| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
শ্রমিক আন্দোলনে ২০ জনের মৃত্যুর দাবিটি মিথ্যা, আওয়ামী লীগপন্থী পেজ থেকে ছড়ানো হচ্ছে ভুয়া তথ্য
৫ নভেম্বর ২০২৬
পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ৫ দিনে ২০ জন নিহত ও দুই হাজারের বেশি আহত, এবং পাঁচ শতাধিক গ্রেপ্তার হয়েছে— এমন দাবি করে একটি তথ্য ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে একটি আওয়ামীপন্থী ফেসবুক পেজ থেকে ৫ নভেম্বর ভোররাত ৩টা ৮ মিনিটে পোস্ট করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, বিশ জনের মৃত্যু ও দুই হাজারের বেশি আহতের দাবিটি মিথ্যা এবং পাঁচ শতাধিক গ্রেপ্তারের দাবিটিও অতিরঞ্জিত।
গণমাধ্যম সূত্রে অনুসন্ধানে পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ২০ জন নিহতের সত্যতা পাওয়া যায়নি। গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনে এক পোশাকশ্রমিক গুরুতর আহত হলে মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার এক হাসপাতালে মারা যান। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমটিকে জানান, একটি কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত কিছু লোক সেখানে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় বহিরাগতদের সঙ্গে কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এটি ছাড়া এই আন্দোলনে আর কোনো নিহতের ঘটনা ঘটনি।
আহতের যে সংখ্যা দেখানো হয়েছে, সেটিও ভিত্তিহীন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের নাওজোড় ও ভোগড়া এলাকায় সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দৈনিক সমকালে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে পুলিশ, সংবাদকর্মীসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। তিন শ্রমিক নেতাসহ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এই সংখ্যাগুলো মেলালে দেখা যায়, দুই হাজারের বেশি আহত হওয়ার দাবিটি প্রকৃত চিত্র থেকে অনেক বাড়িয়ে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তারিখ অনুযায়ী, ২ নভেম্বর পর্যন্ত মিরপুরে ৬০ জন ও গাজীপুরে ৩২জন, ৩ নভেম্বর ১৬ জন, ৪ নভেম্বর ১০ জন এবং ৫ নভেম্বর ২০ জনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ৩ নভেম্বর প্রকাশিত এক খবরে থেকে জানা যায়, ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তবে গ্রেপ্তাররা কেউই শ্রমিক নন বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। আন্দোলনের সময়কালে মোট কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে সে সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তবে ৫০০ জন গ্রেপ্তারের দাবিটির সত্যতা মেলেনি।
অর্থাৎ, পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ৫ দিনে বিশ জনের মৃত্যু ও দুই হাজারের বেশি আহতের দাবিটি মিথ্যা এবং পাচ শতাধিক গ্রেপ্তারের দাবিটিও অতিরঞ্জিত।
Topics:
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার নামে বানোয়াট মন্তব্য প্রচার
বিক্ষোভকারী কর্তৃক মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে পেটানোর দৃশ্য ছড়ানো হচ্ছে পোশাকশ্রমিককে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধরের দাবিতে
আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা দেখলে পিটিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কথা বলেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের দৃশ্য দাবি করে ভারতের দৃশ্য প্রচার
সীমান্তে আরাকান আর্মিকে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ার পুরোনো ভিডিও প্রচার করে বিজিবিকে নিয়ে অপপ্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ফ্যাক্ট চেক
শ্রমিক আন্দোলনে ২০ জনের মৃত্যুর দাবিটি মিথ্যা, আওয়ামী লীগপন্থী পেজ থেকে ছড়ানো হচ্ছে ভুয়া তথ্য
৫ নভেম্বর ২০২৬
পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ৫ দিনে ২০ জন নিহত ও দুই হাজারের বেশি আহত, এবং পাঁচ শতাধিক গ্রেপ্তার হয়েছে— এমন দাবি করে একটি তথ্য ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে একটি আওয়ামীপন্থী ফেসবুক পেজ থেকে ৫ নভেম্বর ভোররাত ৩টা ৮ মিনিটে পোস্ট করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, বিশ জনের মৃত্যু ও দুই হাজারের বেশি আহতের দাবিটি মিথ্যা এবং পাঁচ শতাধিক গ্রেপ্তারের দাবিটিও অতিরঞ্জিত।
গণমাধ্যম সূত্রে অনুসন্ধানে পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ২০ জন নিহতের সত্যতা পাওয়া যায়নি। গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনে এক পোশাকশ্রমিক গুরুতর আহত হলে মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার এক হাসপাতালে মারা যান। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমটিকে জানান, একটি কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত কিছু লোক সেখানে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় বহিরাগতদের সঙ্গে কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এটি ছাড়া এই আন্দোলনে আর কোনো নিহতের ঘটনা ঘটনি।
আহতের যে সংখ্যা দেখানো হয়েছে, সেটিও ভিত্তিহীন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের নাওজোড় ও ভোগড়া এলাকায় সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দৈনিক সমকালে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে পুলিশ, সংবাদকর্মীসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। তিন শ্রমিক নেতাসহ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এই সংখ্যাগুলো মেলালে দেখা যায়, দুই হাজারের বেশি আহত হওয়ার দাবিটি প্রকৃত চিত্র থেকে অনেক বাড়িয়ে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তারিখ অনুযায়ী, ২ নভেম্বর পর্যন্ত মিরপুরে ৬০ জন ও গাজীপুরে ৩২জন, ৩ নভেম্বর ১৬ জন, ৪ নভেম্বর ১০ জন এবং ৫ নভেম্বর ২০ জনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ৩ নভেম্বর প্রকাশিত এক খবরে থেকে জানা যায়, ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তবে গ্রেপ্তাররা কেউই শ্রমিক নন বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। আন্দোলনের সময়কালে মোট কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে সে সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তবে ৫০০ জন গ্রেপ্তারের দাবিটির সত্যতা মেলেনি।
অর্থাৎ, পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ৫ দিনে বিশ জনের মৃত্যু ও দুই হাজারের বেশি আহতের দাবিটি মিথ্যা এবং পাচ শতাধিক গ্রেপ্তারের দাবিটিও অতিরঞ্জিত।