| বিশ্লেষণ
নারী ও শিশুদের যৌন নিপীড়নের সংবাদ পরিবেশনে উপেক্ষিত হচ্ছে আইনি নির্দেশ
২৪ মে ২০২৬
ঢাকার পল্লবীতে যৌন সহিংসতার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটিকে নিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম তার ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করেছে। এর ফলে প্রশ্ন ওঠে: এই ধরনের সংবাদ পরিবেশনে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা কতটুকু মানা হচ্ছে?
আইন কী বলে?
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১৪(১) ধারায় সরাসরি বলা আছে — ''এই আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হইয়াছেন এইরূপ নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তৎসম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা, ছবি বা অন্যবিধ তথ্য কোনো সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে বা অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাইবে না যাহাতে উক্ত নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায়।'' শাস্তির বিধানও সুনির্দিষ্ট: ''অনধিক দুই বৎসর কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।''
মৃত ভিকটিমের ক্ষেত্রে আইনের প্রযোজ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ২০২১ সালের ৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চ এক রিটের আদেশে স্পষ্ট করেনঃ ''ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার কোনো নারী বা শিশু, সে জীবিত বা মৃত হোক, কোনো অবস্থায়ই তার ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না।'' ২০২৫ সালের মার্চে মাগুরার ধর্ষণ মামলায় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী স্বপ্রণোদিত হয়ে সামাজিক মাধ্যম থেকে শিশুর ছবি তাৎক্ষণিক সরানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে এই আইনের লঙ্ঘন বারবার ঘটছে এবং আদালতকেই সংশোধনী ভূমিকায় নামতে হচ্ছে।
পিআইবি নির্দেশিকা
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রকাশিত ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক ম্যানুয়ালের অধ্যায় ৫.৩-এ ‘ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা’ শীর্ষক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিশুর ছবি গ্রহণ ও প্রকাশে শিশু এবং তার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ছবি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার হবে তা অবশ্যই আগে জানাতে হবে। ম্যানুয়ালটিতে UNESCO-এর Gender-Sensitive Indicators for Media-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ধারাগুলো সংবাদমাধ্যমের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পিআইবির এই নির্দেশিকা সংবাদকর্মীদের জন্য একটি পেশাদারি মানদণ্ড নির্ধারণ করে, যেখানে শিশু ভিকটিমের মর্যাদা সংরক্ষণকে সাংবাদিকতার মূলনীতি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে।
ইউনিসেফ নির্দেশিকা
ইউনিসেফ ও গায়া ভিজ্যুয়ালের যৌথ প্রকাশনা Photographing and Filming Children Ethically শিরোনামের নির্দেশিকায় দশটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ডকুমেন্টটিতে বলা হয়েছে, ''Always change the name and obscure the visual identity of any child who is identified as a victim of sexual abuse or exploitation.'' অর্থাৎ, ভিকটিম শিশুর প্রকৃত নাম ও ছবি প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না। ভিকটিম জীবিত বা মৃত, পরিচয় গোপন রাখার দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমের।
ইউনিসেফের নির্দেশিকা আরও স্মরণ করিয়ে দেয় Dignity-র প্রশ্নটি: ''How can you uphold the dignity of the child and those around them?'' পল্লবীর শিশুর ক্ষেত্রে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম ছবি প্রকাশ করে ফেলেছিল।
