| বিশ্লেষণ
মৃত্যুর কারণ এখনো উদ্ঘাটন হয়নি, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার
৬ মে ২০২৬
গতকাল কক্সবাজার সদর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মন্দিরের এক সেবায়েতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বা মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম ও এক্সের কিছু হ্যান্ডেল।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন সেবায়েত নয়ন দাশ (৩৫)। খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে না পেয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে গতকাল দুপুরে স্থানীয় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল মন্দিরের পূর্ব পাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে নয়ন দাশের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই ঘটনাটিকে “নির্বাচনের পর প্রথম হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করেছে। একই ধরণের প্রতিবেদন করে দেশটির আরেকটি গণমাধ্যম নিউজ নাইন। সামাজিক মাধ্যম এক্সের ভারত থেকে পরিচালিত কিছু হ্যান্ডেলেও এটিকে মন্দির থেকে অপহরণ ও সাম্প্রদায়িক হত্যা হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বাংলাফ্যাক্টকে জানান, নয়ন দাস নিহত হওয়ার পর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছিল, নয়ন দাসকে কেউ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তারপর আর তিনি ফেরেননি। কিন্তু কে বা কারা ডেকে নেয়, তা পরিবার জানাতে পারেনি। পরে পুলিশ আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে, পরিবার জানায়, নয়ন দাস নিজেও বের হয়ে থাকতে পারেন। অর্থাৎ, পরিবারই এখনো নিশ্চিত নয় নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল।
হিমেল রায় আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, বা কাউকে সন্দেহের কথা জানানো হয়নি। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও “পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা”র কথা বললেও, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন।
অর্থাৎ, পরিবার, পুলিশ, স্থানীয় সনাতনী সংগঠন, কারও পক্ষ থেকেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এবং কেউ এটিকে কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে ইঙ্গিতও দেননি। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে ইন্ডিয়া টুডে।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া টুডে এর আগেও সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে অপতথ্য প্রচার করেছে। ঢাকায় একজন মুসলিম ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনাকেও “হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে প্রচার করেছে, যা নিয়ে বাংলাফ্যাক্ট ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করে। ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার করেছিল ইন্ডিয়া টুডে।Topics:
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে
আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা
কালের কণ্ঠের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উদ্বেগ’
যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২%
অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে তথ্য সচিবকে জুলাইবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার
অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
ইন্টারনেটে এআই কন্টেন্ট: নিশানায় সরকার,
রাজনৈতিক দল ও বাহিনী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উত্তেজনা নিরসনে আগ্রহ দেখিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত, সতর্ক করেননি
বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পাসপোর্ট সূচকের খবর
বিশ্লেষণ
মৃত্যুর কারণ এখনো উদ্ঘাটন হয়নি, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার
৬ মে ২০২৬
গতকাল কক্সবাজার সদর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মন্দিরের এক সেবায়েতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বা মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম ও এক্সের কিছু হ্যান্ডেল।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন সেবায়েত নয়ন দাশ (৩৫)। খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে না পেয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে গতকাল দুপুরে স্থানীয় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল মন্দিরের পূর্ব পাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে নয়ন দাশের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই ঘটনাটিকে “নির্বাচনের পর প্রথম হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করেছে। একই ধরণের প্রতিবেদন করে দেশটির আরেকটি গণমাধ্যম নিউজ নাইন। সামাজিক মাধ্যম এক্সের ভারত থেকে পরিচালিত কিছু হ্যান্ডেলেও এটিকে মন্দির থেকে অপহরণ ও সাম্প্রদায়িক হত্যা হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বাংলাফ্যাক্টকে জানান, নয়ন দাস নিহত হওয়ার পর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছিল, নয়ন দাসকে কেউ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তারপর আর তিনি ফেরেননি। কিন্তু কে বা কারা ডেকে নেয়, তা পরিবার জানাতে পারেনি। পরে পুলিশ আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে, পরিবার জানায়, নয়ন দাস নিজেও বের হয়ে থাকতে পারেন। অর্থাৎ, পরিবারই এখনো নিশ্চিত নয় নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল।
হিমেল রায় আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, বা কাউকে সন্দেহের কথা জানানো হয়নি। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও “পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা”র কথা বললেও, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন।
অর্থাৎ, পরিবার, পুলিশ, স্থানীয় সনাতনী সংগঠন, কারও পক্ষ থেকেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এবং কেউ এটিকে কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে ইঙ্গিতও দেননি। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে ইন্ডিয়া টুডে।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া টুডে এর আগেও সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে অপতথ্য প্রচার করেছে। ঢাকায় একজন মুসলিম ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনাকেও “হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে প্রচার করেছে, যা নিয়ে বাংলাফ্যাক্ট ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করে। ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার করেছিল ইন্ডিয়া টুডে।