| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়

হিন্দু হওয়ার কারণে নয়, ছাগল বাঁধা নিয়ে বিবাদ, মৃত্যু

১০ জুন ২০২৬


হিন্দু হওয়ার কারণে নয়,
ছাগল বাঁধা নিয়ে বিবাদ, মৃত্যু
মিথ্যা

হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সুধীর চন্দ্র রায়কে ইসলামপন্থীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে - এমন দাবি করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, নীলফামারীর ডোমারে সুধীর রায়ের মৃত্যুর কারণ সাম্প্রদায়িক সংঘাত নয়। জমিতে ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর ঝগড়া ও মারামারি হয়। এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরদিন মারা যান সুধীর। এ ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত আখ্যা দিয়ে ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। 


এই বিষয়ে অনুসন্ধানে আজকের ডোমার নামে একটি ওয়েব পোর্টালের ফেসবুক পেজে গত ৮ জুন প্রকাশিত একই প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এর ক্যাপশন বলছে, ডোমারে ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে আহত ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। 


এই ঘটনায় দৈনিক করতোয়ায় গত ৮ জুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেটি থাকে থেকে জানা যায়, নীলফামারীর ডোমারের কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের ভূজারিপাড়া গ্রামে জমিতে ছাগল বাঁধার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরে আহত সুধীর চন্দ্র মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চিকিৎসার উদ্দ্যেশ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। 


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে গণমাধ্যমটি জানায়, গত ৩১ মে ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মশিউর রহমানদের সঙ্গে সুধীর চন্দ্র রায়ের পরিবারের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে মশিউর রহমানের ছেলে ফাহিম সুধীর চন্দ্র রায়কে এলোপাথারি মারপিট করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে সুধীর চন্দ্রের পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে গোমনাতি ডারার পার নামক স্থানে মশিউর রহমানের শ্বশুরবাড়ির সামনে সুধীর চন্দ্রকে বহনকারী গাড়িটির পথরোধ করে তাকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। পরে সেখান থেকে সুধীরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তার পরিবার। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনদিন চিকিৎসা নেয়ার পর বুকে ব্যাথা নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে সুধীর চন্দ্র। পরে গত শনিবার রাত ১টার দিকে বুকের ব্যাথা বেশি হলে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। 


এই বিষয়ে জানতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই। ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পর আহত সুধীর চন্দ্র চিকিৎসা নিয়ে বাসায় আসার একদিন পর মারা যান। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’ 

 

পরবর্তীতে এই বিষয়ে জানতে সুধীর চন্দ্রের পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বাংলাফ্যাক্ট। সুধীর চন্দ্রের আপন ভাইরা ভাই কর্ম চন্দ্র বলেন, ‘এটি ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের ঝগড়ার ঘটনা। এখানে ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’


অর্থাৎ, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সুধীর চন্দ্র রায়কে ইসলামপন্থীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে - এমন দাবি করে ছড়ানো তথ্যটি মিথ্যা।





Topics:

ভুয়া Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট

হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
৭ জুন ২০২৬

হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

নারায়ণগঞ্জে হিন্দু ব্যক্তির ওপর এসিড হামলা দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের
মিথ্যা
১৩ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে হিন্দু ব্যক্তির ওপর এসিড হামলা দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের

অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার
মিথ্যা
৩০ মার্চ ২০২৬

অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার

বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে
বিভ্রান্তিকর
২ মার্চ ২০২৬

বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে

গফরগাঁওয়ে মসজিদে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
বিভ্রান্তিকর
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গফরগাঁওয়ে মসজিদে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



হিন্দু হওয়ার কারণে নয়,
ছাগল বাঁধা নিয়ে বিবাদ, মৃত্যু

ফ্যাক্ট চেক

হিন্দু হওয়ার কারণে নয়, ছাগল বাঁধা নিয়ে বিবাদ, মৃত্যু

১০ জুন ২০২৬

<p>হিন্দু হওয়ার কারণে নয়,
ছাগল বাঁধা নিয়ে বিবাদ, মৃত্যু
<br /></p>

হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সুধীর চন্দ্র রায়কে ইসলামপন্থীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে - এমন দাবি করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, নীলফামারীর ডোমারে সুধীর রায়ের মৃত্যুর কারণ সাম্প্রদায়িক সংঘাত নয়। জমিতে ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর ঝগড়া ও মারামারি হয়। এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরদিন মারা যান সুধীর। এ ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত আখ্যা দিয়ে ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। 


এই বিষয়ে অনুসন্ধানে আজকের ডোমার নামে একটি ওয়েব পোর্টালের ফেসবুক পেজে গত ৮ জুন প্রকাশিত একই প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এর ক্যাপশন বলছে, ডোমারে ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে আহত ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। 


এই ঘটনায় দৈনিক করতোয়ায় গত ৮ জুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেটি থাকে থেকে জানা যায়, নীলফামারীর ডোমারের কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের ভূজারিপাড়া গ্রামে জমিতে ছাগল বাঁধার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরে আহত সুধীর চন্দ্র মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চিকিৎসার উদ্দ্যেশ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। 


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে গণমাধ্যমটি জানায়, গত ৩১ মে ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মশিউর রহমানদের সঙ্গে সুধীর চন্দ্র রায়ের পরিবারের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে মশিউর রহমানের ছেলে ফাহিম সুধীর চন্দ্র রায়কে এলোপাথারি মারপিট করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে সুধীর চন্দ্রের পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে গোমনাতি ডারার পার নামক স্থানে মশিউর রহমানের শ্বশুরবাড়ির সামনে সুধীর চন্দ্রকে বহনকারী গাড়িটির পথরোধ করে তাকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। পরে সেখান থেকে সুধীরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তার পরিবার। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনদিন চিকিৎসা নেয়ার পর বুকে ব্যাথা নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে সুধীর চন্দ্র। পরে গত শনিবার রাত ১টার দিকে বুকের ব্যাথা বেশি হলে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। 


এই বিষয়ে জানতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই। ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পর আহত সুধীর চন্দ্র চিকিৎসা নিয়ে বাসায় আসার একদিন পর মারা যান। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’ 

 

পরবর্তীতে এই বিষয়ে জানতে সুধীর চন্দ্রের পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বাংলাফ্যাক্ট। সুধীর চন্দ্রের আপন ভাইরা ভাই কর্ম চন্দ্র বলেন, ‘এটি ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের ঝগড়ার ঘটনা। এখানে ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’


অর্থাৎ, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সুধীর চন্দ্র রায়কে ইসলামপন্থীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে - এমন দাবি করে ছড়ানো তথ্যটি মিথ্যা।