| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
২০০ টাকায় এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র? প্রতারকদের ফাঁদ; ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
৫ মে ২০২৬
আজ (৫ মে) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গত ৩ মে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ছড়ানো ওই দাবিতে দাবি করা হয়, মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়েই মিলছে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের প্রশ্নপত্র।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ২০০ টাকায় এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মিলছে দাবিটি মিথ্যা। এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি। এই ভুয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এসএসসির প্রচলিত প্রশ্নপত্রের কোনো মিল নেই। মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে আর্থিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যেই প্রতারক চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে প্রচারিত প্রশ্নপত্রের ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ করা যায়। সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নপত্রের শুরুতেই পরীক্ষার্থীদের জন্য ‘দ্রষ্টব্য’ হিসেবে প্রয়োজনীয় সাধারণ নির্দেশাবলি থাকে। তবে আলোচিত প্রশ্নপত্রটির নির্দেশনার সাথে প্রচলিত প্রশ্নপত্রের কোনো মিল নেই।
প্রশ্নপত্রটি সরাসরি “২. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে…” দিয়ে শুরু হলেও সেখানে ১ নং অনুচ্ছেদ বা ১ নং প্রশ্নের কোনো অস্তিত্ব নেই।
২ নম্বর প্রশ্নের নির্দেশনায় লেখা আছে “১ ও ২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও”, কিন্তু তার নিচে (ক), (খ), (গ), (ঘ) আকারে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ৩ নম্বর অনুচ্ছেদেও একই ভুল লক্ষ করা যাচ্ছে।
এসএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এ ধরনের অসংগতি থাকা অস্বাভাবিক। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটিতে থাকা পাশাপাশি একই প্রশ্নপত্রের ক্রমিক সংখ্যায় ভিন্নতা দেখা যায়।
সাধারণত কোনো ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করলে এ ধরনের অসংগতি দেখা যায়। এআই প্রায়ই তথ্যের ধারাবাহিকতা বা ক্রমিক সংখ্যা বজায় রাখতে ভুল করে।
তাছাড়া, এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এমন কোনো তথ্য মূল ধারার গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের প্রশ্নপত্র মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়েই মিলছে দাবিতে আর্থিক প্রতারণার উদ্দেশ্যে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়ানো হয়েছে।
Topics:
Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
২০২৫ সালের ময়মনসিংহ বোর্ডের প্রশ্নপত্র এআই দিয়ে এডিট করে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়া দাবি
দাখিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রকে এআই দিয়ে সম্পাদনা করে এসএসসির গণিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়া দাবি
২০২৫ সালের ঢাকা বোর্ডের প্রশ্ন এআই দিয়ে এডিট করে আইসিটি প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া দাবি সামাজিক মাধ্যমে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিল্পকলা একাডেমিতে অন্তত ২২৪টি অনুষ্ঠান হয়েছে, বাধার সৃষ্টি হয়েছে ১টিতে
সালেহ শিবলী সাম্প্রতিক সময়ে বিল গেটস’র বাংলাদেশ সফরের কথা বলেননি, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলের কথা বলেছেন
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
ফ্যাক্ট চেক
২০০ টাকায় এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র? প্রতারকদের ফাঁদ; ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
৫ মে ২০২৬
আজ (৫ মে) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গত ৩ মে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ছড়ানো ওই দাবিতে দাবি করা হয়, মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়েই মিলছে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের প্রশ্নপত্র।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ২০০ টাকায় এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মিলছে দাবিটি মিথ্যা। এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি। এই ভুয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এসএসসির প্রচলিত প্রশ্নপত্রের কোনো মিল নেই। মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে আর্থিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যেই প্রতারক চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে প্রচারিত প্রশ্নপত্রের ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ করা যায়। সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নপত্রের শুরুতেই পরীক্ষার্থীদের জন্য ‘দ্রষ্টব্য’ হিসেবে প্রয়োজনীয় সাধারণ নির্দেশাবলি থাকে। তবে আলোচিত প্রশ্নপত্রটির নির্দেশনার সাথে প্রচলিত প্রশ্নপত্রের কোনো মিল নেই।
প্রশ্নপত্রটি সরাসরি “২. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে…” দিয়ে শুরু হলেও সেখানে ১ নং অনুচ্ছেদ বা ১ নং প্রশ্নের কোনো অস্তিত্ব নেই।
২ নম্বর প্রশ্নের নির্দেশনায় লেখা আছে “১ ও ২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও”, কিন্তু তার নিচে (ক), (খ), (গ), (ঘ) আকারে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ৩ নম্বর অনুচ্ছেদেও একই ভুল লক্ষ করা যাচ্ছে।
এসএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এ ধরনের অসংগতি থাকা অস্বাভাবিক। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটিতে থাকা পাশাপাশি একই প্রশ্নপত্রের ক্রমিক সংখ্যায় ভিন্নতা দেখা যায়।
সাধারণত কোনো ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করলে এ ধরনের অসংগতি দেখা যায়। এআই প্রায়ই তথ্যের ধারাবাহিকতা বা ক্রমিক সংখ্যা বজায় রাখতে ভুল করে।
তাছাড়া, এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এমন কোনো তথ্য মূল ধারার গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, এসএসসির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের প্রশ্নপত্র মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়েই মিলছে দাবিতে আর্থিক প্রতারণার উদ্দেশ্যে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়ানো হয়েছে।