| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়

মুসলিম ব্যবসায়ীর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ঘটনা, ছড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মিথ্যা দাবিতে


১৭ অক্টোবর ২০২৬



মুসলিম ব্যবসায়ীর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ঘটনা, ছড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মিথ্যা দাবিতে

“হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়ীতে আগুন ধরীয়ে দীয়েছে উগ্রবাদী মুসলীম,,,,কফিলউদ্দিন,,,, চাটগাহ,,,,বাংলাদেশ।” - এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।



বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দাবিটি মিথ্যা। চলতি বছরের ৩ আগস্ট রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ কয়েকটি ফার্নিচার কারখানা পুড়ে যায়। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য। 



ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ৩ আগস্ট ‘The Daily Rangamati’ নামে একটি ফেসবুক পেজে হুবহু ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “রাঙামাটির লংগদুতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: সেনাসদস্য, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় রক্ষা পেল এলাকা

আজ ভোরে লংগদুর মাইনীমুখ ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি বসতঘর ও তিনটি ফার্নিচার কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। লংগদু জোন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।”



ঘটনাটির বিষয়ে যমুনা টেলিভিশনের ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, ৩ আগস্ট রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া এলাকায় একটি ফার্নিচারের দোকান থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা দ্রুতই আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে।



বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) -এর ওয়েবসাইটে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ‘রাঙ্গামাটির লংগদুতে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ ৪টি কারখানা ভস্মীভূত’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেনটিতে বলা হয়, ৩ আগস্ট ভোরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে একটি কাঠমিস্ত্রির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও কয়েকটি স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়েলে একটি বসতঘর ও তিনটি ফার্নিচার কারখানা  ভস্মীভূত হয়।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ঘটনাটি নিয়ে সেই সময় দেওয়া ফেসবুক পোস্ট থেকেও একই তথ্য জানা যায়।



জাগো নিউজ২৪-এ ঘটনাটির বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, ফার্নিচার ব্যবসায়ী আলালের কারখানায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। তবে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের তরিকুল বাদশা ও রাসেলের ফার্নিচার কারখানা এবং বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে।


অর্থাৎ, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।





Topics:



ভোলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মন্দির ভাঙচুরের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০১৯ সালের লীগ আমলের
মিথ্যা
১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভোলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মন্দির ভাঙচুরের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০১৯ সালের লীগ আমলের

হাটহাজারীতে বৈদুতিক গোলযোগজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘বাংলাদেশে হিন্দু নিধন’ দাবি করে অপপ্রচার
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাটহাজারীতে বৈদুতিক গোলযোগজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘বাংলাদেশে হিন্দু নিধন’ দাবি করে অপপ্রচার

মুসলিম নারীর ওপর হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবি করে প্রচার
মিথ্যা
২৭ আগস্ট ২০২৬

মুসলিম নারীর ওপর হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবি করে প্রচার

হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
মিথ্যা
২৪ আগস্ট ২০২৬

হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা
মিথ্যা
১৯ আগস্ট ২০২৬

শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!




মুসলিম ব্যবসায়ীর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ঘটনা, ছড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মিথ্যা দাবিতে

ফ্যাক্ট চেক

মুসলিম ব্যবসায়ীর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ঘটনা, ছড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মিথ্যা দাবিতে


১৭ অক্টোবর ২০২৬

<p>
<p dir="ltr" style="line-height:1.38"><span style="font-size:11pt; font-family:Arial,sans-serif; color:#000000; background-color:transparent; font-variant:normal; text-decoration:none; vertical-align:baseline; white-space:pre; white-space:pre-wrap">মুসলিম ব্যবসায়ীর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ঘটনা, ছড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মিথ্যা দাবিতে</span></p>
<br /></p>

“হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়ীতে আগুন ধরীয়ে দীয়েছে উগ্রবাদী মুসলীম,,,,কফিলউদ্দিন,,,, চাটগাহ,,,,বাংলাদেশ।” - এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।



বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দাবিটি মিথ্যা। চলতি বছরের ৩ আগস্ট রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ কয়েকটি ফার্নিচার কারখানা পুড়ে যায়। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য। 



ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ৩ আগস্ট ‘The Daily Rangamati’ নামে একটি ফেসবুক পেজে হুবহু ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “রাঙামাটির লংগদুতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: সেনাসদস্য, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় রক্ষা পেল এলাকা

আজ ভোরে লংগদুর মাইনীমুখ ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি বসতঘর ও তিনটি ফার্নিচার কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। লংগদু জোন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।”



ঘটনাটির বিষয়ে যমুনা টেলিভিশনের ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, ৩ আগস্ট রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া এলাকায় একটি ফার্নিচারের দোকান থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা দ্রুতই আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে।



বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) -এর ওয়েবসাইটে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ‘রাঙ্গামাটির লংগদুতে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ ৪টি কারখানা ভস্মীভূত’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেনটিতে বলা হয়, ৩ আগস্ট ভোরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে একটি কাঠমিস্ত্রির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও কয়েকটি স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়েলে একটি বসতঘর ও তিনটি ফার্নিচার কারখানা  ভস্মীভূত হয়।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ঘটনাটি নিয়ে সেই সময় দেওয়া ফেসবুক পোস্ট থেকেও একই তথ্য জানা যায়।



জাগো নিউজ২৪-এ ঘটনাটির বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, ফার্নিচার ব্যবসায়ী আলালের কারখানায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। তবে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের তরিকুল বাদশা ও রাসেলের ফার্নিচার কারখানা এবং বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে।


অর্থাৎ, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।