| বিশ্লেষণ

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের “বিজয়ের কারিগর” আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ

৩১ মে ২০২৬


মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের “বিজয়ের কারিগর” আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারাবন্দী আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রীকে “বিজয়ের কারিগর” আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে বাংলা ট্রিবিউন ও বার্তা বাজার। দুটি সংবাদমাধ্যমই "কারাগারে দ্বিতীয় বিজয় দিবস কাটাবেন বিজয়ের কারিগররা" শিরোনাম দিয়েছে। অভিযুক্ত কারাবন্দীদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে সামনে এনে এমনভাবে ফ্রেমিং করেছে, যেন এই পরিচয়ের সাথে তাঁদের গ্রেফতারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে। অথচ তাঁদেরকে কারাগারে রাখা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে। 


বার্তা বাজার লিখেছে, “একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বীরত্বের স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ হত‍্যা মামলায় কারাগারে আছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি।” এখানে “স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও” শব্দগুচ্ছটি ব্যবহার করে বার্তা বাজার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা অতীতের ভূমিকা থাকার কারণে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা বা তাঁদের কারাবন্দী হওয়াটা অস্বাভাবিক। মুক্তিযোদ্ধারা অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাঁদের বিচারের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত, এসব ভাষ্য এমন দাবির উপর দাঁড়ানো।


বাংলা ট্রিবিউন সংবাদের এক পর্যায়ে লিখেছে, “সারা দেশে ২০২৪ সালের আগস্টের পর অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠককে গ্রেফতার করা হয়েছে।” অথচ এসব গ্রেফতারের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব গ্রেফতার হয়েছে।


উল্লেখ্য, অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে সামনে এনে সংবাদ পরিবেশনের নজির আগেও দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ৪ নভেম্বর যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে ধরে জুতার মালা পরিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সে সময় বিভিন্ন মিডিয়া ওই ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে “মুক্তিযোদ্ধা হেনস্তা” হিসেবে ফ্রেমিং করে। ওই ঘটনায় বাংলাফ্যাক্টের সংবাদ বিশ্লেষণ দেখুন এখানে।





Topics:



নারী ও শিশুদের যৌন নিপীড়নের সংবাদ পরিবেশনে উপেক্ষিত হচ্ছে আইনি নির্দেশ
২৪ মে ২০২৬

নারী ও শিশুদের যৌন নিপীড়নের সংবাদ পরিবেশনে উপেক্ষিত হচ্ছে আইনি নির্দেশ

'ক্রাইসিসের কারিগর’ 


হাসিনাকে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞ বলে মন্তব্য আনিস আলমগীরের
বিভ্রান্তিকর
২০ মে ২০২৬

'ক্রাইসিসের কারিগর’ 

হাসিনাকে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞ বলে মন্তব্য আনিস আলমগীরের

গণমাধ্যমে সাকিব ও মাশরাফির ‘ইমেজ ক্লিন’ করার চেষ্টা
১৭ মে ২০২৬

গণমাধ্যমে সাকিব ও মাশরাফির ‘ইমেজ ক্লিন’ করার চেষ্টা

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির জয়ে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বয়ানের প্রভাব
৭ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির জয়ে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বয়ানের প্রভাব

সীমান্তের কাল্পনিক চিত্র আর ভুল তথ্য দিয়ে বানানো গেরুয়া-সবুজ ম্যাপ 
সীমান্তের কোনোদিকেই কোনও দল একচেটিয়া আসন পায়নি
৬ মে ২০২৬

সীমান্তের কাল্পনিক চিত্র আর ভুল তথ্য দিয়ে বানানো গেরুয়া-সবুজ ম্যাপ 

সীমান্তের কোনোদিকেই কোনও দল একচেটিয়া আসন পায়নি

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের “বিজয়ের কারিগর” আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ

বিশ্লেষণ

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের “বিজয়ের কারিগর” আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ

৩১ মে ২০২৬

<p><span style="font-size: 24px;">মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের “বিজয়ের কারিগর” আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ</span>
<br /></p>

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারাবন্দী আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রীকে “বিজয়ের কারিগর” আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে বাংলা ট্রিবিউন ও বার্তা বাজার। দুটি সংবাদমাধ্যমই "কারাগারে দ্বিতীয় বিজয় দিবস কাটাবেন বিজয়ের কারিগররা" শিরোনাম দিয়েছে। অভিযুক্ত কারাবন্দীদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে সামনে এনে এমনভাবে ফ্রেমিং করেছে, যেন এই পরিচয়ের সাথে তাঁদের গ্রেফতারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে। অথচ তাঁদেরকে কারাগারে রাখা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে। 


বার্তা বাজার লিখেছে, “একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বীরত্বের স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ হত‍্যা মামলায় কারাগারে আছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি।” এখানে “স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও” শব্দগুচ্ছটি ব্যবহার করে বার্তা বাজার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা অতীতের ভূমিকা থাকার কারণে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা বা তাঁদের কারাবন্দী হওয়াটা অস্বাভাবিক। মুক্তিযোদ্ধারা অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাঁদের বিচারের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত, এসব ভাষ্য এমন দাবির উপর দাঁড়ানো।


বাংলা ট্রিবিউন সংবাদের এক পর্যায়ে লিখেছে, “সারা দেশে ২০২৪ সালের আগস্টের পর অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠককে গ্রেফতার করা হয়েছে।” অথচ এসব গ্রেফতারের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব গ্রেফতার হয়েছে।


উল্লেখ্য, অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে সামনে এনে সংবাদ পরিবেশনের নজির আগেও দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ৪ নভেম্বর যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে ধরে জুতার মালা পরিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সে সময় বিভিন্ন মিডিয়া ওই ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে “মুক্তিযোদ্ধা হেনস্তা” হিসেবে ফ্রেমিং করে। ওই ঘটনায় বাংলাফ্যাক্টের সংবাদ বিশ্লেষণ দেখুন এখানে।