ইউনিসেফ প্রকাশিত Media Coverage of Children in an Age-Appropriate and Sensitive Manner শীর্ষক নির্দেশিকার শুরুতেই মূলনীতিটি স্পষ্ট করা হয়েছে — ''The guidelines are meant to support the best intentions of ethical reporters: serving the public interest without compromising the rights of children.'' অর্থাৎ জনস্বার্থ ও শিশু অধিকার পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম উভয়ই একসঙ্গে রক্ষা করতে পারে।
নির্দেশিকাটিতে সাতটি সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। প্রথমত, শিশুর কোনো ক্ষতি না করা — ''Do no harm to any child; avoid questions, attitudes or comments that are judgmental, insensitive to cultural values, that place a child in danger or expose a child to humiliation, or that reactivate a child's pain and grief from traumatic events.'' এই বিধানটি কেবল শারীরিক ক্ষতি নয়, মানসিক আঘাত পুনরুজ্জীবিত করার বিরুদ্ধেও সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়।
নির্দেশিকার সপ্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানটি হলো পরিচয় গোপনের বাধ্যবাধকতা। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিম্নলিখিত পরিচয়ে চিহ্নিত যেকোনো শিশুর নাম পরিবর্তন করতে হবে এবং দৃশ্যমান পরিচয় ঢেকে দিতে হবে — যৌন নির্যাতন বা শোষণের শিকার; শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের অপরাধী; এইচআইভি পজিটিভ বা এইডস আক্রান্ত (সুস্পষ্ট সম্মতি ছাড়া); অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত; এবং অস্ত্রধারী শিশু বা সাবেক শিশুসৈনিক। লক্ষণীয় যে এই তালিকায় ''victim of sexual abuse'' বিভাগটি কোনো শর্ত ছাড়াই প্রযোজ্য — ভিকটিম জীবিত বা মৃত, সম্মতির প্রশ্ন এখানে অপ্রাসঙ্গিক।
রাষ্ট্রীয় আইন, পিআইবির পেশাদারি নির্দেশিকা এবং ইউনিসেফের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড — তিনটি কাঠামোই একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে যৌন সহিংসতার শিকার শিশুর পরিচয় প্রকাশ অগ্রহণযোগ্য। আইন ও নীতিমালা উভয় দিক থেকেই শিশুটির ছবি প্রকাশ ছিল আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। "ন্যায়বিচারের জন্য" ছবি প্রকাশের যুক্তি আবেগনির্ভর, আইনসম্মত নয়।
Topics:
'ক্রাইসিসের কারিগর’
হাসিনাকে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞ বলে মন্তব্য আনিস আলমগীরের
গণমাধ্যমে সাকিব ও মাশরাফির ‘ইমেজ ক্লিন’ করার চেষ্টা
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির জয়ে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বয়ানের প্রভাব
সীমান্তের কাল্পনিক চিত্র আর ভুল তথ্য দিয়ে বানানো গেরুয়া-সবুজ ম্যাপ
সীমান্তের কোনোদিকেই কোনও দল একচেটিয়া আসন পায়নি
আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
'মানহানি'র নিশানায় নারী রাজনীতিক : নির্বাচনী প্রচারণাতেও রেহাই নাই
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২১শে ফেব্রুয়ারিসহ ৯টি দিবসে ছুটি না রাখার সংবাদ সঠিক নয়
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁকে অপসারণ করা হয়নি
অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে তথ্য সচিবকে জুলাইবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার
বিশ্লেষণ
নারী ও শিশুদের যৌন নিপীড়নের সংবাদ পরিবেশনে উপেক্ষিত হচ্ছে আইনি নির্দেশ
২৪ মে ২০২৬
ঢাকার পল্লবীতে যৌন সহিংসতার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটিকে নিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম তার ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করেছে। এর ফলে প্রশ্ন ওঠে: এই ধরনের সংবাদ পরিবেশনে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা কতটুকু মানা হচ্ছে?
আইন কী বলে?
