| এক্সপ্লেইনার | এক্সপ্লেইন
যুক্তরাষ্ট্রেও ২০০১ সাল থেকে রয়েছে বাংলাদেশ ‘ককাস’:
ককাস নিয়ে যা যা জানা দরকার
৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয় সংসদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১ জুলাই 'ককাস অব আমেরিকা ইন দ্য ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ' নামে একটি সংসদীয় ককাস গঠিত হয়েছে। এবং এর উদ্যোগে সংসদ প্লাজায় একটি অনুষ্ঠান হয়েছে যা অনেকের মধ্যে প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ককাস বিষয়টি তাই ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ককাস বিভিন্ন রকমের হয়। সাধারণত সংসদে কোনো ইস্যু বা দেশভিত্তিক গ্রুপ হিসেবে সংসদীয় ককাস গঠিত হয়। একটি সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা একসঙ্গে মিলে নির্দিষ্ট কোনো ইস্যু, দেশ বা সম্প্রদায়ের স্বার্থ নিয়ে কাজ করেন। ককাসের কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। এটি মূলত পরামর্শ দেয়া, সচেতনতা তৈরি এবং সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে।
খেয়াল করার বিষয় হলো, ককাস যেমন দেশভিত্তিক হতে পারে, তেমনি ইস্যুভিত্তিকও হতে পারে। ইস্যুভিত্তিক ককাস বাংলাদেশে আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সরকারের সময়েই, গত মে মাসে সংসদে পিছিয়ে রাখা মানুষের পক্ষে সর্বদলীয় ককাস গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে এরকম যক্ষা বিষয়ক, ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠিত হয়েছিল। ২০২২ সালে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য ককাস গঠিত হয়েছিল।
'ককাস অব আমেরিকা ইন দ্য ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ' এরকমই একটি ককাস। এতে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. ওসমান ফারুককে চেয়ারম্যান এবং ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমানকে কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। অন্যান্য আট জন সদস্যের মধ্যে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয় তরফের সংসদ সদস্যরাই রয়েছেন। এই ককাস গঠনের পর অনলাইনে ককাস কী, কীভাবে কাজ করে, এটি সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি কিনা, যুক্তরাষ্ট্রের আর কোথাও ককাস আছে কিনা, ইত্যাদি নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি ছড়াতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন দেশে ককাস ও অন্যান্য সংসদীয় গ্রুপ
কেউ কেউ বলছেন, ককাস গঠনের ফলে সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে পড়বে, বা ককাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাজ করবে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিভাষায় অন্য দেশের সংসদে এমন ‘ককাস’ তৈরির ধারণাটি অত্যন্ত বিরল। কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের সংসদে সাধারণত ‘ককাস’ বানাতে দেয় না।”
অথচ খোদ মার্কিন কংগ্রেসেই ২০০১ সালে বাংলাদেশ ককাস গঠিত হয়েছিল। ২০২২ সালে, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই ককাস পুনরজ্জীবিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সিঙ্গাপুর, ভারত, পাকিস্তান, লেবানন, ইত্যাদি নানান দেশের কংগ্রেশনাল ককাস রয়েছে।
তাছাড়া, ‘ককাস’ নামে না থাকলেও, বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কাজ করার জন্য, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট বা সিনেটে আছে 'অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন বাংলাদেশ', যার লক্ষ্য বিপুল সংখ্যক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষা ও বাংলাদেশ সম্পর্কে বৃহত্তর বোঝাপড়া তৈরি করা। একইভাবে জাপানে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ সক্রিয়। মেক্সিকোর পার্লামেন্টে ২০২৩ সালে মেক্সিকো-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ককাস শব্দটির ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বেশি দেখা যায়। তবে বিভিন্ন দেশের সংসদে ককাস ও ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপগুলো মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নেই কাজ করে।
উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ার সংসদে "U.S./Australia Parliamentary Friendship Group" নামে একটি গ্রুপ রয়েছে, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এই কাজের জন্য রয়েছে "Friends of Australia Congressional Caucus"। জাপানের ডায়েটে রয়েছে "Japan-U.S. Parliamentary Friendship League", বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এই কাজের জন্য রয়েছে "U.S. Japan Congressional Caucus”। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে রয়েছে "America-Korea Parliamentarians' Union", বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এই কাজের জন্য রয়েছে "Congressional Study Group on Korea"।
একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সাল থেকে Congressional Bangladesh Caucus রয়েছে, বিপরীতে বাংলাদেশ এই মাসে বাংলাদেশে আমেরিকান ককাস গঠিত হলো।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ে কাজ করতে দেশভিত্তিক সংসদীয় গ্রুপ থাকে। বাংলাদেশের "ককাস অব আমেরিকা"ও তেমনই একটা উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ককাস গঠিত হওয়ার ২৫ বছর পর বাংলাদেশে এই ককাস গঠিত হয়েছে।
Topics:
গত এক বছরে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে পুশ-ইন:
বিএনপি সরকারের আমলেই বাড়ে পুশ-ইন চেষ্টা!
