তারিখ বিবিসি নিউজ হিন্দি’র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দেয়া বক্তব্যকে বিকৃত করে ‘The Shironam’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ফটোকার্ড প্রচার করেছে।


ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বলেছেন, “জামায়াত দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশে রাজনীতি করে আসছে। তাদের অনেক সমর্থকও আছে। বিজেপি একসময় পার্লামেন্টে মাত্র দুটো সিট পেয়েছিল, আমি তখন ভারতেই কর্মরত ছিলাম। দুই সিট পাওয়া সেই বিজেপি এখন এসে যদি বড়ো রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে পারে এমনকি বারবার সরকার গঠনও করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ চাইলে জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না?”


ফটোকার্ডটিতে প্রায় ১০ হাজার প্রতিক্রিয়া এবং ৫শতটির অধিক মন্তব্য এসেছে; এটি ৯শত বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে।


কী বলেছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা?


আলোচ্য সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকের একটি প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জামায়ত প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিবিসির সাংবাদিক বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন,  


“বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান ও তারা যেভাবে রাজনৈতিক পরিসরে জায়গা করে নিচ্ছে তা নিয়ে ভারতের কিছু মহলে প্রশ্ন উঠছে। একটি ধারণা আছে যে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কট্টর, এবং তাদের অধীনে বাংলাদেশ আর উদার রাষ্ট্র থাকবে না; এতে সংখ্যালঘুদের অধিকারের উপরও প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?”


জামায়াতের উত্থান নিয়ে এই প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন,


“জামায়াত দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশে প্রকাশ্যে রাজনীতি করে আসছে। তাদের অনেক সমর্থকও আছে। আপনার মনে আছে, বিজেপি একসময় পার্লামেন্টে মাত্র দুটো সিট পেয়েছিল? আমি তখন ভারতেই কর্মরত ছিলাম। সেই বিজেপি, অনেক দিন পর কেবল সবচে বড় দলেই পরিণত হয়নি, বরং বারবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করছে। যদি সেটি সম্ভব হয়, তাহলে জামায়াতের ইসলামপন্থী প্রভাব কিছুটা বাড়তে পারে—এটা মেনে নিতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কারণ তারা রাজনীতিতে আছে এবং রাজনীতিতে উত্থান-পতন থাকেই। এখন এটা হতে পারে যে, আমি বা আপনি বিষয়টি পছন্দ নাও করতে পারি। কিন্তু তারা একটি রাজনৈতিক দল এবং তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা আছে।”


পররাষ্ট্র উপ‌দেষ্টার এই উত্তরে “বাংলাদেশের জনগণ চাইলে জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না?” এমন কোনো বক্তব্য নেই। তিনি বিজেপির উত্থানের সঙ্গে জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধির (যদি হয়) তুলনা দিয়ে বলেছেন, এই প্রভাব বৃদ্ধিকে মেনে নেওয়ায় কোনো সমস্যা তিনি দেখেন না। যে প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই বক্তব্য দিয়েছেন, তার কোনো উল্লেখ ফটোকার্ড বা পোস্টে না থাকায়, তা আরও  বিভ্রান্তি তৈরী করছে।


উল্লেখ্য, এরপর সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, “আমি জামায়াতের কিছু নেতাকে দেখেছি, তাদের কিছু দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে, তারা বলেছেন নারীদের সবসময় পর্দায় থাকা উচিত, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের সবসময় পর্দা করা উচিত। তারা যখন দূরের কোনো স্থানে যাবে, তখন তাদের সাথে অবশ্যই কেউ (অভিভাবক) থাকা উচিত। আপনার মতে এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কি গ্রহণযোগ্য?” 


জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রথমত, এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মতামত নয় এবং আমি মনে করি না বাংলাদেশে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে।”





Topics:





অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
৭ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে



অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
৭ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
বিভ্রান্তিকর
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
বিভ্রান্তিকর
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব

‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না, এমন কথা বলেননি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিশ্লেষণ

জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না, এমন কথা বলেননি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

২৬ জানুয়ারী ২০২৬

<p>জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না, এমন কথা বলেননি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


<br /></p>

বিবিসিরসাংবাদিক ইশাদ্রিতা লাহিড়ীকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের দেয়া একটি সাক্ষাৎকার জানুয়ারির ২০ তারিখ বিবিসি নিউজ হিন্দি’র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দেয়া বক্তব্যকে বিকৃত করে ‘The Shironam’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ফটোকার্ড প্রচার করেছে।


ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বলেছেন, “জামায়াত দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশে রাজনীতি করে আসছে। তাদের অনেক সমর্থকও আছে। বিজেপি একসময় পার্লামেন্টে মাত্র দুটো সিট পেয়েছিল, আমি তখন ভারতেই কর্মরত ছিলাম। দুই সিট পাওয়া সেই বিজেপি এখন এসে যদি বড়ো রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে পারে এমনকি বারবার সরকার গঠনও করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ চাইলে জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না?”


ফটোকার্ডটিতে প্রায় ১০ হাজার প্রতিক্রিয়া এবং ৫শতটির অধিক মন্তব্য এসেছে; এটি ৯শত বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে।


কী বলেছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা?


আলোচ্য সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকের একটি প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জামায়ত প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিবিসির সাংবাদিক বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন,  


“বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান ও তারা যেভাবে রাজনৈতিক পরিসরে জায়গা করে নিচ্ছে তা নিয়ে ভারতের কিছু মহলে প্রশ্ন উঠছে। একটি ধারণা আছে যে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কট্টর, এবং তাদের অধীনে বাংলাদেশ আর উদার রাষ্ট্র থাকবে না; এতে সংখ্যালঘুদের অধিকারের উপরও প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?”


জামায়াতের উত্থান নিয়ে এই প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন,


“জামায়াত দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশে প্রকাশ্যে রাজনীতি করে আসছে। তাদের অনেক সমর্থকও আছে। আপনার মনে আছে, বিজেপি একসময় পার্লামেন্টে মাত্র দুটো সিট পেয়েছিল? আমি তখন ভারতেই কর্মরত ছিলাম। সেই বিজেপি, অনেক দিন পর কেবল সবচে বড় দলেই পরিণত হয়নি, বরং বারবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করছে। যদি সেটি সম্ভব হয়, তাহলে জামায়াতের ইসলামপন্থী প্রভাব কিছুটা বাড়তে পারে—এটা মেনে নিতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কারণ তারা রাজনীতিতে আছে এবং রাজনীতিতে উত্থান-পতন থাকেই। এখন এটা হতে পারে যে, আমি বা আপনি বিষয়টি পছন্দ নাও করতে পারি। কিন্তু তারা একটি রাজনৈতিক দল এবং তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা আছে।”


পররাষ্ট্র উপ‌দেষ্টার এই উত্তরে “বাংলাদেশের জনগণ চাইলে জামায়াত কেন এখানে সরকার গঠন করতে পারবে না?” এমন কোনো বক্তব্য নেই। তিনি বিজেপির উত্থানের সঙ্গে জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধির (যদি হয়) তুলনা দিয়ে বলেছেন, এই প্রভাব বৃদ্ধিকে মেনে নেওয়ায় কোনো সমস্যা তিনি দেখেন না। যে প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই বক্তব্য দিয়েছেন, তার কোনো উল্লেখ ফটোকার্ড বা পোস্টে না থাকায়, তা আরও  বিভ্রান্তি তৈরী করছে।


উল্লেখ্য, এরপর সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, “আমি জামায়াতের কিছু নেতাকে দেখেছি, তাদের কিছু দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে, তারা বলেছেন নারীদের সবসময় পর্দায় থাকা উচিত, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের সবসময় পর্দা করা উচিত। তারা যখন দূরের কোনো স্থানে যাবে, তখন তাদের সাথে অবশ্যই কেউ (অভিভাবক) থাকা উচিত। আপনার মতে এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কি গ্রহণযোগ্য?” 


জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রথমত, এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মতামত নয় এবং আমি মনে করি না বাংলাদেশে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে।”