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১৪(১) ধারায় সরাসরি বলা আছে — ''এই আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হইয়াছেন এইরূপ নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তৎসম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা, ছবি বা অন্যবিধ তথ্য কোনো সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে বা অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাইবে না যাহাতে উক্ত নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায়।'' শাস্তির বিধানও সুনির্দিষ্ট: ''অনধিক দুই বৎসর কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।''
মৃত ভিকটিমের ক্ষেত্রে আইনের প্রযোজ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ২০২১ সালের ৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চ এক রিটের আদেশে স্পষ্ট করেনঃ ''ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার কোনো নারী বা শিশু, সে জীবিত বা মৃত হোক, কোনো অবস্থায়ই তার ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না।'' ২০২৫ সালের মার্চে মাগুরার ধর্ষণ মামলায় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী স্বপ্রণোদিত হয়ে সামাজিক মাধ্যম থেকে শিশুর ছবি তাৎক্ষণিক সরানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে এই আইনের লঙ্ঘন বারবার ঘটছে এবং আদালতকেই সংশোধনী ভূমিকায় নামতে হচ্ছে।
পিআইবি নির্দেশিকা
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রকাশিত ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক ম্যানুয়ালের অধ্যায় ৫.৩-এ ‘ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা’ শীর্ষক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিশুর ছবি গ্রহণ ও প্রকাশে শিশু এবং তার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ছবি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার হবে তা অবশ্যই আগে জানাতে হবে। ম্যানুয়ালটিতে UNESCO-এর Gender-Sensitive Indicators for Media-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ধারাগুলো সংবাদমাধ্যমের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পিআইবির এই নির্দেশিকা সংবাদকর্মীদের জন্য একটি পেশাদারি মানদণ্ড নির্ধারণ করে, যেখানে শিশু ভিকটিমের মর্যাদা সংরক্ষণকে সাংবাদিকতার মূলনীতি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে।
ইউনিসেফ নির্দেশিকা
ইউনিসেফ ও গায়া ভিজ্যুয়ালের যৌথ প্রকাশনা Photographing and Filming Children Ethically শিরোনামের নির্দেশিকায় দশটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ডকুমেন্টটিতে বলা হয়েছে, ''Always change the name and obscure the visual identity of any child who is identified as a victim of sexual abuse or exploitation.'' অর্থাৎ, ভিকটিম শিশুর প্রকৃত নাম ও ছবি প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না। ভিকটিম জীবিত বা মৃত, পরিচয় গোপন রাখার দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমের।
ইউনিসেফের নির্দেশিকা আরও স্মরণ করিয়ে দেয় Dignity-র প্রশ্নটি: ''How can you uphold the dignity of the child and those around them?'' পল্লবীর শিশুর ক্ষেত্রে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম ছবি প্রকাশ করে ফেলেছিল।
ইউনিসেফ প্রকাশিত Media Coverage of Children in an Age-Appropriate and Sensitive Manner শীর্ষক নির্দেশিকার শুরুতেই মূলনীতিটি স্পষ্ট করা হয়েছে — ''The guidelines are meant to support the best intentions of ethical reporters: serving the public interest without compromising the rights of children.'' অর্থাৎ জনস্বার্থ ও শিশু অধিকার পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম উভয়ই একসঙ্গে রক্ষা করতে পারে।
নির্দেশিকাটিতে সাতটি সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। প্রথমত, শিশুর কোনো ক্ষতি না করা — ''Do no harm to any child; avoid questions, attitudes or comments that are judgmental, insensitive to cultural values, that place a child in danger or expose a child to humiliation, or that reactivate a child's pain and grief from traumatic events.'' এই বিধানটি কেবল শারীরিক ক্ষতি নয়, মানসিক আঘাত পুনরুজ্জীবিত করার বিরুদ্ধেও সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়।
নির্দেশিকার সপ্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানটি হলো পরিচয় গোপনের বাধ্যবাধকতা। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিম্নলিখিত পরিচয়ে চিহ্নিত যেকোনো শিশুর নাম পরিবর্তন করতে হবে এবং দৃশ্যমান পরিচয় ঢেকে দিতে হবে — যৌন নির্যাতন বা শোষণের শিকার; শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের অপরাধী; এইচআইভি পজিটিভ বা এইডস আক্রান্ত (সুস্পষ্ট সম্মতি ছাড়া); অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত; এবং অস্ত্রধারী শিশু বা সাবেক শিশুসৈনিক। লক্ষণীয় যে এই তালিকায় ''victim of sexual abuse'' বিভাগটি কোনো শর্ত ছাড়াই প্রযোজ্য — ভিকটিম জীবিত বা মৃত, সম্মতির প্রশ্ন এখানে অপ্রাসঙ্গিক।
রাষ্ট্রীয় আইন, পিআইবির পেশাদারি নির্দেশিকা এবং ইউনিসেফের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড — তিনটি কাঠামোই একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে যৌন সহিংসতার শিকার শিশুর পরিচয় প্রকাশ অগ্রহণযোগ্য। আইন ও নীতিমালা উভয় দিক থেকেই শিশুটির ছবি প্রকাশ ছিল আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। "ন্যায়বিচারের জন্য" ছবি প্রকাশের যুক্তি আবেগনির্ভর, আইনসম্মত নয়।