বর্ণবাদী বুলডোজার ইসরাইল থেকে ই ছড়ায় ভারতে এবং বাংলাদেশেও
কৃষক কার্ড পাওয়া কবীর হোসেন আপাদমস্তক কৃষক; ছড়ানো ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি
১/১১ এর পরিকল্পনা: গবেষণা প্রতিবেদনের সাক্ষ্য
জেনারেল মাসুদ শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ হেলালসহ
গুলশানে গোপন বৈঠক করেছিলেন
মামলা হয়নি, অথচ সাওদা সুমির মামলা প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের মহিলা বিভাগের
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
এক্সপ্লেইনার
যুক্তরাষ্ট্রেও ২০০১ সাল থেকে রয়েছে বাংলাদেশ ‘ককাস’:
ককাস নিয়ে যা যা জানা দরকার
৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয় সংসদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১ জুলাই 'ককাস অব আমেরিকা ইন দ্য ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ' নামে একটি সংসদীয় ককাস গঠিত হয়েছে। এবং এর উদ্যোগে সংসদ প্লাজায় একটি অনুষ্ঠান হয়েছে যা অনেকের মধ্যে প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ককাস বিষয়টি তাই ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ককাস বিভিন্ন রকমের হয়। সাধারণত সংসদে কোনো ইস্যু বা দেশভিত্তিক গ্রুপ হিসেবে সংসদীয় ককাস গঠিত হয়। একটি সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা একসঙ্গে মিলে নির্দিষ্ট কোনো ইস্যু, দেশ বা সম্প্রদায়ের স্বার্থ নিয়ে কাজ করেন। ককাসের কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। এটি মূলত পরামর্শ দেয়া, সচেতনতা তৈরি এবং সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে।
খেয়াল করার বিষয় হলো, ককাস যেমন দেশভিত্তিক হতে পারে, তেমনি ইস্যুভিত্তিকও হতে পারে। ইস্যুভিত্তিক ককাস বাংলাদেশে আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সরকারের সময়েই, গত মে মাসে সংসদে পিছিয়ে রাখা মানুষের পক্ষে সর্বদলীয় ককাস গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে এরকম যক্ষা বিষয়ক, ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠিত হয়েছিল। ২০২২ সালে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য ককাস গঠিত হয়েছিল।
'ককাস অব আমেরিকা ইন দ্য ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ' এরকমই একটি ককাস। এতে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. ওসমান ফারুককে চেয়ারম্যান এবং ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমানকে কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। অন্যান্য আট জন সদস্যের মধ্যে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয় তরফের সংসদ সদস্যরাই রয়েছেন। এই ককাস গঠনের পর অনলাইনে ককাস কী, কীভাবে কাজ করে, এটি সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি কিনা, যুক্তরাষ্ট্রের আর কোথাও ককাস আছে কিনা, ইত্যাদি নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি ছড়াতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন দেশে ককাস ও অন্যান্য সংসদীয় গ্রুপ
কেউ কেউ বলছেন, ককাস গঠনের ফলে সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে পড়বে, বা ককাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাজ করবে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিভাষায় অন্য দেশের সংসদে এমন ‘ককাস’ তৈরির ধারণাটি অত্যন্ত বিরল। কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের সংসদে সাধারণত ‘ককাস’ বানাতে দেয় না।”
অথচ খোদ মার্কিন কংগ্রেসেই ২০০১ সালে বাংলাদেশ ককাস গঠিত হয়েছিল। ২০২২ সালে, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই ককাস পুনরজ্জীবিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সিঙ্গাপুর, ভারত, পাকিস্তান, লেবানন, ইত্যাদি নানান দেশের কংগ্রেশনাল ককাস রয়েছে।
তাছাড়া, ‘ককাস’ নামে না থাকলেও, বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কাজ করার জন্য, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট বা সিনেটে আছে 'অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন বাংলাদেশ', যার লক্ষ্য বিপুল সংখ্যক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষা ও বাংলাদেশ সম্পর্কে বৃহত্তর বোঝাপড়া তৈরি করা। একইভাবে জাপানে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ সক্রিয়। মেক্সিকোর পার্লামেন্টে ২০২৩ সালে মেক্সিকো-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ককাস শব্দটির ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বেশি দেখা যায়। তবে বিভিন্ন দেশের সংসদে ককাস ও ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপগুলো মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নেই কাজ করে।
উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ার সংসদে "U.S./Australia Parliamentary Friendship Group" নামে একটি গ্রুপ রয়েছে, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এই কাজের জন্য রয়েছে "Friends of Australia Congressional Caucus"। জাপানের ডায়েটে রয়েছে "Japan-U.S. Parliamentary Friendship League", বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এই কাজের জন্য রয়েছে "U.S. Japan Congressional Caucus”। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে রয়েছে "America-Korea Parliamentarians' Union", বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এই কাজের জন্য রয়েছে "Congressional Study Group on Korea"।
একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সাল থেকে Congressional Bangladesh Caucus রয়েছে, বিপরীতে বাংলাদেশ এই মাসে বাংলাদেশে আমেরিকান ককাস গঠিত হলো।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ে কাজ করতে দেশভিত্তিক সংসদীয় গ্রুপ থাকে। বাংলাদেশের "ককাস অব আমেরিকা"ও তেমনই একটা উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ককাস গঠিত হওয়ার ২৫ বছর পর বাংলাদেশে এই ককাস গঠিত হয়েছে।