| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়
ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে নিহতকে সাম্প্রদায়িক শিকার বলে প্রচার
৮ জুন ২০২৬
হিন্দু ধর্ম্বাবলম্বী হওয়ার কারণে জয়পুরহাটে শ্যামল চন্দ্র মালী নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে - এমন দাবি করে একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, জয়পুরহাটে শ্যামল চন্দ্র মালী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো কারণ নেই। বরঞ্চ, কথাকাটাকাটির জেরে এই ঘটনা ঘটে। একই গ্রামের হাসানকে ‘কামলা’ সম্বোধন করায় শ্যামলকে তিনি গাছের ডাক দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরবর্তীতে শ্যামলকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গতকাল রোববার (৭ জুন) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। তা থেকে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে ধান কাটার ‘কামলা’ সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামের এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত হাসান আলীকে (৩৫) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র মালী বাদী হয়ে সেদিন রাতেই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে রোববারঅর ওই মামলায় হাসান আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, শনিবার বিকেলে শ্যামল কাশিড়া হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে কাশিড়া সড়কে হাসান আলীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় শ্যামল গ্রামের হাসানকে ‘কামলা’ সম্বোধন করে তাঁর সঙ্গে গ্রামের একজনের জমির ধান কাটার কথা বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে শ্যামলকে গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিহত ব্যক্তির ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে হাসান আলীকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমটিকে জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দৈনিক দেশরূপান্তর, দৈনিক ইত্তেফাক, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরসহ একাধিক গণমাধ্যমেও একইন তথ্য জানা যায়। তবে, এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো কারণ উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, হিন্দু ধর্ম্বাবলম্বী হওয়ার কারণে জয়পুরহাটে শ্যামল চন্দ্র মালী নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে - এমন দাবি করে ছড়ানো তথ্যটি মিথ্যা।
Topics:
হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
নারায়ণগঞ্জে হিন্দু ব্যক্তির ওপর এসিড হামলা দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের
অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার
বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে
গফরগাঁওয়ে মসজিদে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
মাজার ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নাম জড়িয়ে ‘আমার দেশ’ এর লোগো সম্বলিত ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার
সাতক্ষীরায় বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কুষ্টিয়ায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে অগ্নিসংযোগের ছবিটি ২০২২ সালের
হত্যাকাণ্ডের শিকার মুসলিম ব্যবসায়ী সোহাগকে হিন্দু বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে নিহতকে সাম্প্রদায়িক শিকার বলে প্রচার
৮ জুন ২০২৬
হিন্দু ধর্ম্বাবলম্বী হওয়ার কারণে জয়পুরহাটে শ্যামল চন্দ্র মালী নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে - এমন দাবি করে একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, জয়পুরহাটে শ্যামল চন্দ্র মালী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো কারণ নেই। বরঞ্চ, কথাকাটাকাটির জেরে এই ঘটনা ঘটে। একই গ্রামের হাসানকে ‘কামলা’ সম্বোধন করায় শ্যামলকে তিনি গাছের ডাক দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরবর্তীতে শ্যামলকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গতকাল রোববার (৭ জুন) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। তা থেকে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে ধান কাটার ‘কামলা’ সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামের এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত হাসান আলীকে (৩৫) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র মালী বাদী হয়ে সেদিন রাতেই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে রোববারঅর ওই মামলায় হাসান আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, শনিবার বিকেলে শ্যামল কাশিড়া হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে কাশিড়া সড়কে হাসান আলীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় শ্যামল গ্রামের হাসানকে ‘কামলা’ সম্বোধন করে তাঁর সঙ্গে গ্রামের একজনের জমির ধান কাটার কথা বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে শ্যামলকে গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিহত ব্যক্তির ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে হাসান আলীকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমটিকে জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দৈনিক দেশরূপান্তর, দৈনিক ইত্তেফাক, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরসহ একাধিক গণমাধ্যমেও একইন তথ্য জানা যায়। তবে, এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো কারণ উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, হিন্দু ধর্ম্বাবলম্বী হওয়ার কারণে জয়পুরহাটে শ্যামল চন্দ্র মালী নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে - এমন দাবি করে ছড়ানো তথ্যটি মিথ্যা।