| বিশ্লেষণ
মৃত্যুর কারণ এখনো উদ্ঘাটন হয়নি, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গতকাল কক্সবাজার সদর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মন্দিরের এক সেবায়েতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বা মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম ও এক্সের কিছু হ্যান্ডেল।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন সেবায়েত নয়ন দাশ (৩৫)। খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে না পেয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে গতকাল দুপুরে স্থানীয় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল মন্দিরের পূর্ব পাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে নয়ন দাশের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই ঘটনাটিকে “নির্বাচনের পর প্রথম হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করেছে। একই ধরণের প্রতিবেদন করে দেশটির আরেকটি গণমাধ্যম নিউজ নাইন। সামাজিক মাধ্যম এক্সের ভারত থেকে পরিচালিত কিছু হ্যান্ডেলেও এটিকে মন্দির থেকে অপহরণ ও সাম্প্রদায়িক হত্যা হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বাংলাফ্যাক্টকে জানান, নয়ন দাস নিহত হওয়ার পর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছিল, নয়ন দাসকে কেউ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তারপর আর তিনি ফেরেননি। কিন্তু কে বা কারা ডেকে নেয়, তা পরিবার জানাতে পারেনি। পরে পুলিশ আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে, পরিবার জানায়, নয়ন দাস নিজেও বের হয়ে থাকতে পারেন। অর্থাৎ, পরিবারই এখনো নিশ্চিত নয় নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল।
হিমেল রায় আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, বা কাউকে সন্দেহের কথা জানানো হয়নি। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও “পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা”র কথা বললেও, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন।
অর্থাৎ, পরিবার, পুলিশ, স্থানীয় সনাতনী সংগঠন, কারও পক্ষ থেকেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এবং কেউ এটিকে কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে ইঙ্গিতও দেননি। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে ইন্ডিয়া টুডে।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া টুডে এর আগেও সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে অপতথ্য প্রচার করেছে। ঢাকায় একজন মুসলিম ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনাকেও “হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে প্রচার করেছে, যা নিয়ে বাংলাফ্যাক্ট ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করে। ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার করেছিল ইন্ডিয়া টুডে।Topics:
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে
দুর্বৃত্তদের হামলায় হত্যা ও আত্মহত্যা সন্দেহের তিনটি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার
বিদ্যুৎ বিল বিতর্ক ও তদন্তের আগে-পরে গণমাধ্যমের ফ্রেমিংয়ের পরিবর্তন
এরশাদের দলের কথা নয়, নজরুল ইসলাম খান কাজী জাফরের “জাতীয় পার্টি”-এর কথা বলেছেন
মিরপুর স্টেডিয়ামের শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের ব্যানার নিয়ে যা জানা গেল
পলাতক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের সাক্ষাৎকারে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মচ্ছব
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
গণভোটে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দেয়া হচ্ছে, আসিফ সালেহের এই দাবি সঠিক নয়
অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার
ওসমান হাদির ভাইয়ের বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড প্রচার
'ক্রাইসিসের কারিগর’
হাসিনাকে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞ বলে মন্তব্য আনিস আলমগীরের
বিশ্লেষণ
মৃত্যুর কারণ এখনো উদ্ঘাটন হয়নি, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গতকাল কক্সবাজার সদর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মন্দিরের এক সেবায়েতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বা মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম ও এক্সের কিছু হ্যান্ডেল।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন সেবায়েত নয়ন দাশ (৩৫)। খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে না পেয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে গতকাল দুপুরে স্থানীয় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল মন্দিরের পূর্ব পাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে নয়ন দাশের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই ঘটনাটিকে “নির্বাচনের পর প্রথম হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করেছে। একই ধরণের প্রতিবেদন করে দেশটির আরেকটি গণমাধ্যম নিউজ নাইন। সামাজিক মাধ্যম এক্সের ভারত থেকে পরিচালিত কিছু হ্যান্ডেলেও এটিকে মন্দির থেকে অপহরণ ও সাম্প্রদায়িক হত্যা হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বাংলাফ্যাক্টকে জানান, নয়ন দাস নিহত হওয়ার পর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছিল, নয়ন দাসকে কেউ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তারপর আর তিনি ফেরেননি। কিন্তু কে বা কারা ডেকে নেয়, তা পরিবার জানাতে পারেনি। পরে পুলিশ আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে, পরিবার জানায়, নয়ন দাস নিজেও বের হয়ে থাকতে পারেন। অর্থাৎ, পরিবারই এখনো নিশ্চিত নয় নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল।
হিমেল রায় আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, বা কাউকে সন্দেহের কথা জানানো হয়নি। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও “পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা”র কথা বললেও, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন।
অর্থাৎ, পরিবার, পুলিশ, স্থানীয় সনাতনী সংগঠন, কারও পক্ষ থেকেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এবং কেউ এটিকে কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে ইঙ্গিতও দেননি। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে ইন্ডিয়া টুডে।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া টুডে এর আগেও সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে অপতথ্য প্রচার করেছে। ঢাকায় একজন মুসলিম ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনাকেও “হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে প্রচার করেছে, যা নিয়ে বাংলাফ্যাক্ট ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করে। ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার করেছিল ইন্ডিয়া টুডে।