| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতা দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি মিয়ানমারের
২১ আগস্ট ২০২৫
পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিরা কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঘন ঘাসের ওপর পাঁচ ব্যক্তি শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে অপর দুই সশস্ত্র ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুইজনকে গলা কেটে হত্যার ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৩ সালে মিয়ানমারের শান রাজ্যের সক্রিয় জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী শান্নি ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) সন্দেহভাজন সদস্যরা দেশটির বেসামরিক লোককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে মিয়ানমারের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান The 74 Media-এর ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের শান রাজ্যের সক্রিয় জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী শান্নি রেড ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) সন্দেহভাজন সদস্যরা পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
এসব তথ্যসূত্রে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে The 74 Media-র ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে শান্নি ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) পোশাকধারী এক ব্যক্তি ও দুইজন সাধারণ পোশাকের লোক মিলে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। যে ফোন দিয়ে এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল, সেটি মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের সেজিন গ্রামে থেকে জব্দ করা হয়েছিল।
গণমাধ্যমটি তখন নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহতরা হলেন—উ ফো সি (৬৭), কো কাওং মিয়াত থু রেইন (২০), কো জাও মিয়ো থে (২৩), উ ফো ইয়াও (৪২) এবং উ চিত সান মাউং (৩৮)। সেই আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা একজন জানিয়েছেন, নিহতরা কেউই কেআইএ কিংবা পিডিএফ সদস্য নন। তারা সবাই হপাকান্তের সোনার খনির শ্রমিক ছিলেন।
তাছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিরা কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যার দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, মিয়ানমারে ২০২৩ সালের সহিংসতার ভিডিও সম্প্রতি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিদের সহিংসতার দৃশ্য দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে; যা মিথ্যা।
Topics:
পিআইবি’র কোনো আলোচনায় অধ্যাপক মুশতাক খান জরিপ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি, সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন শুভ্রর দাবিটি সর্বৈব মিথ্যা
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশুকে ‘নিহত’ বলে গণমাধ্যমে উল্লেখ
মাহদীকে ছাড়াতে যাওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনী সমন্বয়কদের মারধর করেনি, ভিডিওটি পুরোনো
হিজাব না পরার জন্য নয়, ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে বাধে সংঘর্ষ
খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার দাবি সঠিক নয়
রাজশাহীতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার দাবিও ভুয়া
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
ফ্যাক্ট চেক
পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতা দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি মিয়ানমারের
২১ আগস্ট ২০২৫
পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিরা কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঘন ঘাসের ওপর পাঁচ ব্যক্তি শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে অপর দুই সশস্ত্র ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুইজনকে গলা কেটে হত্যার ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৩ সালে মিয়ানমারের শান রাজ্যের সক্রিয় জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী শান্নি ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) সন্দেহভাজন সদস্যরা দেশটির বেসামরিক লোককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে মিয়ানমারের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান The 74 Media-এর ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের শান রাজ্যের সক্রিয় জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী শান্নি রেড ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) সন্দেহভাজন সদস্যরা পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
এসব তথ্যসূত্রে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে The 74 Media-র ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে শান্নি ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) পোশাকধারী এক ব্যক্তি ও দুইজন সাধারণ পোশাকের লোক মিলে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। যে ফোন দিয়ে এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল, সেটি মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের সেজিন গ্রামে থেকে জব্দ করা হয়েছিল।
গণমাধ্যমটি তখন নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহতরা হলেন—উ ফো সি (৬৭), কো কাওং মিয়াত থু রেইন (২০), কো জাও মিয়ো থে (২৩), উ ফো ইয়াও (৪২) এবং উ চিত সান মাউং (৩৮)। সেই আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা একজন জানিয়েছেন, নিহতরা কেউই কেআইএ কিংবা পিডিএফ সদস্য নন। তারা সবাই হপাকান্তের সোনার খনির শ্রমিক ছিলেন।
তাছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিরা কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যার দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, মিয়ানমারে ২০২৩ সালের সহিংসতার ভিডিও সম্প্রতি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিদের সহিংসতার দৃশ্য দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে; যা মিথ্যা।